মোদী না অন্য কেউ, অপেক্ষা আর কিছুক্ষণের

  আনন্দবাজার

২৩ মে ২০১৯, ০৯:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গের ঠিকানাতেই কি থাকবেন নরেন্দ্র মোদী? না কি পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অন্য কেউ দখল নেবেন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের? বুথফেরত সমীক্ষার সম্ভাবনাকে পিছনে ফেলে আজ সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার দিন। আজ বেলা যত গড়াবে, ততই স্পষ্ট হয়ে যাবে কার দখলে যাচ্ছে দিল্লির কুর্সি।

সারা দেশ জুড়ে প্রায় দেড় মাস ধরে সাত দফার নির্বাচন শেষে আজ ফল ঘোষণার দিন। নির্বাচন শেষের সন্ধ্যাতেই অবশ্য সামনে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল। সেই ফলাফলের হিসেবে বাকি সবার থেকে বেশ কয়েক যোজন এগিয়ে শাসক এনডিএ জোটই। দেশ জুড়ে ভাল ফল করতে চলেছে বিজেপি, এমনটাই অভিমত পাওয়া গেছে বেশির ভাগ বুথফেরত সমীক্ষাতেই।

বুথফেরত সমীক্ষার এই মেজাজই দেখা যাচ্ছে এনডিএ নেতানেত্রীদের মধ্যে।শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে জোটবদ্ধ থাকার একটা প্রচেষ্টা দেখা গিয়েছে মঙ্গলবারের এনডিএ বৈঠকেই। সূত্রের খবর, সেখানেই মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে একটা ছোট বৈঠকও করে ফেলেছেন নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি একটি বৈঠক সেরেছেন বিদায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমলাদের সঙ্গেও। কোন পথে যাবে তাঁর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার, আগের এনডিএ সরকারের থেকে কতটা আলাদা হবে তাঁর সরকারের নীতি, সেই নকশাও নাকি তৈরি করে ফেলেছেন মোদী-শাহ জুটি। নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার জন্য দেশের জনতাকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে দিয়েছেন বিদায়ী সরকারের বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও।

বুথফেরত সমীক্ষার ফল সামনে আসার পর শাসক দলের মধ্যে আবেগে ভাসার প্রবণতা দেখা দিলেও কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করতে বিরোধীদের মধ্যে তৎপরতার কোনও  অভাব নেই। ভোট শেষ হওয়ার পরই ইভিএম কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ তৈরি করে স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার ডাক দিয়ে তাঁরা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হতাশা ঢাকার চেষ্টা করছেন। অন্য দিকে, ফলাফল সামনে আসার পর বিরোধীদের কী কৌশল নেওয়া হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে একের পর এক ম্যারাথন বৈঠক। ভোটের পরই সামনে আসবে মহাজোটের চরিত্র, যার মেরুদণ্ড হবে বিজেপি বিরোধিতা— এই কথা বার বার বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, চন্দ্রবাবু নায়ডু, অখিলেশ যাদব, ফারুক আবদুল্লারা। সেই ভোট পরবর্তী জোটের ছবিই যেন স্পষ্ট হল গত তিন দিনে চন্দ্রবাবু নায়ডু-র গতিবিধিতে।

ভোটের আগেই ভোট পরবর্তী জোট সমীকরণ নিয়ে দৌড়োদৌড়ি শুরু করে দিয়েছিলেন চন্দ্রবাবু। তা যেন আরও তীব্রতা পেল ১৯ মে শেষ দফার ভোটের পরই। সুদূর দক্ষিণ থেকে কখনও কলকাতা, কখনও নয়াদিল্লি, কখনও লখনউ, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে ফেলছেন তিনি। মঙ্গলবারই নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধীদের একজোট করে একটি বৈঠক সেরে ফেলেছেন তিনি। সেই বৈঠকে কংগ্রেস ছাড়াও ছিলেন তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, তেলুগু দেশম, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল সমেত আরও বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। বিজেপি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও যাতে কোনও অতিরিক্ত সুবিধা না পায়, সেই কৌশলের কথাই হয়েছে সেই বৈঠকে, সূত্রের খবর এমনটাই।

বুথফেরত সমীক্ষার ফল আসল ফলাফলের সঙ্গে মিলছে না, এমন ঘটনা যে আকছার ঘটে, তার নিদর্শন আছে অনেক। কিছু দিন আগেই অস্ট্রেলিয়া আর ব্রাজিলে ঘটেছিল এমনই ঘটনা। বুথফেরত সমীক্ষা বলল এক, হয়তো হল আর এক। অনেকে বলছেন ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনের কথা। সেই নির্বাচনেও ক্ষমতায় ফিরবে এনডিএ সরকারই, এমনটাই বলেছিল বুথফেরত সমীক্ষা। যদিও তা মেলেনি। উল্টে তৈরি হয়েছিল মনমোহনের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। এ রকম কিছু হবে, সেই আশাতেই বুক বেঁধে আজ ভোটগণনার দিকে কড়া নজর রাখছে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। নজর রাখছে আমআদমিও।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ