চীনে ভিডিও গেমে আসক্তি ঠেকাতে কারফিউ জারি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১১

চীনের সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন গেম খেলার ওপর কারফিউ জারি করেছে। বুধবার সরকার এ ঘোষণা দেয়। ফলে যাদের বয়স ১৮ বছরের কম, তারা রাত দশটা থেকে সকাল আটটার মধ্যে কোনো অনলাইন গেম খেলতে পারবে না। আর সাপ্তাহিক কর্মদিবসে দেড় ঘণ্টার বেশি আর সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্য ছুটির দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি গেম খেলা যাবে না।

ভিডিও গেমে আসক্তি থামাতে চীন সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে। এই আসক্তি শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে বলে মনে করে চীন। চীন বিশ্বে অনলাইন ভিডিও গেমিংয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার।

অনলাইন গেমিংয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের করে সরকারের নতুন নীতিমালায় অপ্রাপ্তবয়স্ককরা গেমিংয়ের পেছনে কত অর্থ ব্যয় করতে পারবে তারও সীমা ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

৮ হতে ১৬ বছর বয়সীরা প্রতি মাসে ২০০ ইউয়ান (২৯ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত খরচ করতে পারবে, আর যাদের বয়স ১৬ হতে ১৮, তারা পারবে এর দ্বিগুণ। ভিডিও গেমিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাবের ব্যাপারে চীনের সরকার বরাবরই সমালোচনামুখর।

২০১৮ সালে চীন সরকার গেমিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে। শিশুদের মধ্যে দৃষ্টিক্ষীণতার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পর সরকার এ পদক্ষেপ নেয়। অতিরিক্ত গেম খেললে এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হয় শিশুদের গেমিং ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের জন্য।

গত বছর চীন একই সঙ্গে নতুন ভিডিও গেম অনুমোদনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ৯ মাসের এ নিষেধাজ্ঞা চীনে ভিডিও গেমিং শিল্পের জন্য ছিল এক বিরাট আঘাত।

বড় বড় ভিডিও গেম কোম্পানিগুলো চীনের এসব পদক্ষেপে ইতিবাচক সাড়া দেয়। তবে কিছু সমস্যা রয়েই গেছে। যেমন বয়স যাচাই কীভাবে করা হবে এবং এসব নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে কিনা, সেটা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে।

এসব সমালোচনার মুখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গেমিং কোম্পানি টেনসেন্ট ১২ বছরের কম বয়সীদের বেলায় এক ঘণ্টার বেশি গেম খেলা যাবে না বলে সময় বেঁধে দেয়। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের বেলায় বেঁধে দেয়া হয় দুই ঘণ্টার সময়সীমা। বয়স যাচাই করার নিয়মও চালু করা হয়।

চীন সরকার এখন যে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, এটি সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বেলায় কার্যকর হবে।

গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলো যদি কোন ব্যবহারকারীর বয়স এবং পরিচয় যাচাই করতে চাই, তারা সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সাহায্য নিয়ে সেটি করতে পারবে।

ভিডিও গেম কতটা ক্ষতিকর
গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম বারের মতো গেমিং-এর আসক্তিকে একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে। এটিকে ‘গেমিং ডিজঅর্ডার’ বলে বর্ণনা করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোচিকিৎসকদের সংগঠন ‘সাইকিয়াট্রি অ্যাসোসিয়েশন’ এখনো এটিকে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বলে স্বীকৃতি দেয়নি, তারা বলছে, এটি নিয়ে আরও গবেষণা দরকার।

তবে কিছু দেশের সরকার অতিরিক্ত গেম খেলাকে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করেছে। অনেক দেশে গেমিংয়ের আসক্তি কমানোর জন্য ক্লিনিকও আছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ