ইরানে সিআইএ’র সন্দেহভাজন ১৭ গুপ্তচর গ্রেফতার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) হয়ে কাজ করা ১৭ জন গুপ্তচরকে গ্রেফতার করেছে ইরান। তাদের মধ্যে কয়েক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দেশটির তদন্তকারী সংস্থা জানায়, সন্দেহভাজনরা ইরানের পরমাণু, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিল।

ইরানের এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান এবং এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।

গত বছর ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করেন ট্রাম্প এবং দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন প্রশাসন।

সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে উপসাগরীয় এলাকায় দুই দেশ সামরিক দ্বন্দ্বে জড়ানোর উপক্রম হয়েছিল।

গ্রেফতার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার পর পরই ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো ধররের চুক্তিতে যাওয়া ক্রমাগত কষ্টকর হয়ে পড়ছে তার জন্য।’


চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিগত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা ওইসব সন্দেহভাজন গুপ্তচরদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইরানের এক উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত ১৭ জনই ইরানের নাগরিক। তার সামরিক, পরমাণু ক্ষেত্র এবং বেসরকারি সেক্টরের ‘স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোয়’ কাজ করত। তবে তারা সবাই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করত।

তবে তিনি জানাননি যে কতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং সেগুলো কখন হস্তান্তর করা হবে।

‘এই গুপ্তচরদের দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে, এদের মধ্যে কয়েক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে ‘পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টিকারী' হিসেবে (ইরানে এই অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড),’ তদন্তকারী সংস্থার গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের প্রধানের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটা জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ)।

রবিবার দেশটির ইন্টেলিজেন্স মিনিস্টার মাহমুদ আলাভি ‘যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট গুপ্তচর’ বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরির ঘোষণা দেন, যা ইরানের টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।

ইরানের ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি, ওই তথ্যচিত্রের ট্রেইলার নিয়ে একটি সিডি প্রকাশ করেছে; যা গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক বৈঠক এবং আলাভিসহ বেশ কয়েক জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার রয়েছে।

কয়েক জন গুপ্তচর সিআইএ’র আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ‘ভসার ফাঁদে’ পড়েছেন বলে জানান মিস্টার আলাভি। তিনি বলেন, ‘অনেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে এসে গ্রেফতার হন, তাদের মধ্যে অনেকের আগে থেকেই ভিসা ছিল কিন্তু সিআইএ তাদের আবারও ভিসা নবায়ন করতে বলেছিল।’

অন্যদের অর্থ, আকর্ষণীয় চাকরি ও চিকিৎসা সেবার লোভ দেখানো হয়েছিল, বলেন তিনি।

ইরানের প্রেস টিভিতে ‘সআইএ’র নেটওয়ার্ক’ ভেঙে দেয়া নিয়ে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচারিত হয়েছে।

গত মাসে ইরান বলেছিল, সিআইএ’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ককে ভেঙে দিয়েছে তারা। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে, সোমবারের ঘোষণা ওই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কি-না।

ইরানের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব?
বিবিসির প্রতিবেদক কাসরা নাজি বলেন, ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুপ্তচরবৃত্তি দমনে দেশটির এই দাবিকে অনেক পর্যবেক্ষকই বেশ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।

সোমবার ইরানের ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি জানায়, সিআইএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রকে গত মাসে ভেঙে দিয়েছেন তারা।

কিন্তু পরে তারা কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিয়েছে যেখানে বলা হয়, যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের গত বছরেই আটক করা হয়।

অনেকে আবার বলছেন, যে ১৭ জনের কথা বলা হচ্ছে তাদেরকে আসলে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই ইরানের নাগরিক।

ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অনেক বন্দী রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ সময় কেন ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি এ ধরণের ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসছে - ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেফতারের ঘটনা নয় বরং ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি এবং এর প্রতিপক্ষ ইরানের সামরিক বাহিনী রেভ্যুলিউশনারি গার্ডের গোয়েন্দা ইউনিটের মধ্যে রেষারেষিই এর প্রধান কারণ।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ডকু-ড্রামার শেষ পর্বে গোয়েন্দা ইউনিটকে কৃতিত্ব দিয়ে পশ্চিমা গুপ্তচরবৃত্তি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানীর সরকারকে দুর্বল ও অকার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

আর এখন এর জবাবে ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি তাদের নিজেদের বানানো তথ্যচিত্রে দাবি করছে যে, গুপ্তচরবৃত্তিতে তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে যা প্রচার করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ