করোনায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে নিউইয়র্ক ও লুইজিয়ানায়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৪১

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী কোভিড-১৯-এর তাণ্ডব শুরু হওয়ার পর প্রাণঘাতী এ রোগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য।

শুক্রবার উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের এ দুটি অঙ্গরাজ্যে ৬০০ শতাধিক মানুষ করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ১০০ পেরিয়ে গেছে। আক্রান্ত পৌঁছেছে পৌনে ৩ লাখে।

বিপুল পরিমাণ আক্রান্তের চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীর চাপে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউ অরলিয়ন্সের মতো বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা সংবলিত শহরগুলোর স্বাস্থ্য কাঠামোও ভেঙে পড়তে বসেছে, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, শহরগুলোর মেয়র ও চিকিৎসকরা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সামনের কাতারে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সুরক্ষা উপকরণের জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন; গুরুতর অসুস্থদের জন্য ভেন্টিলেটরের ঘাটতির কথাও বারবার বলছেন তারা।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে থাকা এসব উপকরণের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে আসায়, অঙ্গরাজ্যগুলো এখন বিভিন্ন উৎস থেকে চড়া দামে এগুলো কিনতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশই নিউ ইয়র্ক শহরের। শহরটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো বলেছেন, ভাইরাসের ছোবলের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলো এখনো সামনে বলে আশঙ্কা তার।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ নাগরিকদের কাপড়ের মাস্ক পরার পরামর্শ দিলেও এটি পুরোপুরিই ঐচ্ছিক। কেউ চাইলে পরতে পারে, নাও পারে। আমি না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

দেশটির অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও করোনাভাইরাস নিউইয়র্কজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উত্তর-পূর্ব এ রাজ্যটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, হাসপাতাল শয্যার অভাবে তারা গুরুতর সব রোগীকেও চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেন না।

শুক্রবার লুইজিয়ানায় মৃতের সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পর গভর্নর জন বেল এডওয়ার্ড বাসিন্দাদের ঘরবন্দি থাকার নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন। দক্ষিণপূর্ব এ অঙ্গরাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও ১০ হাজার পেরিয়ে গেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণের বিস্তার রোধে মৃতপ্রায় রোগীদের কাছে স্বজনদের যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেককেই মৃত্যুর আগের কষ্টকর কয়েক ঘণ্টা একাকি কাটাতে হচ্ছে।

রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়া নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলোর বাইরে টাঙানো হয়েছে তাঁবু।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ