একটি অপহরণ, সোহেল তাজ ও ফেসবুক লাইভ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০১৯, ২০:৫৯

বাংলাদেশের সাবেক একজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলছেন তাঁর নিখোঁজ ভাগ্নের কোন খোঁজ এখনো মেলেনি।

তানজিম আহমেদ, যিনি সোহেল তাজ হিসেবে পরিচিত, আজ ফেসুবক লাইভে বলেন তার পরিবার থেমে থাকবে না।

তারা নিজেরাই সরাসরি এর তদন্ত করবেন। ফেসবুক লাইভে বেশ কয়েকবার পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে একটি লিখিত বক্তব্যে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার নামও রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশকে ৯ই জুন অপহরণ করা হয়েছে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে সেদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

সৌরভ নামেই তাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ যিনি সোহেল তাজ হিসেবে পরিচিত।

ফেসবুকে ঘটনাটি সম্পর্কে এনিয়ে মোট তিনবার লাইভ করেছেন মি আহমেদ।

এই নিখোঁজের ঘটনা এবং সেটি নিয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লাইভ বক্তব্যের কারণে বিষয়টি বেশ নাটকীয় হয়ে উঠেছে।

মি. আহমেদ আজ জানিয়েছেন নিখোঁজ সৌরভের মোবাইল নম্বর থেকে মধ্য রাতের পর তার বাবা মায়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কয়েকবার কল এসেছে।

তিনি বলছেন, "রাত দুটা বিশ মিনিটে সৌরভের বাবা-মা ফোন রিসিভ করেন সৌরভের নাম্বার থেকে, হোয়াটসঅ্যাপে। অপর প্রান্তে কে ছিল তারা বলতে পারছেন না। কোন আওয়াজ পাওয়া যায়নি। তারা কল ব্যাক করেছেন কিন্তু কোন রেসপন্স পাননি।"

মি. আহমেদ জানিয়েছেন তিনি ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনার অগ্রগতি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে থাকবেন।

এর দুদিন আগে সৌরভের বাবা মাকে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সেখানে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় যে এর আগে ১৬ ই মে তারিখে আরও একবার চোখ বেধে ঢাকার বনানীর এক বন্ধুর বাসা থেকে সৌরভকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।

২৪ ঘণ্টা পর একটি ফর্মে সই নিয়ে ফেরতও দিয়ে যাওয়া হয়। কারা এর পেছনে জড়িত সেটি তারা জানেন বলেও দাবি করছেন মি. আহমেদ।

বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।

তবে দেশটির সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রী, যার সাথে ক্ষমতাসীন দলের যোগাযোগ দীর্ঘ দিনের, সেরকম কোন ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিরল।

মি. আহমেদ বলেন, "মে মাসের ১৬ তারিখে এর আগে যখন তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় সৌরভকে তারা যেভাবে সনাক্ত করে সেটা হচ্ছে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে।

মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ডিভাইস একমাত্র আমাদের এলিট ফোর্সেস ছাড়া এই ডিভাইস কারো কাছে অ্যভেইলেবল না।"

এই ঘটনায় নিখোঁজ সৌরভের সাবেক প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ডিসি নর্থ বিজয় বসাক বলছেন বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি।

তিনি বলছেন, "আমাদের এখানে তারা একটি জিডি করেছেন। আমরা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা তাদের মামলা করতে বলেছি তারা এখনো মামলা করেনি।

আসলে এটি অপহরণ নাকি অন্য কোন ঘটনা আছে কিনা সেটা আসলে উদ্ধার করার পরে আমরা বলতে পারবো।"

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কোন তদন্ত করা হচ্ছে কিনা তৃতীয় আরেকটি ফেসবুক লাইভে সেনিয়ে দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে বেশ কটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন মি. আহমেদ।

সবমিলিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর আগে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন তিনি পুলিশকে ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বলেছেন।

সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর অথবা র‍্যাবের কথা অভিযোগে উঠে এলেও তাদের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি। বিবিসি

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ