জরিমানা আদায়ে গ্রামীণফোনকে ফের চিঠি দিতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:৪৫

‘গো’ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য গ্রামীণফোনকে করা জরিমানার ৩০ কোটি টাকা আদায়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আইনের ৬৩ ও ৬৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী চারমাসের মধ্যে আবার চারমাসের মধ্যে বলেছেন হাইকোর্ট। জরিমানা চেয়ে আগের দেওয়া বিটিআরসির তিনটি চিঠি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

জরিমানা চেয়ে করা চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণফোনের রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রোববার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে এনটিটিএন নামের ইন্টারনেট সার্ভিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা ২০১৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখায় রাষ্ট্রের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা অডিটর জেনারেল-এর মাধ্যমে নিরূপণ করতে বিটিআরসির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

রায়ের পর ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব সাংবাদিকদের বলেন, ওই সার্ভিস চালু রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা অডিটর জেনারেলের মাধ্যমে নিরূপণের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

‘গো’ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাকে অবৈধ ঘোষণার কারণ হিসেবে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী- কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সরাসরি তাদের অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে এ ধরনের ‘লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি’ সেবা দিতে পারে না। লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি হলো অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সর্বশেষ পর্যায়ের সংযোগ।

কিন্তু গ্রামীণফোন ‘গো’ ব্রডব্যান্ড সেবার নামে সোনালী ব্যাংককে সরাসরি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে- এমন অভিযোগ তোলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি’র কাছে তারা লিখিত অভিযোগ দেয়।

অবৈধ সেবা দেওয়ার কারণ জানতে ওই বছরের মার্চের শেষ দিকে গ্রামীণফোনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিটিআরসি। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় গ্রামীণফোনকে জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর ৩০ কোটি টাকা জরিমানা করে তা পরিশোধ করতে ওই বছরের ৬ ও ২৯ নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি পৃথক তিনটি চিঠি দেয় বিটিআরসি। এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট আবেদন করে গ্রামীনফোন। রিট আবদেনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং তিনটি চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। সেই রুলের ওপর রোববার রায় দেওয়া হয়।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ