বিতর্কের মধ্যেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করছেন পিটার হান্ডকে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১৪

বিতর্ককে সঙ্গী করেই স্টকহোমে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে চলেছেন পিটার হান্ডকে (৭৭)। সাবেক যুগোশ্লাভিয়ায় যুদ্ধে সার্বিয়াকে সমর্থন করেছিলেন হান্ডকে। সার্বিয়ার সাবেক সর্বময় নেতা স্লোভোদান মিলোসেভিচকে সমর্থনের করার কারণে বলকানরা নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্তকে কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভামঞ্চ যখন ১২০০’র বেশি বিশেষ অতিথির উপস্থিতিতে ঝলমল করছে, সুইডেনের রাজার হাত থেকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের জমক উৎসবের মাত্রাকে যখন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, বাইরে তখন বিক্ষোভের ঝড় সামলানোর জন্যও প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে সুইডিশ প্রশাসনকে। আসলে পিটারের রাজনৈতিক দর্শন প্রশ্নের মুখে পড়ার মূল কারণ হল তার উপন্যাসের পটভূমি যুগোস্লাভ যুদ্ধ। নব্বইয়ের দশকে বসনিয়া যুদ্ধে সার্বদের সমর্থন করার কারণে অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে উঠেছিলেন হান্ডকে। বসনিয়ার যুদ্ধে সার্বিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট স্লোভোদান মিলোসেভিচের নেতৃত্বে সার্ব বাহিনী ১৯৯৫ সালের ১১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার স্রেব্রেনিৎসা শহরের আট হাজারের বেশি মুসলিম পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। মহিলাদের বন্দিশিবিরে রেখে ধর্ষণ করা হয়। পিটার হান্ডকে সেই যুদ্ধাপরাধী স্লোভোদান মিলোসেভিচেরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ। 

২০০৬ সালে মিলোসেভিচকে সমাহিত করার অনুষ্ঠানে হান্ডকে বক্তব্যও রেখেছিলেন। একবার তিনি স্রেব্রেনিৎসায় গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে সার্বিয়ার ভাগ্যকে ইহুদিদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও অস্ট্রিয়ার এই সাহিত্যিক পরে ওই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছে।’ তবু, তা বলকানদের ক্ষোভে মলম দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। হান্ডকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ‘আ জার্নি টু দ্য রিভারস: জাস্টিস ফর সার্বিয়া’ বইতে (১৯৯৭) তিনি সার্বদের যুদ্ধাপরাধকে খাটো করে দেখিয়েছেন। হান্ডকে ইস্যুই শুধুমাত্র নোবেল কমিটির কাছে মাথাব্যথার কারণ নয়। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় সাহিত্যে গতবারের নোবেলজয়ী পোল্যান্ডের ওলগা তোকারচুককে পুরস্কৃত করা যায়নি। এবার হান্ডকের সঙ্গে তাঁর হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাই, সব মিলিয়ে বেশ অস্বস্তিতে উদ্যোক্তারা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ