ব্রেক্সিট : অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৩ | আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৭

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে ব্রেক্সিট চুক্তিতে মঙ্গলবার পরাজয়ের পর বুধবার অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। গতকালের ভোটের পরই লেবার পার্টির নেতা জেরমি করবিন সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন।

বুধবার দেখা যায়, থেরেসা মের সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩২৫ জন পার্লামেন্ট সদস্য আর সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন ৩০৬ জন। ১৯ ভোটে জয় নিয়ে টিকে থাকলেন থেরেসা মে।

এর প্রতিক্রিয়ায় থেরেসা মে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সব এমপিদের নিজ স্বার্থকে একপাশে রেখে একসঙ্গে গঠনমূলক কাজ করার আহ্বান জানান।

ভোটের নিজেদের হারের পর জেরেমি করবিন বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই ইইউ ছাড়ার মতো ঘটনা যেন না ঘটে, থেরেসা মেকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মে, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস এবং প্লেড সাইমরু নেতাদের সঙ্গে দেখা করলেও লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।

মে বলেন, ‘লেবার পার্টির নেতা এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগ না দেয়ায় আমি হতাশ হয়েছি। তবে আমাদের দরজা সব সময় খোলা আছে।’

এর আগে মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনার পর এক ভোটাভুটিতে ২৩০ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে পরাজিত হয় মের ব্রেক্সিট চুক্তিটি।

প্রস্তাবটি বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ৪৩২ জন সংসদ সদস্য, যেখানে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ২০২ জন।

পার্লামেন্টে বিরোধী দলের সদস্যদের পাশাপাশি নিজ দলের ১১৮ জন এমপি বিরোধী দলের সঙ্গে মের চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন। তার পরপরই থেরেসা মের সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন বিরোধী লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন।

টেরিসা মের প্রশাসনকে ‘জম্বি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে মে সরকার পরিচালনার সব ধরনের অধিকার হারিয়েছেন।

তবে অনাস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার পর থেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিটের ব্যাপারে একটি সমঝোতায় আসতে তিনি পার্লামেন্টের সব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।

এ ছাড়া ব্রেক্সিট পরিকল্পনার পক্ষে নিজ এমপিদের সমর্থন আদায় করাটাও তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

আস্থা ভোটে টিকে থাকার প্রতিক্রিয়ায় মে এমপিদের বলেন, ‘গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দেশের জনগণকে দিয়েছেন সেটা তিনি পূরণ করতে কাজ চালিয়ে যাবেন।’

মূলত ২০১৬ সালের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় এলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। পরে থেরেসা মে তার স্থলে এসে বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরু করেন। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা।

এ অবস্থায় পরবর্তী সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে জোটটির সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর যে চুক্তি হয়েছিল সেটার অনুমোদনের বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ ভোটাভুটি হয়। ওই চুক্তিতেও ২৯ মার্চের মধ্যে ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food