নটরডেম ক্যাথেড্রালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৪০ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১০:০১

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নটরডেম ক্যাথেড্রালের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়েছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৪০০ জন কর্মী ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।

ফ্রান্সের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কর্মকর্তা জ্যান ক্লাউড গ্যাললেট জানিয়েছেন, ক্যাথিড্রালের মূল কাঠামো সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর ঘণ্টাধ্বনি টাওয়ারগুলি এক পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে তা নিরাপদ রয়েছে।

তবে আগুনের কারণ এখনো পরিষ্কার না হলেও ভবন সংস্কারের সময় কোনো গোলযোগ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি কর্মকর্তারা। 

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে শোকাভিভূত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক বিবৃতিতে বলেন, আগুনে পুড়ছে নটরডেম ক্যাথেড্রাল। আমাদের পুরো জাতির আবেগ এতে জড়িয়ে। সমবেদনা জানাচ্ছি সব ক্যাথলিক ও ফ্রান্সবাসীকে। দেশের সবার মতো আমিও নিজেদের অস্তিত্বের একটি অংশকে এভাবে পুড়তে দেখে দুঃখ ভারাক্রান্ত।

এছাড়া এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বিকেলে ৮৫০ বছরের পুরনো এই গির্জায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভবনটিতে মেরামত কাজের সময় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

প্যারিসের মেয়র অ্যান হিদালগো একে ‘ভয়ানক অগ্নিকাণ্ড’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, অগ্নি নির্বাপক বাহিনী ভবনটি ঘিরে যে সতর্কতামূলক বেষ্টনি তৈরি করেছেন, নাগরিকরা যেন নিরাপত্তার স্বার্থে তার বাইরে অবস্থান করেন।

কর্মকর্তারা বলেছেন, প্যারিসের কেন্দ্রস্থলের সেইন নদীর মধ্যকার দ্বীপের এই গির্জার আশপাশের ভবনগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে খালি করে ফেলা হয়েছে। ফ্রান্সের এই নটরডেম ক্যাথিড্রালে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্বনেতাদের মধ্যেও; নানা পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প আগুন নেভাতে ‘ফ্লাইং ওয়াটার ট্যাংকার’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

খ্রিস্টীয় একাদশ শতকে শুরু হয়েছিল নটর-দাম ক্যাথেড্রালের নির্মাণ, একশ বছর লেগেছিল এই কাজ শেষ করতে। তারপর কয়েকবার এর সংস্কার হয়েছিল।

ফরাসি বিপ্লবের সময় এই ক্যাথেড্রাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দীন-হীন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ভিক্তর উগোর জগদ্বিখ্যাত উপন্যাস হ্যাঞ্চব্যাক অফ নটরডেম এর কুঁজো প্রকাশিত হওয়ার পর সবাই নতুন করে আবিষ্কার করে এই গির্জাকে।

এরপর এটি সংস্কারে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৮৪৫ সালে, ২৫ বছর কাজের পর পুনরায় দৃষ্টিনন্দন অবস্থায় ফেরে ইউরোপে মধ্যযুগের শেষার্ধ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ