মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের ২২ জন আটক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩০ | আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪০

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ২২ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এদের মধ্যে ৮ জনকে দুর্ধর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এই আটজন ‘লারা দে’ ও ‘লেভেল হাই’ গ্যাংয়ের সদস্য।

আট কিশোর গ্যাং সদস্যরা হলো– জিসান, হৃদয়, শাকিল, অভিক, ডি কে সানি নাঈম, মানিক ও মীম।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান জানান, অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ২২ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

ডিসি আনিসুর রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবরকেন্দ্রিক গ্যাং গ্রুপের ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে 'লাড়া দে' গ্রুপের প্রধান মীমও রয়েছে। যে অভিভাবক তার সন্তানদের শোধরাতে ভূমিকা রাখবেন না, তারা এলাকায় থাকতে পারবেন না। বখাটে সন্তানরা এলাকা কলুষিত করবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। সোমবার মোহাম্মদপুরের সোনালী সংঘ মাঠে কমিউনিটি পুলিশের সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এলাকাবাসী তাদের মতামত তুলে ধরবে। পুলিশের কোনো সদস্য যদি গ্যাং গ্রুপকে সহায়তা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ডিসি আনিসুর রহমান আরও বলেন, 'কীভাবে দীর্ঘদিন মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন সড়কে গ্যাং গ্রুপ দেয়ালে দেয়ালে লিখে ও নানা বেআইনি কাজে জড়িয়ে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর অবস্থা তৈরি করেছে, সমকালে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। তাই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া গেছে। গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে এমন অভিযান চলমান থাকবে।'

জানা গেছে, রোববারের অভিযানে মোহাম্মদপুর ও আশপাশ এলাকা থেকে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হলো- 'লাড়া দে' গ্রুপের লিডার মীম ও তার সহযোগী নাঈম, জিসান, অভিক, বিচি হৃদয়, লেভেল হাই গ্রুপের প্রধান মানিক, শাকিল, রায়হান। বাঁশবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতারের পরপরই মীমের মাথায় বুলেটপ্রুফ হেলমেট ও হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তার পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও সাদা গেঞ্জি। এ ছাড়া গতকাল সকাল থেকেই মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয় পুলিশ। তাই কোনো সড়কে বখটেদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

মোহাম্মদপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ঈদের আগে গ্যাং গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করায় এলাকার সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কারণ, প্রায় প্রতিদিন দিনদুপুরে এসব গ্যাং পার্টির সদস্যরা ছিনতাই ও চুরি করে আসছিল। এতে তাদের সহায়তা করছিল কয়েকজন অসাধু পুলিশ সদস্য। গ্যাং পার্টির সক্রিয় সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ায় এখন চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারে জড়াতে সাহস পাবে না তারা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর ও আশপাশ এলাকায় গ্যাং গ্রুপ তাদের বখাটেপনা চালিয়ে গেলেও পুলিশ ছিল নির্বিকার। কোথাও কোথাও পুলিশের অসাধু সদস্যরা গ্যাং গ্রুপ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সহায়তা করে আসছিল। অভিযানে বখাটে কিশোর-তরুণদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পুলিশের কারা-কীভাবে তাদের সহায়তা করেছে, বেরিয়ে আসবে তা।

'লাড়া দে' গ্রুপের সদস্য সংখ্যা তিন শতাধিক। ফেসবুকেও গ্রুপ রয়েছে তাদের। এ গ্রুপের অধিকাংশের বয়স ১২-৩০ বছরের মধ্যে। 'লাড়া দে' নামের অর্থ বলতে তারা বোঝাচ্ছে 'নাড়িয়ে দেওয়া' বা 'ঝাঁকুনি দেওয়া'। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে তামিমুর রহমান মীম। তার বাবা একরামুল। মীমের বাসা মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকায়। তবে মীম বর্তমানে নবোদয় হাউজিংয়ের লোহার গেট এলাকায় বসবাস করে আসছিল। তার নামে মাদক ব্যবসা, ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ