আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা দায়রা জজ আদালতে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:০৮

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলা এখন বিচার শুরুর অপেক্ষায়। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত।  

আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আইন অনুযায়ী মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় এ মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির জন্য সিএমএম বরাবর নথি পাঠান বিচারক। এখন সিএমএম মামলাটি মহানগরে পাঠাবেন। মহানগর আদালতে মামলাটির পরবর্তী বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া এদিন পলাতক অসামিদের আদালতে হাজির হওয়া সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। সে অনুযাী প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

চকবাজার থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল রোববার আবরার হত্যার মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মোর্শেদ আমত্য ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।  

চাঞ্চল্যকর এ হত্যার মামলার ৪ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন আদালত।

গত ৩ ডিসেম্বর পলাতক আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত সময় নির্ধারণ করেন। ওই দিন আসামিরা পলাতক রয়েছে দেখিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এজন্য আদালত আসামিদের সম্পত্তি ক্রোক পরোয়ানা জারি করেছেন। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত কোনো মালামাল না থাকায় সম্পত্তি ক্রোক করা যায়নি।

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৮ নভেম্বর ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত।

মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান,  এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ পলাতক থাকায় আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পানি-চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনের মুখে প্রাণ হারান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ। ওই দিন রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তিতে মামলার তদন্তের স্বার্থে এজাহার বহির্ভুত কয়েকজনকেসহ আটক করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ