বয়সে অর্ধেক পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে, নিঃসঙ্গতা কাটল ৭২-এর বৃদ্ধের!

  হিন্দুস্তান টাইমস

১৩ আগস্ট ২০২০, ১০:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

চুলে পাক। দুর্বল দৃষ্টিশক্তি। স্মৃতি লোপ পাওয়া। ৭০ পেরনোর পর থেকে এমন সব উপসর্গ দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক। নতুন কিছু ভাবা, নতুন কিছু করা- এই ভাবনাকে গুটিয়ে রেখে তখন কোনওমতে বেঁচে থাকতেই চান প্রবীণরা। অনেককেই একসময় নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতে মানিয়ে নিতে হয়। তবে আর সবার মতো পরিস্থিতির কাছে মাথা নত করলেন না ভারতের পশ্চিমবাংলার শ্রীরামপুরের বড়বাগানের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।

২২ বছর রিষড়ার বিধানচন্দ্র কলেজে বাংলা পড়িয়ে ২০০৮ সালে অবসর নেন সমরেন্দ্রবাবু। এখন তিনি পূর্ব বর্ধমানের কালনার এক বেসরকারি বিএড কলেজের অধ্যক্ষ। অনেকদিন আগেই স্ত্রী মারা গিয়েছেন। মেয়ে থাকেন বিদেশে। নিঃসঙ্গ জীবনের টানাপোড়েন আরও প্রকট হয়ে ওঠে লকডাউনের বেলায়। সাতপাঁচ না ভেবে ঠিক করেন বিয়ে করবেন। মাসখানেক আগে সংবাদপত্রে পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন।

ও দিকে, এক আত্মীয়ের কাছ থেকে এমন প্রস্তাবের কথা জানতে পেরে সমরেন্দ্রবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন রিষড়ার বাসিন্দা বছর ছত্রিশের ইরা রায়। বলছিলেন, ‘‌বাবা প্রয়াত। মাকে নিয়ে অনটনের সংসার সামলাতে গিয়ে বিয়ের কথা ভাবতে পারিনি। এতদিনে পারলাম।’‌ চার হাত এক হল। বাহাত্তের সমরেন্দ্রবাবু তাঁর অর্ধেক বয়সের ইরাদেবীকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন ২৭ জুলাই। সোমবার, ১০ অগস্ট ‌নিজের ফ্ল্যাটে সামাজিক বিয়ে সারেন সমরেন্দ্রবাবু। তবে কোনও পুরোহিত ডেকে নয়, সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ করে বিয়ে দিলেন কবি মীনা রায়।

সমাজের নীতি–পুলিশগিরিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন জীবন শুরু করলেন সমরেন্দ্র ও ইরা।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ