অবশেষে জিব্রাল্টার ছেড়েছে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১০:২৬

টানা দেড় মাসেরও অধিক সময় আটক থাকার পর অবশেষে ইরানি সুপার তেল ট্যাঙ্কার আদরিয়ান দারিয়া-১ জিব্রাল্টার বন্দর ত্যাগ করেছে। ট্যাঙ্কারটি জিব্রাল্টার থেকে পূর্ব দিকে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটির গন্তব্য জানা যায়নি।

এর আগে এই ট্যাঙ্কারটির নাম ছিল গ্রেস-১। পরে পানামার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আদরিয়ান দারিয়া-১। 

জিব্রাল্টার ব্রিটেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ব্রিটিশ নৌবাহিনী গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ২১ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ইরানি ট্যাঙ্কারটি আটক করে। তখন অভিযোগ করা হয়, এসব তেল নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা সিরিয়াতে যাচ্ছিল। এ নিয়ে বেশ উত্তেজনাও দেখা দেয়। তেল রফতানির ক্ষেত্রে ইরানের বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এর পর জিব্রাল্টার আদালত ট্যাঙ্কারটিকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জিব্রাল্টার স্থানীয় সরকারকে অনুরোধ করে। জিব্রাল্টার সরকার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতও বলেছিলেন, গ্রেস-১ রবিবারের পর জিব্রাল্টার ছেড়ে যাবে।

জুলাই মাসের ৪ তারিখে ব্রিটিশ মেরিন সেনাদের সহায়তায় ট্যাঙ্কারটি আটক করে জিব্রাল্টার। ভারত, রাশিয়া, লাটভিয়া এবং ফিলিপাইনের ২৯ ক্রু বিশিষ্ট ট্যাঙ্কারটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে সিরিয়ায় তেল পরিবহন করছে- এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনা যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে এক কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে, যা কিনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যখন ইরান উপসাগরে ব্রিটিশ পতাকাবাহী সুইস মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার- ‘স্টেনা ইম্পেরা’কে আটক করে।

গ্রেস-১ তার পণ্য সিরিয়ায় পরিবহন করবে না- ইরানের কাছ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বছর, যখন ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে করা ২০১৫ সালের একটি চুক্তি থেকে সরে আসে তখন থেকেই শুরু এই টানাপড়েন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তেহরান চুক্তি লঙ্ঘন করে পারমাণবিক কর্মসূচী চালিয়ে আসছে। আর ইরান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।

এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ বলে আসছে যে তারা ইরানের সঙ্গে এ চুক্তিতে এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ