'পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব': জোসেপ বোরেল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০৯

২০১৫ সালে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা অর্জনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমেরিকা গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপ পরমাণু সমঝোতায় দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক নতুন প্রধান জোসেপ বোরেল দায়িত্ব নেয়ার পরপরই পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় প্রচেষ্টা চালাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন কেননা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে রক্ষায় সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। একইসঙ্গে তিনি এই সমঝোতা রক্ষায় সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক নতুন প্রধানের গুরুত্বারোপ করা থেকে দায়িত্ব পালনের আগেই এ ব্যাপারে তার অবস্থানের বিষয়টি ফুটে ওঠে। তিনি স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিতি এবং বহুবার আমেরিকার স্বেচ্ছাচারী নীতির সমালোচনা করেছেন। জোসেপ বোরেল প্রায় দুই মাস আগে অর্থাৎ ৭ অক্টোবর পরমাণু সমঝোতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইউরোপের নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা এবং যেকোনো উত্তেজনা ঠেকানোর জন্য উচিত পরমাণু সমঝোতাকে রক্ষা করা। তিনি বলেন, "পরমাণু সমঝোতা রক্ষার জন্য ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এই মহাদেশটির অস্তিত্বের জন্যই জরুরি।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতার গুরুত্বের বিষয়টি উপলব্ধি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক নতুন প্রধানের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তিনি এটিকে রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন। আমেরিকা গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন 'ইন্সটেক্স' ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীতির বিরোধিতা করলেও ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক নতুন প্রধান পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় আন্তরিক এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাতকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে তিনি বলেছিলেন, ইরান এখন পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেনি বরং ট্রাম্পই পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষার জন্য ইউরোপ সব রকম চেষ্টা চালাবে।

যাইহোক, ইউরোপের উচিত ইরানকে হুমকি দেয়ার পরিবর্তে পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় যতদ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাতে ইরান ফের পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ