চুল পড়ার সমস্যা এবং সমাধান : জাহিদ পারভেজ

ঢাকা, ১০ আগস্ট, এবিনিউজ : প্রায় সিংহভাগ মানুষের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে। চুল নিয়ে অনেকে চিন্তায় থাকেন। চুল পড়ার সমস্যা এবং এর সমাধান নিয়ে কথা হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক জাহিদ পারভেজ বড় ভুঁইয়ার সঙ্গে। তিনি সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে চুল পড়ার সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে জানান।

সাংবাদিক: চুলপড়া সারা বিশ্বে একটি বড় সমস্যা। চুল পড়া কীভাবে রোধ করা যেতে পারে?

ডা. জাহিদ পারভেজ: চুল পড়ার জন্য প্রধানত দায়ী লাইফ স্টাইল। লাইফ স্টাইল ম্যানেজমেন্ট চুল পড়াটা অনেকটা কমিয়ে ফেলে। পরিমিত ঘুম, পরিমিত খাবারের পাশাপাশি সাধারণ ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। চুল শরীরের বাইরের কোনো অঙ্গ নয়। ফলে খাবার ঘুম ব্যায়াম চুলের সঙ্গে জড়িত। একজন মানুষ কী ধরনের তেল ব্যবহার করছেন, কী ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন এ পশ্নও এসে যায়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অাজকাল ফাস্টফুড কালচার খুব দ্রুত বাড়ছে। এই ফাস্টফুডের ফলাফল কিন্তু চুলের জন্য ক্ষতিকর। দৈনন্দিন জীবনে ১০০- ১৫০টা চুল একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবেই পড়ে। এই ১০০-১৫০ চুল পড়ার পর যদি রি- গ্রোথ না হয় তখনই দেখা যায় একজন মানুষের চুল অাস্তে অাস্তে পাতলা হয়ে যাচ্ছে। টাক দেখা যাচ্ছে।

সাংবাদিক: চুল পড়া কী কোন বংশগত সমস্যা?

ডা. জাহিদ পারভেজ: হ্যাঁ, অামাদের কাছে নিয়মিত যেসব রোগী অাসে সেখানে অামরা দেখি টাক রোগীর সংখ্যা বিরাট। অামাদের শরীরে এমন একটা হরমোন অাছে ( ডিএসটি হরমোন) যেটা অাল্লাহর দেওয়া নিয়মে প্রতিনিয়ত কনভার্টেড হচ্ছে। বংশগত কারণে বা জ্বীনগত কারণে একটা শক্ত পদার্থ চুলের গোড়ায় জমে। ফলে চুল নিউট্রিশন নিতে বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে চুলটা এক সময় ছোট হয়, চিকন হয়। এক পর্যায়ে দেখা যায় সেটা ছোট লোম লোম হয়ে যায়। একপর্যায়ে ডিএসটি হরমোনের প্রভাবে লোমটাও পড়ে যায়। এটাকে বলা যায় বংশগত টাক। বংশগত টাক সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অামার বাবার মাথায় ভাল চুল অাছে, তাই বলে অামার মাথায়ও ভাল চুল থাকবে তা না। বা অামার বাবার মাথায় টাক বলে অামারও টাক হবে তাও না।

সাংবাদিক: কী ধরণের খাবার খেলে চুলের বংশবৃদ্ধি হবে? চুল সুস্থ থাকবে?

ডা. জাহিদ পারভেজ: অামি অাগেই বলেছি চুল পড়ার প্রধান কারণের মধ্যে ডিএসটি হরমোন অন্যতম। এখনকার গবেষণায় দেখা গেছে অামরা যে চীনা বাদাম খাই, সেই বাদাম ভাঙ্গার পর একটা হালকা লেয়ার থাকে। এটা অামরা ফেলে দিই। অথচ এটা ডিএসটি ইনহেবিটর হিসেবে কাজ করে ন্যাচারালি। পাশাপাশি অনেকেরই কাচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস অাছে। পরিমিত মাত্রায় ছোলা খেলে খুব উপকার হয়। এর পাশাপাশি সবুজ শাক সবজি, মাছ মাংস, সুস্বাদু খাবার সুস্থ চুলের জন্য কার্যকর।

সাংবাদিক: অনেক সময় অনেক রোগী দেখা যায় যাদের চুল জায়গায় জায়গায় খোপ খোপ হয়ে পড়ে গেছে। এটি কেন হয়?

ডা. জাহিদ পারভেজ: জায়গায় জায়গায় চুল না থাকা এটা হঠাৎ করেও হতে পারে। এক রাতের মধ্যেও পড়ে যেতে পারে। এটা একটা ডিজিজ। এটা চিকিৎসা ছাড়াও নিজে নিজে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। সাধারণ কিছু চিকিৎসা অাছে। যেমন উচ্চ মাত্রার স্টেরোয়েড ক্রীম। এটা অামরা দিয়ে থাকি।

সাংবাদিক: চুল পড়া চিকিৎসায় সাধারণত কী ধরনের পরীক্ষা করেন?

ডা. জাহিদ পারভেজ: সাধারণত রক্ত পরীক্ষা দিই। হিমোগ্লোবিন টেস্ট। অামাদের দেশে মেয়েদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব কম থাকে। যা চুল পড়ার খুব বড় কারণ। পাশাপাশি অাজকাল যেটা পাই ভিটামিন `ডি` ডেফিসিয়েন্সি। চুল ধরে রাখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেসব রোগী অামাদের কাছে অাসে পরীক্ষা করলে দেখা যায় শতকরা ৮৫ ভাগ রোগী ভিটামিন `ডি`- এর অভাবে ভুগছে। পাশাপাশি অামরা থাইরয়েড হরমোন চেকঅাপ করে থাকি। ব্লাড সুগারটা দেখি। ডায়াবেটিসের ভূমিকাও থাকে। এছাড়া চুলের কন্ডিশন, স্কাল্পের কন্ডিশন দেখি। বয়স অনুযায়ী চুলের অনুপাত ঠিক অাছে কিনা, ফাঙ্গাস ঠিক অাছে কিনা মূলত এসব পরীক্ষা করা হয়।

সাংবাদিক: কীভাবে চুল পড়া রোধ করা যায়?

ডা. জাহিদ পারভেজ: চুল পড়া রোধে ডায়েট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রচুর শাক সবজি ও ফলমূলের পাশাপাশি বায়োটিন নামে একটা ওষুধ খেলে চুল পড়া কমে যাবে ও চুলের গ্রোথ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি অায়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অামরা নিতে পারি।

সাংবাদিক: বিভিন্ন বিউটি পার্লারে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ভেঙ্গে চুলে মেখে দিতে দেখা যায়। এটা চুলের জন্য কেমন কার্যকর?

ডা. জাহিদ পারভেজ: একটা সময় ধারণা ছিল ভিটামিন `ই`- এর একটা বড় রোল অাছে। কিন্তু যতোই দিন যাচ্ছে গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন `ই` চুলের চেয়ে স্কিন ও মানুষের শারীরিক কিছু ফিজিক্যাল ফিটনেসের ক্ষেত্রে বেশী কাজ দেয়। চুল পড়া রোধে ভিটামিন ` ই` খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। স্কাল্পে ভিটামিন ` ই` ম্যাসাজ করলে যে চুলের গ্রোথ বাড়বে তা কোনদিন সম্ভব নয়।

সাংবাদিক: চুল পড়ে যাওয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কেমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?

ডা. জাহিদ পারভেজ: বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একটা তরুণের চিকিৎসা ও একজন বয়স্ক রোগীর চিকিৎসা এক রকম নয়। অালাদা রকমের থেরাপী দেওয়া হয়। পাশিপাশি মেডিকেটেড শ্যাম্পু, পুষ্টিকর খাবার এসবকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। একবারেই যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যেটা করে থাকি সেটা হলো ট্রান্সপ্লান্ট। অর্থাৎ চুল প্রতিস্থাপন।

সাংবাদিক: চুল পড়ার অাধুনিক চিকিৎসা বলতে অামরা কী বুঝব?

ডা. জাহিদ পারভেজ: অাধুনিক চিকিৎসা বলতে অামরা বুঝব পিঅারপি থেরাপীর কথা। এই থেরাপী বেশ কার্যকর।

সংগৃহিত

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি