‘প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের অনেক বিরোধ পরিকল্পিত’

  বাহরাম খান

০২ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে মাঠ প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, কোনো মানুষ যেন খাবারের অভাবে না থাকে। সবাই যখন সাধারণ ছুটিতে ঘরে থেকেছে তখন ত্রাণ বিতরণে মাঠ প্রশাসন যেভাবে কাজ করেছে তা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন। মাঠ প্রশাসনে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসংক্রান্ত ক্ষোভের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। বাহরাম খানের নেওয়া সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হল:

করোনার দ্বিতীয় দফা ধাক্কার প্রস্তুতি সম্পর্কে ইউসুফ হারুন বলেন, ‘আমরা তো এখনো করোনার মধ্যেই আছি। সেখানে দ্বিতীয় ধাপে নতুন বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না জানি না। তবে করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। এখনো বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।’

মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আইন মানার ওপর গুরুত্বারোপ করে সচিব বলেন, ‘দুই জায়গা থেকেই দায়িত্বপূর্ণ হতে হবে। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে যেমন আইনের মধ্যে থাকতে হয়, তেমনি জনপ্রতিনিধিকেও। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি নষ্ট করতে কেউ কেউ পরিকল্পিতভাবে বিরোধ সৃষ্টি করে। কিছু স্বার্থান্বেষী আছে যারা মনে করে বিরোধ তৈরি করলে তারা এর সুবিধা পাবে। কর্মকর্তাদের সব সময় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার নির্দেশ দিই আমরা। অবশ্য দুই-একটি ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক থাকে না। দেখা যায় জনপ্রতিনিধিরা আইনের বাইরে চলে আসেন। আবার অনেক সময় কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহ এবং অভিজ্ঞতার অভাবে হয়তো জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।’

উদাহরণ দিয়ে শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমার চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের ছোট। কিন্তু আমি তাঁকে স্যার বলি, যথাযথ শ্রদ্ধা করি। তিনি জনগণের প্রতিনিধি। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বড় একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। বয়স যা-ই হোক, আমি তাঁকে সম্মান করব, এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনিও সচিব হিসেবে আমাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলেন। এই বিষয়গুলো উভয় জায়গা থেকে চর্চা হলে সমস্যা হয় না।’

প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসংক্রান্ত ক্ষোভের বিষয়ে জনপ্রশাসনসচিব বলেন, ‘অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু টেকনিক্যাল ক্যাডার হিসেবে ঢুকলে একজন কর্মকর্তা কোন পর্যন্ত কী হতে পারবেন সেটা তো তাঁদের আগে থেকেই জানা। এ ছাড়া চাকরির শুরুতে আমরা এক হাজার মার্কের পরীক্ষা দিয়ে ঢুকেছি। টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা দিয়েছেন পাঁচ শ মার্কের পরীক্ষা। আবার ওই এক হাজার মার্কের পরীক্ষা দিয়ে কিন্তু অনেক চিকিৎসক, প্রকৌশলীও আমাদের সার্ভিসে এসেছেন। এখন চিকিৎসা বিষয় বাদ দিয়ে সাধারণ বিসিএসের মাধ্যমে আমাদের সার্ভিসে এলে তো বাধা ছিল না।’

এও-পিওদের দাবির বিষয়ে সচিব বলেন, ‘একজন এও-পিও উপসচিব পর্যন্ত হতে পারেন। তাঁদের প্রতি আমরা ইতিবাচকভাবেই পদক্ষেপ নিই। প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে সচিবালয় ক্যাডার যখন মার্জ হয়েছিল তখন একটা আনুপাতিক হার তাঁদের দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তাঁদের জন্য সংরক্ষিত পদগুলোও দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আইনসঙ্গতভাবে যা পাওনা আছে তা দিতে আমাদের বাধা নেই। তবে আইনের বাইরে এসে, জিম্মি করে কিছু পাবেন সেটা সম্ভব হবে না।’

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে ইউসুফ হারুন বলেন, ‘জনপ্রশাসনে ছয় হাজারের বেশি কর্মকর্তা আছেন। এখানে দুই-একজন অপরাধে যুক্ত হতে পারেন। অপরাধ করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিই, কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। জামালপুরের ডিসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমরা পিএসসিতে পাঠাব। পিএসসির মতামতের পর তা প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে।’

জনপ্রশাসনসচিব বলেন, দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সরকারের চিন্তা চলছিল ব্যবস্থাপনা হবে কিভাবে। তবে ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে। আর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসন ঐকান্তিকভাবে কাজ করেছে।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ