সিনহার অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা

ফারমার্স ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৪৭

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা জমা দেওয়ার ঘটনার অনুসন্ধানে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীমসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

আজ বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছ দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

অন্য পাঁচজন হলেন- ব্যাংকটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন, সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ ও নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা সুলতানা।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এক নোটিশে ৬ জনকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সই করা নোটিশ পাঠানো হয়।

অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার লোন অনুমোদন করিয়ে ওই টাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির নামে হস্তান্তর দেখিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রয়েছে প্রতারণা ও জাল জালিয়তির অভিযোগও।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একই দিনে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিনই তারা টাকাগুলো পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা) অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এর পর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিন টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করা হয়।

এ অভিযোগের অনুসন্ধানে গত ৬ মে মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে কথিত দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দুজনের আইনজীবী বিচারপতি সিনহার সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেন।

আইনজীবীরা জানান, উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫ কাঠা জমির ওপর ৫১ নম্বরের ছয়তলা বাড়িটির মালিক সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। তিনি ৬ কোটি টাকায় বাড়িটি বিক্রি করেন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিত চন্দ্র সাহার স্ত্রী শান্ত্রী রায়ের কাছে।

তারা জানান বলেন, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিচারপতি এস কে সিনহার কাছ থেকে বাড়িটি শান্ত্রী রায় মালিক হন। তখনই বাড়ি বাবদ ২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ নভেম্বর দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় বিচারপতি এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়। পরে ২৪ নভেম্বর এস কে সিনহা হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে শান্ত্রী রায়কে বাড়িটি লিখে দেন।

তারা আরও জানান, নিরঞ্জন ও শাহজাহান ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেন। এতে থার্ড পার্টি হিসেবে শান্ত্রী রায়ের বিভিন্ন জমি মর্টগেজ হিসাবে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এই ঋণ থেকেই বাড়ির ৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।

রনজিত চন্দ্রের চাচা নিরঞ্জন সাহা আর শাহজাহান হচ্ছে রনজিতের বন্ধু। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইল।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ