কেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঐতিহাসিক পরাজয় ঘটবে ইরানের হাতে?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:১৯

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার দেশের সঙ্গে মার্কিন ও সাম্রাজ্যবাদী মহলের শত্রুতার নানা কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ইরানের বিপ্লবী জাতির হাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঐতিহাসিক পরাজয় ঘটবে।


তিনি গতকাল (বুধবার) স্বৈরাচারী ও মার্কিন সরকারের সেবাদাস শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের জনগণের ১৯৭৮ সনের ৯ জানুয়ারির ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসমাবেশে ওই মন্তব্য করেন।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের উন্নত চরিত্র ও প্রকৃতি, এ বিপ্লবের বাস্তবতা এবং এর মহান লক্ষ্যগুলো ও মৌলিক ভিত্তিগুলোর প্রতি ইরানি জাতির আনুগত্য আর বীরত্বের কারণেই  মার্কিন সরকার ইসলামী এই দেশটির সঙ্গে গভীর শত্রুতা বজায় রেখেছে।

তিনি ইরানের ব্যাপারে হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের নানা বিভাগের দুর্বলতার কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। যেমন, ১৯৭৮ সালে মার্কিন সরকারের নেতারা তাদের ক্রীড়নক ইরানের শাহের শাসন-ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলতেন, ইরান প্রশান্তি বা স্থিতিশীলতার এক দ্বীপ। কিন্তু এ সময়ই ইরানের কোমে ও পরে তাব্রিজ শহরে শুরু হয় শাহ-বিরোধী ব্যাপক গণ-বিক্ষোভ।

স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিপ্লব সফল হওয়ার পর মার্কিন সরকারের নেতারা বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই এই বিপ্লবের অবসান ঘটবে।
 
অথচ ইসলামী বিপ্লব আজ চল্লিশ বছরে উপনীত হয়েছে এবং বিগত এই বছরগুলোতে ইরানি জাতি যুদ্ধ ছাড়াও ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপসহ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে। আর এখন মার্কিন সরকারের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছিলেন, গত গ্রীষ্মকালেই ইরানের ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভ শুরু হবে এবং ইসলামী বিপ্লব তার চল্লিশতম বছরে উপনীত হতে পারবে না! মার্কিন সরকারের আরেক বড় কর্তা একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লোকদের সমাবেশে বলেছিলেন যে তিনি তাদেরকে নিয়ে ২০১৯ সালের নববর্ষের উৎসব তেহরানে করবেন।

এ প্রসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা  বলেন, ভবিষ্যদ্বাণী করা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ক্ষেত্রে ইরানের শত্রুদের ক্ষমতার এই হচ্ছে অবস্থা ঠিক যেমনটি সাদ্দাম এক সময় আশা করেছিল যে ইরাকি সেনা-বাহিনী নিয়ে এক সপ্তা'র মধ্যে তেহরানে পৌঁছবে ও মুনাফিক-বাহিনীও ভেবেছিল যে মেরসাদ নামক অভিযানে তারা তিন দিনেই কেরমানশাহ থেকে তেহরানে পৌঁছে যাবে!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এইসব বাস্তবতা তুলে ধরে বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের অনেকেই দেখাতে চান যে তারা পাগল। কিন্তু আমি তাদেরকে পাগল মনে না করলেও বাস্তবে তাদের অনেকেই হচ্ছে 'প্রথম সারির আহাম্মক'। তিনি আরও বলেছেন, পাশ্চাত্যেরই এক সংস্থা সম্প্রতি বলেছে, অসাধারণ সম্পদ ও সক্ষমতার দিক থেকে ইরান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সম্পদশালী দেশ। আর এরকম এক সম্পদশালী দেশের ওপর কর্তৃত্ব হারানোর কারণেই পশ্চিমা দাম্ভিক শক্তিগুলো অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলন, ইরানের বিপুল শক্তিমত্তা ও ব্যাপকতাসহ দেশটির ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার অতি উচ্চ ক্ষমতা এবং ইরানি জাতির অপরাজেয়তার বিষয় হচ্ছে এমন তিন বাস্তবতা যে এইসব বিষয়ে ইরানিদের অসচেতন করতে চায় শত্রুরা যাতে তারা নিজ দেশের অবস্থা ও শক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা করে।

এক সময় বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলো সাদ্দামকে ইরানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে ও তাকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে ইরানের ইসলামী সরকারের পতন ঘটানোসহ নানা অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা এসব কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। শত্রুরা ইরানি জাতির প্রতিরোধকামী ও জুলুম-বিরোধী চরিত্রের কারণে ক্ষুব্ধ। তাই তারা ইরান, ইসলাম ও শিয়া মুসলমানদের ব্যাপারে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে জাতিগুলোকে বিভ্রান্ত করতে চায়। কিন্তু জাতিগুলো এতে বিভ্রান্ত হয়নি। ইসলামী ইরানের বাস্তব অবস্থা বোঝা মাত্রই তারা ইরানকে সমর্থন করছে।  

মাইকেল ফিশারের মত চিন্তাবিদও মনে করেন, বিপ্লবী ইসলাম ধর্মের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের সুবাদেই ইরানে বিপ্লবের গোড়া-পত্তন ও বিজয় ঘটেছে।  

এসব বাস্তবতার আলোকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গতকাল বলেছেন, মহান আল্লাহর সহায়তায় ইরানের জাতি ও সরকারের প্রতিরোধ, সচেতনতা এবং বিরামহীন প্রচেষ্টা সব নিষেধাজ্ঞা ও সংকটকে নস্যাৎ করবে। ইসলামী ইরান দিনকে দিন আরও বেশি সফল ও শক্তিমান হবে এবং ইরানের শত্রুরা পাশ্চাত্য ও আমেরিকায় সাদ্দামের পরিণতিই ভোগ করবে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food