বুড়িমারীতে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৩ মামলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৫:২৬

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার দুই দিন পর এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। 

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ডিআইজি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। আর পুলিশ বাদী হয়ে অপর মামলাটি করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আমরা খুঁজে বের করব এবং যার জন্য যতটুকু শাস্তি প্রযোজ্য সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিহত ব্যক্তি বহিরাগত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তিনি বহিরাগত কিনা এ বিষয়ে এখনই বলা সম্ভব নয়।’

তদন্ত প্রক্রিয়া কতদূর সম্পন্ন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা, এটি করেছেন নিহতের আত্মীয়। অপরটি ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের মামলা, সেটি করেছেন বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আরেকটি এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা। এ মামলাটি করেছে পুলিশ। এসব মামলায় যাদের আমরা এরই মধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছি তাদের আসামি করা হয়েছে। বাদ বাকি আসামিদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

নিহত আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েলের পরিবার যে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছে সেটিতে কতজনকে আসামি করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, এ ঘটনায় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে ইউনিয়দ পরিষদের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে যে মামলাটি দায়ের করেছেন তাতে ২২ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ এবং আরও অজ্ঞাত ৫শ থেকে ৬শ জনকে আসামি করা হয়েছে। তার মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হামিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে। চেয়ারম্যান তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হামিদুল ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং ওই ব্যক্তিকে মারধর করছিলেন। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।

এ ছাড়া ওইসময় দায়িত্ব পালনে আসা পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। পাটগ্রাম থানার একজন কর্মকর্তা এম শাহজাহান আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশের মামলায় আসামিদের সংখ্যা এখনও বলা হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েল নামের ওই ব্যক্তিকে তুচ্ছ ঘটনায় একটি মসজিদের ভেতর থেকে বের করে এনে মারধর করার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হলেও সেখান থেকে উত্তেজিত জনতা বের করে এনে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে চেষ্টা করেও তাদের থামাতে ব্যর্থ হন। ক্ষুব্ধ জনতা তাদেরও ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ