বন্দুকযুদ্ধে আরও ৯ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০১৮, ১০:৩৫ | আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ১১:৪৭

ঢাকা, ২৪ মে, এবিনিউজ : সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে ৬ জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৯ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছে।

বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে এসব বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত এ বন্দুকযুদ্ধে গত ৬ দিনে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হলো দেশের বিভিন্ন জেলায়।

এর মধ্যে গতকাল রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফেনীতে ২, কুমিল্লায় ২, মাগুরায় ২, নারায়ণগঞ্জে ১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ এবং সাতক্ষীরায় ১ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছে।

ফেনী : ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মজনু মিয়া মনির (৩২) ও শাহমিরান শামির (৩০)। 

গতকার বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আনন্দপুর ইউনিয়নের জামমুড়া এলাকায় এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

মনির ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের এবং শামির আনন্দপুর ইউনিয়নের  মাইজগ্রামের বাসিন্দা।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির দাবি করেন, মাদক পাচার হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান  চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে  মনির ও শামির গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে ছিলেন। 

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭০০ ইয়াবা, ৭০০ বোতল ফেনসিডিল, একটি এলজি, ৩টি কার্তুজ উদ্ধার করে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে।

কুমিল্লা : জেলার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল প্রকাশ ওরফে লম্বা বাবুল (৩৫) এবং সদর দক্ষিণে রাজিব (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। 

বুধবার রাত ১টার দিকে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন আমানগন্ডা সলাকান্দা নতুন রাস্তার মাথায় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাাম পুুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

তারা দুজনই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ দাবি করেছে। উভয় ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

মাগুরা : সদর উপজেলায় ‘মাদক ব্যবসায়ীদের’ দুপক্ষের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ সময় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।                  

তারা হলেন মাগুরা পৌর এলাকার নিজনান্দুয়ালী গ্রামের আইয়ুব হোসেন (৫০) এবং ভায়না টিটিসিপাড়ার মিজানুর রহমান কালু (৪৩)।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ছয়রুদ্দিন দাবি করেন, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে মাগুরা শহরতলীর পারনান্দুয়ালী হাউজিং প্রজেক্ট এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুপক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বিভিন্ন থানায় আইয়ুবের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং কালুর বিরুদ্ধে ২১টি মাদকের মামলা আছে। 

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার আখাউড়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আমির খাঁ (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। 

বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ স্টিল সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমির উপজেলার চানপুর গ্রামের মৃত সুরুজ খার ছেলে।

পুলিশের দাবি, নিহত আমির জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৯টি মাদক ও একটি হত্যাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে আখাউড়া থানায়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন, গতকাল রাতে বনগজ স্টিল সেতু এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমির ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। পুলিশও  আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এ সময় সহযোগীদের গুলিতে মারা যান আমির।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি কার্তুজ, একটি রামদা, দুটি বড় ছোরা, ১০ কেজি গাঁজা ও ৮ বোতল স্কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি।

নারায়ণগঞ্জ : জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম (৩২) নামে এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, সানারপাড় এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে সেলিম ১৫ মামলার আসামি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সাত্তার বলেন, রাতে নিমাইকাশারি এলাকায় পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি করে পুলিশ। প্রায় আধঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধের পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তখন সেখানে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে ছিলেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজ সেলিম ওরফে ফেন্সি সেলিমের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান, পাঁচ হাজার ইয়াবা, পাঁচ বোতল ফেনসিডিল ও একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ