ঈদে মানুষ বাড়ি যাওয়ায় মশা কামড়াতে পারেনি: হাইকোর্ট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩৭

সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে- এমন বক্তব্যে হাইকোর্ট  বলেছেন, ঈদে মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাড়ি যাওয়ায় মশা কামড়াতে পারেনি। এখন আবার মানুষ ঢাকায় এসেছে, তাই এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমেছে কিনা।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপুকে উদ্দেশ্য করে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত বলেন, সারাদেশে তো আর আপনারা (সিটি কর্পোরেশন) ওষুধ ছিটান না। তাই সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমলে সেটা তো আপনাদের কর্মকাণ্ডের ফল না। ওটা ‘বাই ন্যাচারাল’ই কমছে। কারণ আপনারা তো আর সারাদেশে মশার ওষুধ ছিটাননি।

আর ঢাকা সিটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমার কথা যদি বলেন তাহলে বলতে হবে, ঈদে মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাডি যাওয়ায় মশা তাদের কামড়াতে পারেনি। তবে এখন আবার মানুষ ঢাকায় এসেছে, তাই এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমেছে কিনা।

এসময় আদালত আইনজীবীকে বলেন, মশা মারার নতুন ওষুধ এনেছেন? নতুন ওষুধে কি মশা মরে? নাকি আবার দক্ষিণের মশা উড়ে উত্তরে চলে যায়?

এ সময় সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী বলেন, নতুন ওষুধ কার্যকর এবং গত ১১ তারিখ থেকে তা ছিটানো হচ্ছে।
এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা যখন দেখব হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ হচ্ছে তখনই বুঝব যে মশার ঔষধ কার্যকর এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধ করা গেছে।

আজ শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান আদালতকে বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সিটি কর্পোরেশনকে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, জনবলের বাড়ানোর ব্যাপারে বলেছে।
তখন আদালত জানতে চান, এই অর্থ আর জনবল কি যথাযথ ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে?

উত্তরে সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবী বলেন, মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কাজ হচ্ছে। ওয়ার্ডের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। কর্মীদের জিপিএস ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।
এ সময় আদালত বলেন, এভাবে বললে হবে নাকি কাজ হচ্ছে? কে কে কোথায় কাজ করছে তা বিস্তারিতভাবে আমাদের কাছে দাখিল করুন।

এরপর আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেন। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কত রোগী এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে প্রতিদিন কেমন ভর্তি হচ্ছে তার তথ্য রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
আজ আদালতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

এর আগে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ও এডিস মশা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারর্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ