নিবন্ধন-ফিটনেসবিহীন গাড়ির মালিক কারা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৯, ১৩:০৬

আগামী ১ মাসের মধ্যে সারাদেশের ফিটনেসবিহীন গাড়ির নাম-নম্বর, মালিকের নামের তালিকা জমা দিতে বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার সকালে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ মার্চ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ফিটনেস ও নিবন্ধনহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সহীন চালকের তথ্য জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকার ট্র্যাফিক পুলিশের উত্তর ও দক্ষিণের ডিসি ও বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

দেশের সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন ড্রাইভারদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বিআরটিএর প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

এ তথ্য দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই রাব্বানীকে আজ তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার বিআরটিএর এ পরিচালক আদালতে হাজির হন। শুনানিতে বিআরটিএর পরিচালক আদালতকে জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সারাদেশে লাইসেন্স নবায়ন করেনি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯টি গাড়ি। ঢাকায় এ সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮টি। কিন্তু তিনি ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন ড্রাইভারদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

দেশের সড়কের বেহালদশা সম্পর্কে আদালত বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি কি দেশের সড়কে বেহালদশার জন্য। সিঙ্গাপুরের দিকে তাকান। আমাদের কাছাকাছি সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করার পরও তারা কত উন্নতি করেছে। সিঙ্গাপুরে কি বাংলাদেশের মতো দুর্ঘটনা ঘটে? বাংলাদেশে কেন এত দুর্ঘটনা ঘটছে? আমেরিকায় কি এমন দুর্ঘটনা ঘটছে? ইংল্যান্ডে কী ঘটছে?

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, বিআরটিএ ছাড়াও দেশে পুলিশ আছে, পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে এসব অনিয়ম হচ্ছে।

বিআরটিএর পরিচালকের উদ্দেশে আদালত বলেন, অফিসে বসে বসে শুধু কি চা খাইলে হবে? দেশপ্রেম থাকতে হবে। বিআরটিএ কি করে? আমরা কেন ডাকবো, তাদের (বিআরটিএ) ডাকতে হবে কেন? তারা (বিদেশিরা) পারছে, আমরা পারছি না কেন?

সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনার পর ৭১ হাজার ফিটনেসহীন গাড়ি নিয়ে গত ২৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। এ সময় আদালত বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। সবাইকেই আইন মেনে চলতে হবে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ