কৃষি বিলের বিরোধিতা, ইন্ডিয়া গেটে আগুনে পুড়ল ট্র্যাক্টর

  ইন্ডিয়া টাইমস

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

সোমবার সকালে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল একটি ট্র্যাক্টরে। চারপাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে রাজধানী দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান ইন্ডিয়া গেটের সামনে দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলতে থাকে ট্র্যাক্টরটি। কৃষি বিলের বিরোধিতায় প্রতিবাদ প্রদর্শন করেই এই ট্র্যাক্টরটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল কর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়া ট্র্যাক্টরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। রবিবার তিনটি বিলে স্বাক্ষর করে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এর আগের রবিবার সংসদে পাশ হয় বিল তিনটি। এই বিলের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিশেষ করে পঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরা বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করে তুলেছেন।

রক্তে লেখা পোস্টার-জোটবদ্ধ প্রতিবাদ! বাংলা বলল, 'এই কৃষিবিল মানি না'...

সোমবার সকালে ৭.১৫ থেকে ৭.৩০-এর মধ্যে মধ্য দিল্লিতে জড়ো হন ১৫ থেকে ২০ জন বিক্ষোভকারী। একটি পুরনো ট্র্যাক্টরে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী কংগ্রেসের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিলেন ওই বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনায় যুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরেই কৃষি বিলের বিরোধিতায় উত্তপ্ত পঞ্জাব ও হরিয়ানা।

কেন্দ্রের কৃষি বিল বিতর্কের মূলে এমএসপি। বর্তমানে ২২টি কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেয় সরকার। রাজ্য নিয়ন্ত্রিত এপিএমসি মান্ডিতে সরকার নির্ধারিত এই দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারেন চাষিরা। এর ফলে চাষে ক্ষতি হলে বা অতি উৎপাদনে বাজারে দাম কমলেও সরকার নির্ধারিত নিশ্চিত মূল্য পান চাষিরা।

সরকারের বক্তব্য, নয়া আইনেও এমএসপি বাতিল হচ্ছে না। এমএসপি-র পাশাপাশি চাষিদের জন্য কর্পোরেট সংস্থার কাছে ফসল বিক্রির দরজাও খুলে দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে চাষিদের দরকষাকষি করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ থাকবে। মধ্যস্থতাকারীদের দাপট কমবে, চাষিরা সরাসরি বিক্রির সুযোগ পাবেন।

তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত তিনটি কৃষি বিলে রবিবার স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এমনই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এএনআই। ফলে এই তিনটি বিতর্কিত বিল আইনে পরিণত হল। পরবর্তী পর্যায়ে এটি শুধুমাত্র গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে সরকারকে।

যদিও দেশের অধিকাংশ কৃষক এবং কৃষক সংগঠনের আশঙ্কা অন্যত্র। 

তাদের বক্তব্য, সরকারের ভোট পাওয়ার দায়বদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু বড় কর্পোরেট সংস্থার তা নেই। ফলে, উৎপাদনে ক্ষতি হলে বা বাজারে দাম কম থাকলেও সরকার যথাযথ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেয়। বাজারকে উন্মুক্ত করে দিলে দর কষাকষির উপরই দাম নির্ভর করবে। আর বড় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে গ্রামের ছোট চাষিদের দর কষাকষির ক্ষমতা সামান্য। যাঁর কাছে কম দামে পাবে, কর্পোরেট সংস্থা তার থেকে কিনবে। বাকিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ