‘পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০, ১২:০১

ড. কে এ এস মুরশিদ। বিআইডিএসের মহাপরিচালক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার পর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনি বিআইডিএসে গবেষণা পেশা শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি গবেষণা পরিচালক হন এবং ২০১২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। তিনি বেশ কয়েক বছর মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ায় ইউএনডিপি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। করোনায় অর্থনীতি ও প্রণোদনা প্যাকেজসহ নানা বিষয়ে একটি জনপ্রিয় দৈনিকের সঙ্গে কথা হয় এ অর্থনীতিবিদের। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

সরকারের ঘোষিত প্যাকেজকে কীভাবে দেখছেন?

সরকার জিডিপির ৩ শতাংশ সমপরিমাণ একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেটি ঠিক কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে এ প্যাকেজের মূল ফোকাস হলো ব্যবসায়ী মহল। এখানে গ্রামীণ দরিদ্র কৃষক, কর্মজীবী, খেটে খাওয়া মানুষদের উদ্বেগ—এ বিষয়গুলো কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে বটে, কিন্তু আমার মনে হয়, এটা নিয়ে আরো চিন্তা করা দরকার ছিল। ব্যবসা নিঃসন্দেহে আমাদের দেশে খুব গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতি সচল রাখতে হলে ব্যবসায়ী মহলকে মোটামুটি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু এটি কতদিনের জন্য। যদি তিন বা ছয় মাসের জন্য সরকারকে একটা সহায়তামূলক ভূমিকা (সাপোর্টিং রুল) পালন করতে হয়, সেটি এক রকম। আর যদি এটি ওপেন এন্ডেড হয়ে যায়, সেটি আরেক রকম। আমরা ঠিক জানি না, পরিস্থিতিটা কতদিন চলবে। স্বাভাবিক অবস্থায় কবে ফিরে আসতে পারব, তাও জানা নেই। তার পরেও আমাদের একটা পরিকল্পনা লাগবে। সেখানে আমার মনে হয় তিন মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি পরিকল্পনা ধাপে ধাপে নেয়া দরকার। প্রথম তিন মাসে আমাদের ফোকাস হতে হবে তাত্ক্ষণিক উদ্বেগগুলো (ইমিডিয়েট কনসার্ন) নিরসন করা। (রূপকার্থে যদি বলি) বাড়িতে আগুন লেগেছে, তা আগে নেভাতে হবে। এজন্য কী পরিকল্পনা নিচ্ছি, যথেষ্ট অর্থের জোগান আমরা দিচ্ছি কিনা কিংবা এজন্য যে ম্যাকানিজম-প্ল্যানিং দরকার, সেটি ঠিকভাবে এগোচ্ছে কিনা।

আমার মূল উদ্বেগ শ্রমিক-খেটে খাওয়া মানুষদের নিয়ে। মালিকদের জন্য আমি অতটা চিন্তিত নই। তাদের জন্য তিন মাস, ছয় বা আরো অনেকদিন টিকে থাকা কোনো ব্যাপার নয়। সমস্যা হলো শ্রমিকদের নিয়ে। সুতরাং আমি আশা করব, এই প্রণোদনার সিংহভাগই যাবে শ্রমিকদের কল্যাণে। এমনও তো হতে পারে চাইলেই শ্রমিকরা কাজে ফিরতে পারছেন না। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। যদি এ সমস্যা প্রকট হয়, তখন এসব শ্রমিককে তিন থেকে ছয় মাস টিকিয়ে রাখতে হবে। এ কথাটি মনে হয় আমাদের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।

তাহলে কি এ প্যাকেজের প্রাসঙ্গিকতা এ মুহূর্তে তেমন একটা নেই?

এটিকে বলা হচ্ছে প্রণোদনা (স্টিমুলাস) প্যাকেজ। প্রণোদনা তখনই দেয়া সম্ভব, যখন অর্থনীতি মোটামুটিভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রবেশ করতে পারবে। যেখানে ভ্রমণে বাধা থাকবে না, যোগাযোগে বাধা থাকবে না। স্বচ্ছন্দে আমরা আসা-যাওয়া করতে পারছি, চাকরিতে যেতে পারছি। কাজেই প্রণোদনা প্যাকেজ, তখনকার জন্য প্রাসঙ্গিক হবে। আগামী তিন মাসে যে একটা বেসামাল সংকট সৃষ্টি হতে পারে, সেটি মাথায় রেখে বর্তমানে অগ্রসর হওয়া উচিত। আমি এটিকে ঠিক ভাগাভাগি করতেও চাইছি না। আমি মনে করি, পুরো বিষয়টি আরো সামগ্রিকভাবে (হলিস্টিকলি) দেখা দরকার। শুধু ব্যবসায়ীদের, রফতানিকদের জন্য একটা প্রণোদনা দিলাম, তা নয়। আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের আর্থিক সামর্থ্য অনেক কম, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কথাটাই মাথায় বেশি রাখতে হবে।

এখন কোন কোন বিষয়ে বেশি নজর দেয়া দরকার বলে মনে করেন?

এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, সংকট মোকাবেলার জন্য আমার সব উপকরণ আছে কিনা। ডাক্তারদের ট্রেনিং দিতে পারছি কিনা। টেস্টিং অনেক গুণ বাড়াতে পারছি কিনা। টেস্টিং না করলে বুঝতে পারব না, কোথায় আমাদের হস্তক্ষেপ (ইন্টারভেনশন) করতে হবে। টেস্টিংয়ের সঙ্গে কিন্তু বাদবাকি সবই যুক্ত। টেস্টিং যদি না করি, সমস্যার ব্যাপকতা (ম্যাগনিটিউড) যদি বুঝতে না পারি তাহলে এটা থেকে উত্তরণেও দেরি হয়ে যাবে।

প্রথমত, একটা ধারণা থাকতে হবে এ সংকটের ধরনটি অন্যান্য দেশে যেমন আছে, আমাদের দেশে কি তেমনই হবে, নাকি অন্য রকম হবে? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু মডেল করে দেখাতে পারেন যে আমাদের কভিড-১৯ সংকট এতদিনে পিকে উঠবে এবং কতদিন চলতে পারে। এটা করা দরকার। কেন আমরা এটা করছি না? বাদবাকি হস্তক্ষেপগুলো কিন্তু সেটিকে অনুসরণ করেই এগোবে। আগে বুঝতে হবে কার্ভটা কোন দিকে যাচ্ছে, এর টাইম ফ্রেম কী। সেজন্য আমি আপাতত তিন মাসের কথা বলছি। কিন্তু সেটি দুই মাসও হতে পারে। এমনকি ছয় মাসও হতে পারে। এ সময়সীমার মধ্যে আমাদের তৈরি হয়ে যেতে হবে। আমাদের মতো দেশের জন্য এটি চাট্টিখানি কথা নয়। সেটি না করে কিছুটা দূরবর্তী বিষয়, যেমন ইকোনমিক স্টিমুলাস, রফতানি ইত্যাদি নিয়ে কেন আমরা কথা বলছি, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। 

আমার মনে হয়, সংকট মোকাবেলায় তাত্ক্ষণিক প্রস্তুতিবিষয়ক পরিকল্পনা মানুষকে জানানো উচিত। জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও এ পরিকল্পনাগুলো আমাদের জানানো উচিত। বিশেষ করে টেস্টিংয়ের বিষয়টি। এসব কিটের দাম বেশি নয়। এর সাপ্লাই চেইনগুলো যদি ঠিকমতো ম্যানেজ করা যায় তাহলে খুব একটা অসুবিধা হবে না। আমাদের ব্যাপক মাত্রায় টেস্টিংয়ের সময় চলে এসেছে। সেখানে আমরা কত টাকা বিনিয়োগ করছি বা কত বরাদ্দ দিলাম, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। এখন অংক কষছি প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে। কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য যে উপকরণ লাগবে, ম্যান পাওয়ার লাগবে, ট্রেনিং লাগবে, সাপ্লাই চেইনগুলো ঠিক করতে হবে এবং তার জন্য কত টাকা লাগতে পারে, সেটি নিয়ে পরিকল্পনা করছি না। এ বিষয়গুলো আমাকে আসলে ভীষণভাবে ভাবাচ্ছে।

আগামী তিন মাসের জন্য কোন বিষয়গুলোয় দৃষ্টি দেয়া জরুরি?

১. বাংলাদেশের জন্য কভিড-কার্ভটি নির্ণয় করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। কবে আমরা রেখার শীর্ষে পৌঁছতে পারি, সেটি নির্ণয় করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু আলো ফেলতে পারেন। সেটি করা সম্ভব হলে তা আমাদের পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সহায়ক হবে।

২. গাইডলাইনের পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সশস্ত্র বাহিনী, এনজিওসহ পরীক্ষিত সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা প্রয়োজন। যথাযথভাবে গাইডলাইনের পরিপালন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দয়া করে যেকোনো ধরনের জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করুন। প্রয়োজনে কারফিউ ঘোষণা করুন। পরবর্তীতে  তা শিথিল করা যেতে পারে।

৩. কিটস, মাস্ক, পিপিই ও ভেন্টিলেটরের জন্য সরবরাহ নিগড় (অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক) সংগঠিত করতে হবে। যখন সংকট তুঙ্গে উঠবে, সে সময়ের প্রয়োজন মূল্যায়ন করতে হবে এবং তার জন্য এখন থেকে কাজ করতে হবে। আমাদের সম্ভবত চার-ছয় সপ্তাহ হাতে সময় আছে। এ সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করা দরকার। সরবরাহ নিগড় গড়ে তুলতে একটি চৌকস টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।

৪. পরীক্ষা বাড়াতে হবে। ১৫ থেকে ৮০ বছরের বয়সগোষ্ঠীর মধ্যে ৪ শতাংশের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে কিংবা প্রতি পরিবারে অন্তত একজনের পরীক্ষা করতে হবে।

৫. ভেন্টিলেটরের ব্যবহার শেখানোসহ জরুরি সেবার জন্য মেডিকেল ও প্যারা-মেডিকেল কর্মীদের ক্রাশ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. কভিড-১৯-এ আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের সেবা প্রদানে নিবেদিত মোবাইল মেডিকেল ইউনিট গঠন করতে হবে, যারা আরো গুরুতর রোগীদের (যেমন যাদের ভেন্টিলেশন প্রয়োজন) জন্য হাসপাতালে জায়গা বাঁচিয়ে বাসায় চিকিৎসা নিতে পারেন।

৭. সামাজিক নিরাপত্তা জাল বাড়াতে হবে। গ্রামে তা বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। আর শহরে তা বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। 

৮. ত্রাণ প্রচেষ্টাগুলোয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিক্ষিপ্তভাবে অনেকেই ত্রাণ দিচ্ছেন। এর মধ্যে সমন্বয় নেই। এক্ষেত্রে সমন্বয় জরুরি। ত্রাণ নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রদানে বণ্টনকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

৯. বণ্টনকেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ক. সরকার তার বণ্টন কর্মসূচির জন্য সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র নির্ধারণ করবে; খ. এনজিওগুলো তাদের নিজস্ব বণ্টন কেন্দ্র নির্ধারণ করবে; গ. ব্যক্তি, সমাজ, গ্রুপ ও জনহিতৈষীদের জন্য সরকার বণ্টনকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে দিতে পারে মসজিদগুলোকে। আর মসজিদ কমিটিগুলোকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে ত্রাণ সংগ্রহ ও বণ্টন তদারকির দায়িত্ব দিতে পারে। মসজিদ প্রাঙ্গণ প্রতিদিন জীবাণুুক্ত করতে হবে এবং ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষা উপকরণে সজ্জিত করে ত্রাণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। যদি একটু সৃজনশীল হই তাহলে নিরাপত্তা বিসর্জন ছাড়াই এ কাজগুলো আমরা সহজেই করতে পারি।

১০.  সঠিক তথ্য নিশ্চিত প্রয়োজন। সরকার, মিডিয়া, এনজিও, সিবিও ও গবেষকদের উচিত কভিড আক্রান্তদের ভৌগোলিক বণ্টনের ওপর তথ্য বিনিময় করা। আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন এবং পরীক্ষা করার জন্য টেস্ট নিয়ে সেখানে যাওয়া উচিত। জিআইএসভিত্তিক ইনফরমেশন রিসোর্স সৃষ্টিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা তথ্যগুলো যাচাইপূর্বক সমন্বয়ের জন্য একটি নিবেদিত দল গঠন করা যেতে পারে, যারা অব্যাহতভাবে তথ্য হালনাগাদ করবে।

১১. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সদা নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে। 

১২. আমাদের হয়তো লকডাউনে যেতে হতে পারে। লকডাউন (অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক) মানে হলো, অর্থনীতি বড় ধাক্কা-আঘাতের মুখোমুখি হবে। এ মূল্য আমাদের দিতেই হবে। একবার কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে প্রণোদনা প্যাকেজগুলো প্রাসঙ্গিক হবে। এ সময়ে কর্মীদের যাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা জরুরি। এদের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ অনানুষ্ঠানিক খাত, যেমন পোলট্রি, মত্স্য খাতে নিয়োজিত কর্মী এবং ব্যবসা ও সেবা খাতে স্বনিয়োজিত কর্মীরা।

১৩. অনলাইনভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য যত ধরনের সাহায্য প্রয়োজন, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এটিকে পৃষ্ঠপোষকতা জোগাতে ইন্টারনেট ব্যয় কমাতে হবে এবং স্মার্টফোনের দাম অনেক কমাতে হবে। একইভাবে বিশেষ করে খাদ্য ও জরুরি ব্যবহার্য পৌঁছে দেয়ায় নিয়োজিত অনলাইন ডেলিভারি ব্যবস্থা যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা মাথায় রাখতে হবে।

১৪. খাদ্যনিরাপত্তা আরো জোরদার করতে হবে। খাদ্যের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি খাদ্য কেনার সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। করোনার বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতেও খাদ্যনিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে হয়তো আরো বড় করতে হতে পারে। অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের জন্য এটি বেশি জরুরি হবে। সরকারের পরিকল্পনায় খাদ্যনিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে বলে আমার প্রত্যাশা। একই সঙ্গে কৃষি ও কৃষকের অবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং চাষাবাদ প্রক্রিয়া চালু রাখার বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবে প্রাধান্য পাবে।

আমাদের উচিত হবে কিছু এসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণা করে দেয়া। আমাদের কিছু গার্মেন্ট কারখানা হয়তো খোলা রাখতে হবে। যেহেতু আমাদের পিপিই তৈরি করতে হবে, আমাদের মাস্ক তৈরি করতে হবে, আমাদের দস্তানা তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে এটি মূলত একটি যুদ্ধ। এ যুদ্ধের জন্য যা যা অস্ত্র লাগবে, সেগুলো হলো এসেনশিয়াল সার্ভিস। সেগুলো তৈরি করতে হবে, প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আনতে হবে। যেখান থেকে পারি আনতে হবে। আর নন-এসেনশিয়াল সার্ভিস আমাদের বন্ধ রাখতে হবে। সেখানকার শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনুদান দিতে হবে। 
(দৈনিক বণিক বার্তা থেকে সংগৃহীত)

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ