দিল্লিতে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩৯ | আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৫৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মধ্যে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত রবিবার সংঘাত শুরুর পর থেকে এই তিন দিনে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২০ জন নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান উভয়েই রয়েছে।

দফায় দফায় সংঘর্ষে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল দিল্লির মুসলমান অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল। দিল্লিতে এমন সহিংসতা গত কয়েক দশকেও দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার কয়েকটি এলাকায় সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিতর্কিত সিএএ আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান নিয়ে টানা দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন নারীরা। ওই অবস্থানের কারণে বন্ধ হওয়া সড়ক কর্তৃপক্ষ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে জাফরাবাদ মেট্রোস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জবাবে পরদিন (রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মৌজপুর চকে সিএএ সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও পরস্পরের দিকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সিএএ নিয়ে সোমবার শুরু হয় সংঘাত। পরে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আরও সহিংস হয়। 

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের দফতরে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। পরে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সিলামপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরী চক প্রভৃতি জায়গাও পরিদর্শন করেন অজিত ডোভাল । 

ভারতের রাজধানীতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ছিলেন আইপিএস অফিসার এসএন শ্রীবাস্তব। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার পর মঙ্গলবার তাকে বিশেষ পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারপরও সেখান থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর আসে।

এক আদেশে গত তিন দিনে রাজধানীর সহিংসতায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও জন সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন দিল্লির হাইকোর্ট।

এর আগে সোমবার ওই সহিংসতা আরও জোরালো হয়ে উঠলে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত চার জন নিহত হয়। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে আবারও সহিংসতা শুরু হয়। ভজনপুর এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরের দিকে তেড়ে যায়। পুলিশি উপস্থিতির অবহেলা সহিংসতা আরও খারাপ করে তোলে। চান্দবাগ এলাকায় পর্যাপ্ত সদস্য না থাকায় সহিংসতা ঠেকাতে এগিয়ে যায়নি পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আর কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিল্লির সঙ্গে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যের সীমান্ত পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ