মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয়ে মোরালেস

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৫৭ | আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০১

বলিভিয়ার সদ্য পদত্যাগ করা প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস দেশ ছেড়েছেন। প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

বামপন্থিদের দুর্গে রূপ নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির সরকার কূটনৈতিকভাবে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের বামপন্থি নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে।

টুইটারে মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্দ বলেন, ‘নিরাপদে আসার জন্য ইভো মোরালেস আমাদের সরকারি বিমানে উঠেছেন। তিনি মেক্সিকো আসছেন।’

ক্ষমতাসীন জোটের কয়েকটি দল সরে দাঁড়ালে এবং সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে গত রোববার মোরালেস সরকারের পতন হয়। গত ২০ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, এমন দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ১৪ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আদিবাসী ও বামপন্থী নেতা ইভো মোরালেস। ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গার্সিয়া লিনেরা ও সিনেট প্রেসিডেন্ট আদ্রিয়ানা সালভাতিয়েরা আগেই সরে দাঁড়ান। 

গত রবিবার নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস জানায়, ২০ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটি ওই নির্বাচনের ফল বাতিলের আহ্বান জানায়।

মোরালেস এতে সম্মতি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার কথা বললেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, সেনাবাহিনী ও পুলিশপ্রধানরা তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।

২০০৬ সাল থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা দেশটির প্রথম আদিবাসী নেতা মোরালেস গত অক্টোবরে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন। কোনো ব্যক্তি তিনবারের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হতে পারবেন না, এমন আইন ছিল বলিভিয়ায়। ২০১৬ সালে সাংবিধানিক আদালতের বিতর্কিত রায়ে ওই নির্দেশনা তুলে দেওয়া হয়। প্রার্থী হন মোরালেস। ভোট শেষে ফল গণনা শুরু হলে ২৪ ঘণ্টার জন্য তা স্থগিত করা হয়। পরে প্রতিপক্ষ দলীয় প্রার্থীর চেয়ে ১০ শতাংশের মতো বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন মোরালেস। 

নির্বাচনের পরপর শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকধারী বেশ কিছু লোকও সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ