পুরুষ থেকে নারী হওয়া অপ্সরা ভারতে মহিলা কংগ্রেসের উচ্চপদে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১৫

ভারতের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী পুরুষ থেকে নারী হয়ে ওঠা অপ্সরা রেড্ডিকে দলের মহিলা শাখায় এক গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন।

তাকে মঙ্গলবার জাতীয় মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ করেন রাহুল গান্ধী। অপ্সরা রেড্ডির সঙ্গে একটি ছবি তুলে এ ঘোষণা নিজেই দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।

এই প্রথম ভারতের কোনো জাতীয় রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন এক রূপান্তরী নারী।

তবে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে রেড্ডি তামিলনাডুভিত্তিক রাজনৈতিক দল এআইএ ডিএমকের মুখপাত্র ছিলেন।

জাতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব বলেন, ‘অপ্সরার সঙ্গে আমার কলকাতাতেই কয়েক মাস আগে আলাপ হয়। ওর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা খুব পছন্দ হয়েছিল। তখনই ওকে কংগ্রেসে আসতে আহ্বান জানাই। এর পর রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও ওর ব্যাপারে কথা বলি। রাহুল গান্ধী সঙ্গে সঙ্গেই বলেন যে রূপান্তরকামীদেরও দলে জায়গা দেওয়ার প্রয়োজন আছে। তার পরই মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর সামনে অপ্সরা দলে যোগ দিয়েছেন।’

রেড্ডি একজন সাংবাদিক। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসসহ ভারতের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিকে সাংবাদিক এবং সম্পাদকের দায়িত্ব সামলিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার সময় থেকেই নানা ধরণের অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। সবসময়েই মনে হত যে আরও বড় কিছু করতে হলে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার- যেখানে আমি বৃহত্তর সমাজের জন্য নীতিগত কিছু বদল ঘটাতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘সেই জায়গা থেকেই এ আই এ ডি এম কে দলে গিয়েছিলাম। তারা একটা দ্রাবিঢ় সংগঠন হয়েও আমাকে যে জায়গা দিয়েছিল, এ রকম একটা মূলস্রোতের জায়গায় একজন রূপান্তরীকে গ্রহণ করেছে, সেটা নি:সন্দেহে বড় ব্যাপার।’

তিনি বলছিলেন, অনেকেই বলত যে ভারতে থেকে এধরণের কর্মকান্ড চালানো কঠিন, লোকে হাসবে তাকে দেখে। বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল অনেকে।

কিন্তু চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করে একদিকে যেমন সাংবাদিকতা চালিয়ে গেছেন, তেমনই রূপান্তরকামীদের অধিকার নিয়ে সারা দেশে দৌড়িয়ে বেরিয়েছেন অপ্সরা রেড্ডি।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কংগ্রেস যদিও এক রূপান্তরীকে নেতৃত্বে এনেছে, কিন্তু জাতীয় স্তরের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল কেন এগিয়ে আসেনি? এমনকি ‘প্রগতিশীল দল’ বলে পরিচিত বামপন্থীরাও নয়!

রেড্ডি বলছিলেন, ‘রাহুল গান্ধী নতুন প্রজন্মের নেতা, তাই তিনি একটা সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করব অন্য দলগুলোও এবার এই পথ অনুসরণ করবে। কিন্তু তার আগে ভাবা দরকার রূপান্তরকামী কেন, নারীদের নিয়েও বা আদৌ কতটা ভাবে রাজনৈতিক দলগুলো? বিজেপি বা আর এস এসকেই দেখুন না! কজন নারী আছেন সেখানে?’

নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে একজন জাতীয় রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় খুশি রূপান্তরকামীরা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ