পুলিসকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

ফের ৮৪’র দাঙ্গা হতে দেওয়া যায় না, ক্ষুব্ধ দিল্লি হাইকোর্ট

  বর্তমান

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

হাঙ্গামা, ভাঙচুর, আগুন, গুলি, মৃত্যুমিছিল। হিংসায় কেন লাগাম নেই, দিল্লি পুলিস কী করছে? এই প্রশ্নে বুধবার জোড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়ল রাজধানীর পুলিস বাহিনী। একদিকে দিল্লি হাইকোর্টের কড়া ধমক, আমরা আরও একটা ১৯৮৪ (শিখ বিরোধী দাঙ্গা) ঘটতে দিতে পারি না। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা, পুলিসের দিক থেকে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। কেউ যদি প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে, পুলিসকে ব্যবস্থা নিতে হবে। দিল্লি পুলিসের বিড়ম্বনার সূত্রপাত অবশ্য গতকাল মধ্যরাতে। একটি আবেদনের ভিত্তিতে রাত সাড়ে বারোটায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয় হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধরের বাসভবনে।

এক আইনজীবী ফোনে জানিয়েছিলেন, বাইরের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, বেশ কিছু জখমকে বড় হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। তার ভিত্তিতেই হাইকোর্ট মধ্যরাতের এই জরুরি শুনানিতে নির্দেশ দেয়, জখমদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পৌঁছে দিতে হবে। নির্দেশ মেনে জখমদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এদিন অবশ্য পুলিসের প্রশংসাই করে হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ। তবে রাজধানীর বুকে হিংসার এইসব ঘটনায় আদালত যে ক্ষুব্ধ, তাও ঠারেঠোরে জানিয়ে দেয়। পুলিসকে হাইকোর্টের নির্দেশ, বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য তিন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর ও প্রবেশ ভার্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এফআইআরে বিলম্ব নিয়ে আদালত এদিন খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশও করল। হাইকোর্টের পাশাপাশি এদিন সুপ্রিম কোর্টেও দিল্লি পুলিসকে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, কেউ প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখলে পুলিসকে ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারও অনুমতির জন্য অপেক্ষা না করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিন হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চের সাফ বক্তব্য, ‘ না, আমাদের আরও একটা ১৯৮৪ ঘটতে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে আদালত ও আপনাদের (দিল্লি পুলিস) চোখের সামনে। আমাদের খুবই সতর্ক হতে হবে।’ পাশাপাশি বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের বিদ্বেষমূলক ভাষণের ইস্যুতেও এদিন শুনানি চলাকালীন নাটক চরমে ওঠে। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা ও ডেপুটি পুলিস কমিশনার (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) রাজেশ দেওয়ের কাছে হাইকোর্ট জানতে চায়, তাঁরা কপিল মিশ্রের ওই ভিডিও ক্লিপ দেখেছেন কি না।

মেহতা জানান, তিনি দেখেননি। দেও জানান, বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর ও প্রবেশ ভার্মার ভিডিও তিনি দেখেছেন। কিন্তু কপিল মিশ্রেরটি তিনি দেখেননি। এই কথা শোনার পর বিচারপতি মুরলীধর বলেন, দিল্লি পুলিসের কাজ দেখে আমি সত্যিই অবাক।

এরপরই আদালতের কক্ষে কপিল মিশ্রের ওই ভিডিওটি চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। মেহতাকে হাইকোর্টের নির্দেশ, তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য পুলিস কমিশনারকে পরামর্শ দিন। উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ও গ্রেপ্তারির আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টের এদিনের শুনানি ছিল। যদিও এবিষয়ে তুষার মেহতার বক্তব্য ছিল, এখন কোনও সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে। উল্টোদিকে দিল্লি সরকারের আইনজীবী রাহুল মেহরা বলেন, এই নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করার কোনও কারণ নেই। হিংসায় জড়িত সবার বিরুদ্ধেই এফআইআর করতে হবে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ