স্বাধীন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ইরাক আমাদের জন্য লাভজনক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:২১

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, স্বাধীন, শক্তিশালী, মর্যাদাসম্পন্ন ও সমৃদ্ধ ইরাক ইরানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা আমাদের জন্যও লাভজনক। তিনি বলেন, আমরা ভ্রাতৃপ্রতীম ইরাকের পাশে রয়েছি। তেহরান সফরকারী ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহকে দেয়া সাক্ষাতে তিনি এ সব কথা বলেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ইরাকের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বাইরের কোনো কোনো দেশের সরকার ইরাকে ধর্ম ও মাজহাবের নামে বিভেদ উস্কে দিতে চায় এবং তারা ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। তাই শত্রুর এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত এবং কোনো রকম আপোষ করার সুযোগ নেই।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের মাধ্যমে ইরাকের ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে। তার এ বক্তব্যের আলোকে শত্রুর অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির প্রয়োজনীয় বহুগুণে বেড়েছে। কারণ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল পশ্চিম এশিয়া তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পরাজয় থেকে প্রমাণিত হয়েছে, শত্রুর যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ইরান ও ইরাক বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের চেহারাকেও পাল্টে দিতে পারে। ইসরাইল, সৌদি আরব ও আমেরিকা দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে ইরাকে যে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করেছিল তা ইরাকের জনগণের ত্যাগ, কর্মকর্তাদের দূরদৃষ্টি ও ধর্মীয় নেতাদের সঠিক দিক নির্দেশনার কারণে এতোবড় বিপদ মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছিল।

এ কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে বলেছেন, এর ফলে বহু সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি হবে। ইরাকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতাদের দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা ও উপযুক্ত দিক নির্দেশনা ইরাকের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য বড় নেয়ামত বলে আমরা মনে করি।

যাইহোক, বর্তমানে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক নাসরুল্লাহ তাজিক বলেছেন, আর্থ-সামাজিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দিক থেকে এ অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে ইরাকের গুরুত্ব অপরিসীম।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ