আজকের শিরোনাম :

তালেবান বন্দিরা কাবুল কারাগারের পাহারাদার!

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৩

আফগানিস্তানের বৃহত্তম ও কুখ্যাত কারাগার পুল-ই-চারকি। কারা প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছে কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা। বেশিরভাগের মাথায় পাগড়ি, কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। কাবুলের উপকণ্ঠের কারাগারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত  করা ও পরিচালনার দায়িত্ব তাদের।

আইসিআরসির তথ্য অনুসারে, তালেবানরা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে কারাগারটিতে ৯ সহস্রাধিক বন্দি ছিল। ১১টি ব্লকে ভাগ করা এই কারাগারে প্রায়ই একটি ছোট কক্ষে ১২-১৫ জন বন্দিকে রাখা হতো।

১৯৮০-এর দশকে চালু হওয়া পুল-ই-চারকি নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য পরিচিতি পায়। পরে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র গুয়ানতানামো বে বন্দি শিবির থেকে প্রায় ২৫০ বন্দিকে এখানে স্থানান্তর করে। কিন্তু ১৫ আগস্ট তালেবান যোদ্ধারা কারাগারটি ঘিরে ফেলে এবং বন্দিদের মুক্তি দেয়। মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল কায়েদার সদস্যরাও রয়েছে। যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। তারা বলছে, আগের আফগান সরকারই কারাগারের দরজা খুলে দিয়েছে।

কারাগারের তালেবান রক্ষী জানান, এখনো কয়েকশ বন্দি আছে এবং তালেবানরাই পাহারা দিচ্ছে। অপরাধের কারণে অনেক নতুন মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছে।

২০২০ সালের আগস্টে পুল-ই-চারকি থেকে মুক্তি পান হেকমতুল্লাহ হেকমত। তালেবানের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমি সব সময় জানতাম যখন কারাগার থেকে মুক্তি পাবো তালেবানের হয়ে আবার লড়াই করব। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকার আমাদের শত্রু।  

তিনি আরও বলেন, তারা যদি আবার ফিরে আসে আমরা ফের যুদ্ধ করব। আমাদের দেশ দখল করা হয়েছিল এবং বিদেশি শক্তি ও তাদের আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা দেশ, ধর্ম ও জনগণকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হেকমত এই কারাগারে তিন বছর বন্দি ছিলেন। একটি কক্ষে তার সঙ্গে ১৩জন বন্দি ছিল। ১৫ আগস্ট গেট উন্মুক্ত হলে বন্দিরা নিজেদের জিনিসপত্র না নিয়েই পালায়। অনেক কিছু এখনো পড়ে রয়েছে।
খবর দ্য ন্যাশনাল

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ