যুক্তরাজ্যে যৌনতার বিনিময়ে বাড়ি ভাড়া দিতে চান মালিক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:০৯

যুক্তরাজ্যের কোনো কোনো বাড়ি মালিকরা যৌনতার বিনিময়ে বাসা ভাড়া দিতে চাইছেন। সেই সঙ্গে তাদের বিনামূল্যের ইউটিলিটি আর ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগও থাকছে। বিবিসির একটি অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অনলাইনে দেয়া এ রকম বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের খোঁজ পেয়েছে বিবিসি এবং ছদ্মবেশে বিজ্ঞাপনদাতা কয়েকজনের সাক্ষাৎকারও নিয়েছে।

কিভাবে বাড়ি ভাড়া করতে গিয়ে মেয়েরা হয়রানি ও অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে, সেটি প্রকাশ করতে ওই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগ বলছে, এটা পুরোপুরি অবৈধ। এ রকম বিজ্ঞাপন দেয়াটাও আইনবিরোধী যার জন্য ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

কিন্তু তার পরও এ রকম ঘটনা ঘটছে।

বিজ্ঞাপনে তারা বাড়ি ভাড়া মওকুফের পাশাপাশি বিল দেয়া, এমনকি অন্যান্য খরচ দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শর্ত একটাই, সপ্তাহে অন্তত একদিন তাদের সঙ্গে বিছানায় যেতে হবে।

বাড়ি ভাড়া নিতে ইচ্ছুক এমন একজন নারী হিসেবে তাদের সঙ্গে একটি বারে দেখা করেন বিবিসির সংবাদদাতা।

 

মাইক নামের একজন বাড়ি মালিক ছদ্মবেশী সাংবাদিককে বলেন, তিনি দুই বেডরুমের একটি চমৎকার বাড়ি পেতে পারেন, যেখানে সব কিছুই থাকবে। যতদিন তিনি ‘বন্ধুত্বে সুবিধার সম্পর্ক’ বজায় রাখবেন।

এই সুবিধা বলতে তিনি বোঝান, সপ্তাহে অন্তত একদিন তার সঙ্গে বিছানায় যেতে হবে।

তবে এই প্রোগ্রামের কথা জানার পর মাইক দাবি করেন, তিনি একজন বাড়ি মালিক হিসেবে ভান করেছিলেন কারণ, তিনি যুক্তরাজ্যে মেয়েদের হয়রানির ওপর গবেষণা করছেন।

টম নামের আরেকজন মালিক, যার বয়স ৬০ বছর, বিবিসির ছদ্মবেশী নারী সাংবাদিককে বলেন, তিনি যদি তার ফ্লাটে উঠে আসেন, তা হলে ভাড়া তো দিতেই হবে না। সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন।

তবে যখন তাকে জানানো হয় যে, বিবিসির ক্যামেরায় এসব রেকর্ড করা হয়েছে, তিনি কোনো জবাব দিতে রাজি হননি।

অনলাইনে এ রকম আরও বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।

একটি বিজ্ঞাপনে একজন লিখেছেন, হাই, আমি ৩৫ বছরের একজন পুরুষ। আমার নিজের বাড়ি আছে, যেখানে বাড়তি একটি রুম আছে। আমি একজন নারী ভাড়াটিয়া চাই, তার সেবার ওপর ভাড়া নাও লাগতে পারে। একটি ছবি এবং আপনার সম্পর্কে কিছু তথ্যসহ যোগাযোগ করুন।

যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগ বলছে, এটা পুরোপুরি অবৈধ। এ রকম বিজ্ঞাপন দেয়াটাও আইন বিরোধী যার জন্য ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

কিন্তু এ রকম বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য কাউকে বিচারের ঘটনা ঘটেনি।
খবর বিবিবি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ