পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০১৯, ১৫:৫১ | আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ১৯:৫১

ব্রেক্সিট ইস্যুতে এমপির সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা বলেছেন, আগামী ৭ জুন তিনি কনজারভেটিভ নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এর মাধ্যমে তার তিন বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।

শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটা সবসময় আমার জন্য অনুশোচনার বিষয় হয়ে থাকবে যে আমি ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে পারিনি।

ব্যাকবেঞ্চ ১৯২২ কমিটির প্রধান গ্রাহাম ব্রাডলির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ ঘোষণা দেন। তেরেসা পদত্যাগে অস্বীকার জানালে ওই কমিটির তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তার এ পদত্যাগের ঘটনায় দলটিতে নতুন করে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মে বলেন, ৭ জুন কনজারভেটিভ পার্টি ও ইউনিওনিস্ট পার্টির প্রধান থেকে আমি পদত্যাগ করবো।

তিনি বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আসছে সপ্তাহে শুরু হবে।’ 

এতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে এএফপির খবরে বলা হয়েছে।

শুক্রবার নিজের বিবৃতিতে থেরেসা বলেছেন, তিনি না পারলেও তার উত্তরসূরী হয়তো পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতা সৃষ্টি করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরণের সমঝোতা কেবল তখনই সম্ভব যখন বিতর্করত সব পক্ষ আপস করতে রাজি হবে’।

আবেগপূর্ণ ভাষায় থেরেসা বলেন, ‘অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আমার কাজ ছেড়ে দেব কিন্তু যে সম্মান আমি নিয়ে যাচ্ছি তা সারাজীবন ধরে রাখবো। দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলাম কিন্তু অবশ্যই শেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হবো না’। ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি কিছু করিনি।

২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের রায় অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্যাগের কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। এ চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তিন দফায় তা হাউস অব কমন্সে পাস করাতে ব্যর্থ হন। তবে তৃতীয় দফায় চুক্তিটি পার্লামেন্টে তোলার আগে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সমর্থ হন থেরেসা মে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে  নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত সতাতে সফলতা পাননি তিনি।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ