পুতিন-কিম শীর্ষ বৈঠক: কার স্বার্থ কোথায়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১৪

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন শীঘ্রই রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

এই সফরের কোন তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে এপ্রিলের দ্বিতীয় ভাগে এই সাক্ষাৎ হবে।

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে তাদের মধ্যে এই বৈঠক হবে বলে জল্পনা চলছে। দুদেশের অভিন্ন সীমান্ত থেকে এই ভ্লাদিভস্তক বন্দর মাত্র কয়েক ঘন্টার পথ।

কিছুদিন আগে হ্যানয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং আনের সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠক কার্যত ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে এই বৈঠকের আয়োজন চলছে।

তবে এবারের এই শীর্ষ বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনার বিষয় একেবারেই ভিন্ন।

মস্কো-পিয়ং ইয়ং সম্পর্ক

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এরকম সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠক হয়েছে ২০১১ সালে। তখন রাশিয়ার নেতা ছিলেন প্রেসিডেন্ট মেদভিয়েদেফ, তার সঙ্গে বৈঠকটি হয়েছিল কিম জং আনের বাবা কিম জং ইলের।

ভৌগোলিক দিক থেকে রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এরকম বৈঠকের গুরুত্ব আছে। দুদেশের আছে অভিন্ন সীমান্ত, যদিও তা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। আর রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ভ্লাদিভস্তক সেখান থেকে কাছেই।

অন্যদিকে প্রায় আট হাজারের মতো উত্তর কোরীয় অভিবাসী কাজ করে রাশিয়ায়। তবে অনেকের অনুমান, এদের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

তবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যেহেতু জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আছে, তাই এই অভিবাসী কর্মীদের সবাইকে এবছরের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠাতে হবে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন একসময় উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল। উত্তর কোরিয়া তাদের প্রাথমিক পরমাণু প্রযুক্তি পেয়েছিল রাশিয়ার কাছ থেকেই।

তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর এই সম্পর্কে ভাটা পড়ে।

তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যখন রাশিয়ার সম্পর্ক আবার খারাপ হতে শুরু করে, তখন আবার উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। "শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু, এমন এক নীতি নেয় মস্কো", বলছেন সওলের কোকমিন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আন্দ্রে লানকভ।

উত্তর কোরিয়া কী চায়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক যে ভেঙ্গে যাবে, সেটা উত্তর কোরিয়া আশা করেনি। তারা আশা করেছিল, সেখানে কোন একটা আপোষরফা হবে, যার ফলে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হবে।

প্রফেসর লানকভ বলছেন, "আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়াকে বেশ কাবু করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবস্থান না বদলায়, তাহলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে তাদের বাইরের বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ খুঁজতে হবে।"

"এজন্যে পিয়ং ইয়ং যেদেশের সঙ্গেই সুযোগ আছে, সেদেশের সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো করতে চাইবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চাইবে, আমরা একঘরে নই", বলছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির আলেক্সি মুরাভিয়েভ।

রাশিয়া এক্ষেত্রে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প উত্তর কোরিয়ার জন্য।

আলেক্সি মুরাভিয়েভ বলছেন, "এক্ষেত্রে মিস্টার কিমকে এর পূর্ণ কৃতিত্ব দিতে হয়। তিনি কূটনীতির উঁচু দান খেলায় বেশ দক্ষ। নিজের শাসন টিকিয়ে রাখা আর উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তাকে এটা করতে হচ্ছে।"

বিশ্বের দুই বড় বড় শক্তির দ্বন্দ্বকে ব্যবহার করে সেখান থেকে যতটা সম্ভব সুবিধে আদায় করে নেয়া, এটাই উত্তর কোরিয়ার কৌশল।

কাজেই রাশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে সেটা চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্ড হিসেবে খেলতে চান কিম জং আন।

এখানে মস্কোর স্বার্থ কী

প্রেসিডেন্ট পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের সঙ্গে সাক্ষাতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক শুরু হওয়ার পর তাকে যেন সাইডলাইনে বসে এতদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।

হ্যানয় শীর্ষ সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর এখন হয়তো মস্কোর জন্য খেলার মাঠে ফিরে আসার এটাই সুযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মতো রাশিয়ারও অস্বস্তি আছে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রধর দেশ হওয়া নিয়ে।

তবে ওয়াশিংটন যেখানে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত দেখতে চায়, সেখানে মস্কোর লক্ষ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।

এটা রাশিয়ার জন্য একধরণের মান-মর্যাদারও ব্যাপার। তারা দেখাতে চায় যে এই পুরো ইস্যুতে তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি তারা এই সংকট সমাধানে একটা অবদান রাখতে পারে, তাহলে তো কথাই নেই - তারা প্রমাণ করতে পারবে যে এই অঞ্চলে রাশিয়াই প্রধান শক্তি। বিবিসি

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food