নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন একশোরও বেশি কৃষক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৮:৪৮

ভারতের আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দেবেন ১১১ জন কৃষক। এরা সবাই দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের কৃষিজীবী।

উত্তরপ্রদেশের বারাণসী কেন্দ্র থেকে গতবারের মতোই এবারও প্রার্থী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই ভোটে লড়তে চলেছেন এই কৃষকরা।

তারা বলছেন, ফসলের উপযুক্ত দাম আর দক্ষিণ ভারতের নদ-নদীগুলির সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে চাষের জলের ব্যবস্থা করার দাবীতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। কিন্তু সরকার তাদের কথা কানেই তুলছে না।

"বারাণসী কেন্দ্র থেকে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ালে যদি আমাদের কথা সরকারের কানে পৌঁছায়, সেই আশাতেই আমরা সবাই ওখানে যাচ্ছি। ট্রেনের টিকিট কাটা হয়ে গেছে," বলছিলেন তামিলনাডুর এক কৃষক সংগঠনের নেতা পি. আয়াকান্নু।

বিবিসি বাংলাকে তিনি টেলিফোনে আরও বলছিলেন যে এই দাবী নিয়ে তাদের সংগঠনের প্রায় ৪০০ সদস্য দিল্লিতে ১৪০ দিন ধরে ধর্ণা দিয়েছেন। তবুও সরকারের মনোভাব পাল্টায় নি। এবার তাই ভোটের লড়াইতে সবাই মিলে মি. মোদীর বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে চলেছেন।

তেলেঙ্গানা রাজ্যেও নিজামাবাদ কেন্দ্রে বিজেপির সহযোগী দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির শীর্ষ নেত্রীর বিরুদ্ধে ভোটে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন পেশ করেছেন সেখানকার দুশোরও বেশী কৃষক।

মি. আয়াকান্নুর কথায়, "আমাদের কাছে এত অর্থ নেই, যা দিয়ে মনোনয়ন পেশ করা বা প্রচার চালানো যায়। তাই বারাণসীতে গিয়ে আমরা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করব। অনেক নাগা সন্ন্যাসী যেভাবে কোনও পোষাক না পরেই থাকেন সেখানে, আমরাও সেইভাবেই ভিক্ষা চাইব মানুষের কাছে। সেটাই হবে আমাদের দুর্দশার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরার পদ্ধতি।"

ভোটে লড়লেও জেতার আশা করছেন না এরা কেউ। তবে নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রে গিয়ে সেখানকার মানুষকে বোঝাতে চাইছেন যে তাদের এলাকার সংসদ সদস্য কীভাবে চাষীদের দাবীকে উপেক্ষা করে চলেছেন।

কয়েক লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন ভারতে

ভারতে গত কয়েক বছর ধরেই কৃষিক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে চলেছে। কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, চাষীরা ফসলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ঋণ বেড়েই চলেছে।

"এই দুইয়ের জাঁতাকলে পরে প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন চাষী আত্মহত্যা করছেন। যখন থেকে দেশের অর্থনীতি উদারীকরণ হয়েছে, সেই ১৯৯২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চার লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।"

"এতদিন প্রতিটা সরকারই আমাদের দাবীগুলোকে উপেক্ষ করে এসেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে লাগাতার কৃষক আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক দলগুলো এবার নড়েচড়ে বসেছে।

নির্বাচনে সব দলকেই তাই কৃষকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে," বলছিলেন সিপিআইএম নেতা ও সারা ভারত কৃষক সভার নেতা হান্নান মোল্লা।

তার দাবী, কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এস স্বামীনাথনের ফর্মূলা অনুযায়ী সরকারকে ফসলের দাম ঠিক করে দিতে হবে, যাতে কৃষকরা উপযুক্ত অর্থ পান।

একদিকে যখন উপযুক্ত দামের অভাবে বহু জায়গায় রাস্তায় ফসল ফেলে দিতে দেখা যায় কৃষকদের, অন্যদিকে ব্যাঙ্কগুলিও সবসময়ে চাহিদা মতো ঋণ দিতে চায় না চাষীদের। এর ফলে বেসরকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে হয়।

মি. মোল্লার কথায়, এর ফলেই কৃষকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডু, পশ্চিমবঙ্গ, বা হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মতো দেশের অন্তত ১৭-১৮ টি রাজ্যে।

বিভিন্ন রাজ্যে কৃষক আন্দোলন

গত বছর দুয়েকে একাধিক রাজ্যে কৃষক আন্দোলন হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে যেমন চাষীদের ওপরে গুলি চলেছে, আবার মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার কৃষক বহু দিন ধরে মিছিল করে হেঁটে মুম্বাইতে গিয়ে সরকারের কাছে নিজেদের দাবী পেশ করে এসেছেন।

মি. আয়াকান্নু বলছিলেন, "সরকারগুলো সবসময়েই আন্দোলন তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পালন করা হয় না। এবার আমরা তাই কারও মুখের কথায় ভরসা করব না। বিজেপি যদি লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয় আমাদের দাবী মানার, তাহলেই একমাত্র আমরা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়া থেকে বিরত হব।"

ওদিকে তেলেঙ্গানা রাজ্যের হলুদ আর জোয়ার চাষীরাও বলছেন সে রাজ্যের সরকার ফসলের উপযুক্ত দামের বন্দোবস্ত করতে পারে নি। তাই তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির নেত্রী কে. কভিতার বিরুদ্ধে নিজামাবাদ কেন্দ্র থেকে ২০০রও বেশী কৃষক মনোনয়ন পেশ করেছেন সোমবার।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food