সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১৩ | আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১৯

সমকামিতাকে আইনি বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে সংবিধানের ৩৭৭নং ধারাকে অযৌক্তিক ও স্বৈরাচারী বলে মতপ্রকাশ করেছে। সম-লিঙ্গের প্রাপ্তবয়স্করা গোপনে সমকামী সম্পর্কে আবদ্ধ হলে তাতে দোষের কিছু নেই। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা।

দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি এএম খানউইলকর রায় ঘোষণা করার সময় বলেন, সম লিঙ্গের প্রাপ্তবয়স্করা গোপনে সমকামী সম্পর্কে আবদ্ধ হলে তাতে দোষের কিছু নেই। সমাজের অন্যান্যদের মতোই সমান অধিকার রয়েছে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের। সংবিধানের ৩৭৭ ধারা অযৌক্তিক, স্বৈরাচারী ও অবোধগম্য।

এর আগে ভারতে সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করা হতো। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী যদি একই লিঙ্গের মানুষ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সেই সঙ্গে জরিমানার বিষয়টিও ছিল।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে আদালত জানিয়েছিলো কারও যৌন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আলাদা করাটা তার বিরুদ্ধে সম্মানহানি ও বৈষম্য। ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ৩৭৭ ধারা থেকে অপরাধকে নির্মূল করার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু ২০১৩ সালে সুরেশকুমার কৌশল বনাম নাজ ফাউন্ডেশনের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়।

চলতি বছরের মে মাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এলজিবিটিদের প্রাক্তনীদের অ্যাসোসিয়েশন ৩৭৭ বাতিল করতে মামলা করে। অবশ্য এর আগেই ২৭ এপ্রিল হামসফর ট্রাস্টের অশোক রাও কাভি এবং আরিফ জাফর ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

সর্বশেষ সংবিধানের ৩৭৭ ধারা অযৌক্তিক, স্বৈরাচারী ও অবোধগম্য উল্লেখ করে সমকামিতাকে বৈধতা দিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ