ভারতের অযোধ্যা মামলার রায় আজ, কড়া নিরাপত্তা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৭ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৬

আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে ভারতের আলোচিত অযোধ্যা মামলার রায়। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এদিকে এ মামলায় রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা।

রায়ের পর যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য ভারতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সব রাজ্যে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গতরাতেই লাখেনৌতে শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকবেলায় লাখ্নৌতে দুটি এবং অযোধ্যায় একটি হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অযোধ্যার আশপাশের গ্রামগুলোতে উড়তে শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ ড্রোন। ৩০টি বম্ব স্কোয়াড চলে গেছে আরো আগেই। অযোধ্যার অধিকাংশ এলাকায় ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত জারি রাখা হবে ১৪৪ ধারাও।

রায় ঘোষণার আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় চার বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধান বিচারপতি। তার পরই মামলার রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভারতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলোচিত এ মামলা রায়কে ঘিরে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

এদিকে আগামী ১৭ নভেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেয়ার আগে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান তিনি। সেই অনুযায়ী তার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং ৪০ দিন শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রাখেন।

এছাড়া রায়কে কেন্দ্র করে কোনো রকম অশান্তির পরিবেশ যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে হিন্দু-মুসলিম দু’পক্ষের সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকল রাজ্যগুলোকে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে দুটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ধূলিসাৎ করে। তাদের দাবি, হিন্দুদের ভগবান রামচন্দ্র’র জন্মস্থানে থাকা মন্দির ভেঙে সেই কাঠামোর ওপর ১৫২৮ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের সৈন্যরা বাবরি মসজিদ গড়ে তুলেছিল। তাই সেটি ভেঙে ফেলতে হবে। 

কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা ষোড়শ শতকে নির্মিত ওই মসজিদটি ভেঙে ফেললে ভারত জুড়ে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দিয়েছিল। অযোধ্যার ২ দশমিক ৭৭ একর জমির মালিকানা সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া না ভগবান রামচন্দ্রর (রাম লালা) হবে তারপর থেকে সেই নিয়ে শুরু হয় বিবাদ।

উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০১০ সালে বিতর্কিত ওই জমি বিবদমান তিন পক্ষকে সমানভাবে ভাগ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু হাইকোর্টের সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ হয় সুপ্রিম কোর্টে। ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর আগে টানা শুনানির নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, অবসরের আগেই তিনি এই বিবাদের মীমাংসা করে যাবেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ