‘মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি বৃদ্ধিই ছিল প্রথম অগ্রাধিকার’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৮

চলতি মেয়াদের প্রথম ১০০ দিন পার করেছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে  মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখোমুখি হয় জনপ্রিয় একটি দৈনিক। ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্বে কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

মন্ত্রী হিসেবে ১০০ দিন পার করেছেন। মন্ত্রণালয়ের এ সময়ের কর্মকাণ্ডকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বাংলাদেশের বাস্তবতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি বড় মন্ত্রণালয়, যার অধীনে রয়েছে ১২টি দপ্তর ও সংস্থা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বড় সংস্থা এ মন্ত্রণালয়ের অধীন। সেনানিবাস ছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি স্থাপনাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। বঙ্গভবন, গণভবনের ইমারত থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সবই গণপূর্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এগুলোর নির্মাণ, তদারকি সবই করতে হয় গণপূর্তকে। এটা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। অনেক বিষয় দেখভাল করতে হচ্ছে। নতুন অনুমোদন দিতে হচ্ছে। নামপত্তনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। কমার্শিয়াল এরিয়া নির্ধারণ করে দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে স্থাপনাগুলো কীভাবে নির্মাণ করতে হবে, সেগুলো দেখভাল করতে হচ্ছে। ইমারত সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তা দেখভাল করতে হচ্ছে। আবার আবাসন সংকট দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করতে হচ্ছে। বর্তমানে পূর্বাচল, উত্তরার তৃতীয় প্রকল্প, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প চলছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে। আমি এখন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কাজ বুঝে নেয়ার চেষ্টা করছি। বোঝার পর কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব, সেই পরিকল্পনা নিয়েছি।

আপনি কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?

মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের গতি বাড়ানোই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। দ্বিতীয়ত, অগ্রাধিকার কাজে স্বচ্ছতা আনা। কোনো দুর্নীতি ও অনিয়মকে বরদাশত করব না আমি। তৃতীয়ত, অগ্রাধিকার দেব যে অসম্পন্ন কাজগুলো ঝুলে আছে, সেগুলো দ্রুতই সম্পন্ন করা। আমি বলেছি, যদি কোনো কাজ অনিবার্য কারণে সম্পন্ন করা না হয়, তাহলে যুক্তিসংগতভাবে সময় বাড়বে, কিন্তু টাকা বাড়ানো হবে না।

রাজউকের কাজের দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে কী পদক্ষেপ নেবেন?

মানুষ বাড়ির নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউকের কাছে যায়। একটা নকশা অনুমোদনের জন্য তাকে ১৬ দপ্তরে যেতে হতো, এতে কাজের দীর্ঘসূত্রতা হতো। আমি দেখলাম, এগুলোর প্রয়োজন নেই। মানুষকে ভোগান্তি থেকে রক্ষা এবং সেবা সহজ করতে ১৬টি ধাপের মধ্যে ১২টি বাদ দেয়া হবে। এটি রাজউকের ৪৭ বছরের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন। আগে নামপত্তন ও সেলস পারমিশনের জন্য অনিশ্চিতকাল ধরে অপেক্ষা করতে হতো। আমি এটার জন্য মিনিমাম সময় বেঁধে দিয়েছি। সর্বনিম্ন সাতদিন, সর্বোচ্চ ৫৩ দিনের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করতে বলেছি। ১ মে থেকে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে চলে যাবে। কাউকে মন্ত্রণালয় কিংবা বিভিন্ন দপ্তরের টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হবে না। সেবাগ্রহীতা এখন বাসায় বসে অনলাইনে আবেদন করবেন এবং অটোমেশন পদ্ধতিতে মেসেজ দিয়ে তাকে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে তদারকি হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আমি নতুন অ্যাপের সংযোজন নিয়েছি, অফিসে বসে কোথায় কী উন্নয়নকাজ হচ্ছে, সেটার দেখভাল করতে পারব।

এফ আর টাওয়ারে দুর্ঘটনার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেবেন?

এফ আর টাওয়ারের ঘটনার জন্য বাংলাদেশের রেওয়াজ অনুযায়ী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও ভূমির মালিককে শুধু দায়ী করা হচ্ছিল। কিন্তু আমরা তদন্তের পরিসর বাড়িয়ে বলেছি, ওই সময়ে রাজউকের কারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিষয়েও যেন তদন্ত হয়। কারণ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত শুধু তারা নন, যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তারাও সমভাবে দায়ী হবেন।

অতীতে আইনের চর্চা হতো না। কোনো ঘটনা ঘটলে, তখন ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো। আমি বলেছি, টাকা না, এটা আইনি কাঠামোয় আসতে হবে।

রাজউকে প্রেষণে এসে দীর্ঘদিন থেকে যাচ্ছেন অনেক কর্মকর্তা। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

রাজউকের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অনেক কর্মকর্তাই রাজউকের দায়িত্বে আসেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্থায়ী হিসেবে থেকে যাওয়ার একটা রেওয়াজ ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা দীর্ঘদিন এক দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের যেন অন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। সেটা অতীতে কখনো হয়নি, এ ব্যতিক্রমধর্মী পরিবর্তনটা আমি এনেছি। কারণ কেউ নির্ধারিত একটা জায়গায় থাকবেন না। রাজউকে অন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনেক কর্মকর্তা ডেপুটেশনে এসেছেন কিন্তু কখনো ফেরত যাননি, তারা এখানে যেন অমৃত পেয়েছেন। আমি দীর্ঘদিন সেসব কর্মকর্তার ডেপুটেশন বাতিল করে নিজ নিজ সংস্থায় ফেরত দিচ্ছি এবং নতুন করে ডেপুটেশনে কর্মকর্তা আনছি। এভাবে একটা গতি এনেছি।

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ আছে। এটা সমাধানে কী ব্যবস্থা নেবেন?

মন্ত্রণালয়ের সব কাজ আমি নিজেই দেখভাল করছি। কোন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত নেই, কর্মকর্তাদের টেবিলে কতটি ফাইল অনিষ্পন্ন রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি। প্রকল্পের কাজ শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে হয় না। আমি মাঠে গিয়ে দেখেছি, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে গাফিলতি পেয়েছি এবং সেটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি মনে করি, আমরা জনগণের সেবক, মানুষের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন দেয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে অনিশ্চিত সময়ের জন্য কাজ ঝুলিয়ে রেখে ব্যয় বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের মুনাফার সুযোগ করে দেয়া কোনোভাবে কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় দৃশ্যমান অনেক পরিবর্তন আনতে পেরেছি। মানুষ এখন হয়রানির শিকার হয় না। অনিশ্চিত সময় ধরে সেবার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সামনের দিনেও অনেক পরিবর্তন আসবে। আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ১২টি প্রতিষ্ঠান হয়রানির প্রতিষ্ঠান নয়, জনমুখী, জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। আমার কমিটমেন্ট হবে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, কোনো দীর্ঘসূত্রতা রাখা যাবে না। অকারণে সরকারি টাকা অনাহূতভাবে বৃদ্ধি করে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না। কর্মকর্তারা সব দায়-দায়িত্বের ঊর্ধ্বে এটা বলা যাবে না। এভাবে কাজের গতি ফিরিয়ে এনেছি।

১০০ দিনে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?

সেবা প্রদানকারী ও সেবা গ্রহণকারীদের খারাপ অভ্যাস এবং তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই এসে আমাকে বলেন, কাজের জন্য কী করতে হবে? এই কী করতে হবে শব্দটার সঙ্গে আমি অপরিচিত। আমি সাংবিধানিকভাবে শপথ নিয়েছি ‘কী করতে হবে’র জন্য না। করার দায়িত্ব আমার, সেটাকে মাথায় রেখে কাজ করছি।

ভবনের অনিয়মের বিষয়ে আপনারা একটি তদন্ত কমিটি করেছেন। তদন্তে অগ্রগতি কতদূর?

আমরা একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছি, তাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনেরও প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা রিপোর্ট দাখিল করেছেন, রিপোর্টগুলোকে আমরা কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। এগুলোকে ক্ল্যাসিফাই করে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে জানাব, কোন কোন বহুতল ভবনের মালিক অনিয়ম করেছেন। কারণ নাগরিকদের অধিকার রয়েছে এসব বহুতল ভবনের মালিকদের প্রকৃত স্বরূপ জানার। আর তদন্ত কমিটিকে বলেছি, অ্যাডহক ভিত্তিতে শুধু তদন্ত না। বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে কী কারণে, কেন দুর্ঘটনা হয়েছে, কোন সময়ে হয়েছে, ওই সময় রাজউকের কর্মকর্তা কে ছিলেন, রিপোর্ট আসার পরও কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি—এসবের আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করে একটি বাস্তবধর্মী ব্যবস্থা নেয়ার কথা আমরা বলেছি। কোনো ক্ষুদ্র ঘটনার ভেতর থেকে আমরা শেষ করতে চাই না। তদন্ত রিপোর্টের পর আমরা একটা নীতিনির্ধারণী বৈঠক করে যে যে ক্ষেত্রে সংশোধনযোগ্য, মালিকদের একটা সময় বেঁধে দিয়ে বলব, বিল্ডিং কোড উপযোগী ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা যদি ব্যর্থ হয়, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। সেক্ষেত্রে কোনো ভবন যদি সিলগালা করে দিতে হয়, কোনো বিল্ডিং যদি ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করতে হয়, কোনো ভবনের মালিককে জরিমানা কিংবা কোথাও যদিও মামলা করতে হয়, সেই ব্যবস্থা আমরা নেব।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরে কর্মরতদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছে। আপনার মন্ত্রণালয় থেকেও কি এ ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হবে?

ভূমি মন্ত্রণালয় একটি মাত্র বিভাগ, আর আমার মন্ত্রণালয়ের ১২টি বিভাগ। এ ১২ দপ্তরের কাজ ১২টি মন্ত্রণালয়ের সমান, এদের এক জায়গায় আনা, এদের সমন্বয় করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাটা সহজ নয়। আমি ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হচ্ছি। এমন কোনো পরিকল্পনা নিতে চাই না, যেটা রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে।

পুরান ঢাকা নিয়ে আপনি নতুন পরিকল্পনার কথা বলেছেন। সেটা কবে নাগাদ শুরু করবেন?

পুরান ঢাকার পুনঃউন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে নতুন নগরী গড়ে তুলে দিতে চাই। এরই মধ্যে ঢাকার মেয়রকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছি। তিনিও নাগরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন। আমরা এফ আর টাওয়ার বিষয়ে তদন্ত ও পরিদর্শনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। আমার বিশ্বাস, সবাই এগিয়ে আসবেন। নাগরিকদের কাছে ভবন রক্ষার চেয়েও তাদের জীবন অনেক মূল্যবান। পৃথিবীর অনেক দেশের পুনঃউন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক নগরায়ণ হয়েছে। আমি আশা করি, পুরান ঢাকার অধিবাসীরাও এ আহ্বানে সাড়া দেবেন। আমি সমন্বিতভাবে এ কাজটা করতে চাই।

রাজউকের কাছে ছয় হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য চেয়েছে দুদক, যে ভবনগুলো নিয়মের বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। দুদকের এমন অনুসন্ধানকে কীভাবে দেখছেন?
এ রকম কোনো তথ্য আমার জানা নেই। দুদক যদি এ রকম চেয়ে থাকে, তাহলে আমি খতিয়ে দেখব এবং দুদককে সহায়তা করব।

রাজউককে কার্যকর করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেবেন?

রাজউকের আমূল পরিবর্তন করতে হবে। রাজউককে দুই ভাগে ভাগ করার কথা ভাবছি। ঢাকা সিটি করপোরেশনকে যেমন দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, রাজউকের ক্ষেত্রেও সেটা হতে পারে। রাজউকের জনবল বাড়াতে হবে। দায়-দায়িত্বের পরিসর বাড়াতে হবে। রাজউকের তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনও হতে পারে। এটার জন্য উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ের যে সমস্যাগুলো আমরা মোকাবেলা করছি, তা সম্পন্ন হওয়ার পরই সেদিকে যাব।

সরকারি ভবনে মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে কী করবেন?

আমরা এতদিন ধরে অনেক অনিয়ম করেছি। ২০০৮ সালের আগে ঢাকায় কোনো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে গ্যারেজ রাখতে হবে, এমন বিধান ছিল না। এটা কল্পনা করা যায়? বাংলাদেশের মতো একটি দেশে গ্যারেজ রাখার নিয়মই ছিল না। অনেক ভুল আমাদের হয়েছে, রাষ্ট্রের হয়েছে, সরকারের হয়েছে এবং নাগরিকদের হয়েছে। সেখান থেকে উত্তরণের জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। কিন্তু রাতারাতি সবকিছু করা সম্ভব না। এজন্য সময় লাগবে এবং সময়ের মধ্যে আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব।

বেসরকারি আবাসন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে খাসজমি দখলের অভিযোগ ওঠে। সে বিষয়ে আপনারা কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি?

খাসজমি দখলের ক্ষেত্রে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়-দায়িত্ব কম। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে দেখতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের এখতিয়ার হলো, আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনের কোনো সম্পত্তি কেউ দখল করলে তা মুক্ত করা। আমি অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, অনেক জায়গা উদ্ধারও করেছি। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ দখলে ছিল, এখনো রয়েছে। আমরা সেটা উদ্ধারের ব্যবস্থা নেব।

আবাসন ব্যবসায় অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। এ বিষয়ে আপনারা কী উদ্যোগ নেবেন?

এটা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। যখনই আমরা আবাসন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাচ্ছি, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমরা খতিয়ে দেখছি, কাজের গতি বাড়াচ্ছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আগারগাঁও ঘিরে লুই আই কানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সেটা নিয়ে আপনারা কী ব্যবস্থা নেবেন?

পরিকল্পনাটা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নভাবে চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। পরিকল্পনা এখনো পরিত্যক্ত হয়নি, এটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী শুধু জিয়াউর রহমানের কবর সরালেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেখানে সচিবালয়কে নেয়াসহ অনেক কর্মযজ্ঞ রয়েছে। সবকিছু নিয়েই ভাবতে হবে। এটা উচ্চপর্যায়ে নীতিনির্ধারণী বিষয়। আমি আশা করি, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আমার মন্ত্রণালয়ের ওপর যতটুকু দায়িত্ব আসবে, তা আমি বাস্তবায়ন করব। (দৈনিক বণিক বার্তা থেকে নেয়া)

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ