চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১০:২৩

নতুন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনে এ পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। 

আজ রবিবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহানে প্রথম ফ্লু টাইপের এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এমন এক সময় এই ভাইরাসটি দেখা দিল যখন চীন নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নববর্ষের ছুটিতে চীনের কোটি কোটি মানুষ দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরতে যায়। সারাদেশেই উৎসবের পরিস্থিতি বিরাজ করে।

এমন অবস্থায় এই ভাইরাস আরও বেশি ছড়িয়ে পরতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সে কারণে নববর্ষের অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করায় চীনা কর্তৃপক্ষ উহান থেকে চলাচলকারী সকল যানবহন বন্ধ ঘোষণা করেছে। হুবেই প্রদেশে ভ্রমণে কড়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার।

উহানে রবিবার থেকেই প্রাইভেট যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তারের আশঙ্কায় এ শহরের বাসিন্দাদের অন্য কোথাও চলে যাওয়া কিংবা শহরে কাউকে আসতে দেয়াও হচ্ছে না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে দুটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। উহানে ইতোমধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওই বৈঠকে তিনি বলেছেন, ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে চীন।

চীনে প্রাদুর্ভাব ঘটলেও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রেও লোকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

চীনে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনলাইনে একটি ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা গেছে যে, আমি এই শহরে আছি যেখান থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। আমি এখানে সত্যি বলতে এসেছি। এই মুহূর্তে উহান শহরসহ হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ৯০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউটিউবে ওই নারীর এই ভিডিওটি প্রায় বিশ লাখ বার দেখা হয়েছে। তিনি ওই ভিডিওতে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আমি সবাইকে বলতে চাই যারা এই ভিডিও দেখছেন তারা দয়া করে বাইরে বের হবেন না। কোনো পার্টি করবেন না। বাইরে কিছু খাবেন না। এক বছর পর আমরা নববর্ষ পালন করতে পারব। যদি আপনারা এখন নিরাপদ থাকেন তবে আগামী বছর আপনারা আপনাদের পরিবারের সঙ্গে সুস্থভাবে আগামী বছর মিলিত হতে পারবেন।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো হলো জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। সেভার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ঘরানার এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে।

সেক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কি-না তা এখনও অজানা। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক। সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের লক্ষণ থেকে এটি মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্তও নিয়ে যেতে পারে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ