স্কুলশিক্ষার্থী রিশা হত্যা মামলার রায় আজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৬

রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৫) হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল এ কথা জানান।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৬ অক্টোবর নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। তবে ওই দিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় রায় ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন বিচারক।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুরে স্কুলের সামনে ফুটব্রিজে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চার দিন পর হাসপাতালে মারা যায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী। হামলার দিনই রিশার মা তানিয়া বেগম রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় এবং দণ্ডবিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে মামলা করেন। রিশা মারা যাওয়ার পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়।

মেয়ে হত্যাকাণ্ডের পর দর্জি দোকানের কর্মচারী ওবায়েদুল খানকে সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন রিশার মা। রিশার সহপাঠীদের বিক্ষোভের মধ্যে ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার থেকে গ্রেফতার করা হয় ওবায়েদুলকে।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে ওবায়েদুল ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলে বৈশাখী টেইলার্স নামের একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওবায়েদুল (৩০) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, প্রেমের প্রস্তাবে রিশা রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করেছিলেন তিনি।

তদন্ত শেষে রমনা থানার পরিদর্শক আলী হোসেন ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। রিশার চার সহপাঠীসহ ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয় সেখানে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রিশার মা তানিয়া ওই হত্যাকাণ্ডের ৫-৬ মাস আগে রিশাকে নিয়ে বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান। এর পর দোকানের রসিদের কপি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে দোকানের কর্মচারী ওবায়েদুল ফোনে রিশাকে বিরক্ত করতে থাকেন। রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওবায়েদুল তাকে ছুরি মেরে হত্যা করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল আদালত অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামি ওবায়েদুলের বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

বাদীপক্ষের ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ২১ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ওবায়েদুল হককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। ১১ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ