সুন্দরবনে দস্যুতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:২৮

সুন্দরবনে আর কখনো দস্যুতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সুন্দরবন থাকবে দস্যুমুক্ত। যেখানে জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ আহরণ করতে পারবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল । তিনি আরো বলেন, এরপরেও কেউ যদি সুন্দরবনে দস্যুতা করে তাহলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
 
বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে ছয়টি বাহিনীর ৫৪ সদস্যের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এসব কথা বলেন। এছাড়া যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সহায়তা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এর আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাগেরহাটে আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন।

সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের সবশেষ ৬টি বাহিনী প্রধানসহ ৫৪ জন বনদস্যু ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ হাজার ৩৫১ রাউন্ড গোলাবারুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলো। আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু বাহিনীগুলো হলো, সত্তার বাহিনীর প্রধান মো. আ. সাত্তার মল্লিকসহ তার বহিনীর ১২ জন, শরিফ বাহিনী প্রধান মো. করিম শরীফসহ ১৭ জন, সিদ্দিক বাহিনীর প্রধান মো. মনিরুজ্জামান মুকুলসহ ৭ জন, আল-আমিন বাহিনীর প্রধানসহ মো. আল-আমিনহ ৫ জন, আনোয়ার বাহিনীর প্রধান মো. আনোয়ারুল ইসলাম গাজীসহ ৮ জন ও তৈয়ব বাহিনীর প্রধান তৈয়বুর মোড়লসহ ৫ জন।

অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে আত্মসমর্পণ করা সুন্দরবনের ৯টি বনদস্যু বাহিনীর ৮৪ জন ও সবশেষ আত্মসমর্পণ করা ৬টি বাহিনীর ৫৪ জন বনদস্যু সদস্যে হাতে ১ লাখ টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।
 
এর আগে বিভিন্ন সময় সুন্দরবনের ২৬টি বাহিনীর ২৭৪ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা ৪০৪টি অস্ত্র ও ১৯ হাজার ১৫৩টি গোলাবারুদ জমা দেয়।
 
এছাড়া বিভিন্ন সময় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন থেকে ৫০৭ দস্যুকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫৫৬টি অস্ত্র ও ৩৩ হাজার ৩২৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‌্যাব। এবং সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩৫ জন দস্যু নিহত হয়েছেন। এসব বনদস্যু সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকার জেলেদের অত্যাচার নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করতো।  

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান। এসময় ছাত্তার বাহিনীর প্রধান ছাত্তার ও বনদস্যু নাসিম শেখের মেয়ে নাসরিন সুলতানাসহ বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শোনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছাড়া যেসব মামলা রয়েছে সেসব মামলা প্রত্যাহার করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণকে নির্দেশ দেন। 

এছাড়াও আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের মধ্যে যাদের ঘর নেই তাদেরকে ঘর এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে, সুন্দরবন সংলগ্ন চারটি বিশেষ র‌্যাব ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হবে। যাতে করে আর কেউ এই বনে দস্যুতার সাহস না দেখায়। দস্যুদের পৃষ্ঠপোষকদেরও সাবধান হয়ে যাবার পরামর্শ দেন তিনি।

র‌্যাবের তৎপরতায় ২০১৫ সালের ৩১ মে প্রথম বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের ফুয়েল জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে ৯ সহযোগিসহ দুর্র্ধষ বনদস্যু ‘মাস্টার বাহিনী’ প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মানজার বাহিনী প্রধান মানজার সরদার, মজিদ বাহিনী প্রধান তাকবির বাগচী মজিদ, বড় ভাই বাহিনী প্রধান আবদুল ওয়াহেদ মোল্লা, ভাই ভাই বাহিনী প্রধান মো. ফারুক মোড়ল, সুমন বাহিনী প্রধান জামাল শরিফ সুমন, দাদা ভাই বাহিনী প্রধান রাজন, হান্নান বাহিনী প্রধান হান্নান, আমির বাহিনী প্রধান আমি আলী, মুন্না বাহিনী প্রধান মুন্না, ছোট শামছু বাহিনী প্রধান শামসুর রহমান, মানজু বাহিনী প্রধান মো. মানজু সরদার ও সূর্য বাহিনী প্রধান সূর্যসহ ২৬টি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে। ওই ২৬টি বনদস্যু বাহিনীর ২৭৪ সদস্য ৪০৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৯ হাজার ১৫৩ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food