সুদানে গ্রেফতার করা হচ্ছে বশির সমর্থকদের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:০১

সুদানে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তিন দশকের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির সরকারের ঊর্ধ্বতন নেতা ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অন্তর্র্বতীকালীন সামরিক কাউন্সিল।  

আফ্রিকার এই দেশটির সার্বিক দুর্নীতির বিরুদ্ধেই নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরে অন্তর্র্বতীকালীন সামরিক কাউন্সিল জানিয়েছে, এরই মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে বশির সরকারের লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। 

আজ সোমবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা যায়।

গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্র মেজর জেনারেল শামস আদ-দিন শান্টোর করা এক সংবাদ সম্মেলনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, দেশটির অন্তর্র্বতীকালীন সামরিক কাউন্সিল এরই মধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলো হলো- সেনাবাহিনী ও পুলিশপ্রধানের পদে নতুন কাউকে বসানো, জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সার্ভিসে (এনআইএসএস) নতুন প্রধান নিয়োগ করা।

এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে এবং সাবেক সরকারের লোকজনের দুর্নীতির বিষয় তদন্ত করে দেখা বলে জানিয়েছে সামরিক কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির গণমাধ্যমের ওপর যে কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, সেগুলোও প্রত্যাহার করার কথা বলেছে সামরিক নেতৃত্ব।

দেশটির বিরোধী দলগুলো ও পেশাজীবী সংগঠন এসপিএর নেতৃত্বে গত কয়েক মাস ধরেই বশির-সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনকারীদের সমর্থন করায় সে সময় সরকার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার কর্মকর্তাদের মুক্তি দেবে সামরিক কাউন্সিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় দূত প্রত্যাহারসহ কূটনীতিক বিভিন্ন মিশনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।  

দেশটির আন্দোলনরত জনগণের উদ্দেশে সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেন, বিরোধী দলগুলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেভাবে একমত হবে, তারা সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে।  

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে মেজর জেনারেল আরও বলেন, তাদের প্রতিবাদে বাধা দেওয়া হবে না। স্বাভাবিক জনজীবন ফেরাতে তাদের আহ্বান জানান তিনি। 

কয়েক মাসব্যাপী আন্দোলনের মুখে গত বৃহস্পতিবার এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা ওমর আল-বশির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food