মাস্ক পরা নিশ্চিতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০, ১৭:২৩

যখন দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা চূড়ায়, সেই সময় খুলে যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঁচার একমাত্র উপায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

মাস্ক পরে বাইরে বের হওয়া নিশ্চিতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

প্রায় ৯ সপ্তাহ সাধারণ ছুটির পর অফিস, গণপরিবহন খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আসে, যখন দেশে শেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ হাজারের বেশি। একদিকে জীবন, অন্যদিকে জীবিকা। এমন টানাপোড়েনে অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সীমিত আকারে চলবে কার্যক্রম।

চিকিৎসাখাতের বিশেষজ্ঞরা বর্তমান সময়টাকে করোনা আক্রান্তের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে মনে করছেন৷ এ সময় মানুষের ঘরের বাইরে থাকা মানেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি। নিজেকে নিরাপদ রাখতে নিজস্ব সতর্কতাকেই এখন একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রিদউয়ানউর রহমান বলেন,'প্রতিটি রোগীই একটা ক্লাস্টার।এটা এতো ছোঁয়াছে, তাই আমি যদি আক্রান্ত হই তবে বাসায় ফিরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি। আর বয়স্কদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এর মৃত্যু হার অনেক বেশি।'
 
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সামির হোসেন মিশু বলেন,' এই ভাইরাসটি সংক্রমণের প্রধান রুট হচ্ছে মুখ, নাক এবং চোখ। সরকারের কাছে আমার মৃত্যু একটি সংখ্যা। কিন্তু আমার মৃত্যু আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।'
 
অর্থনৈতিক প্রয়োজনেই বাড়ানো যাচ্ছে না ছুটি।  সে ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন,'আমরা যাতে সামনের অর্থনীতির চাকাকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলে না দেই অর্থাৎ অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়ে যায় তবে, পরিবর্তি সময়ে অর্থনীতির চাকাটা চালু রাখা কিন্তু সমস্যা হয়ে যাবে।'
 
সরকারিভাবে সবচয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে মাস্ক পরে বের হওয়ার ওপর৷ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, গণপরিবহণে কিন্তু মাস্ক ছাড়া উঠা যাবে না। মাস্ক ছাড়া গাড়িতে উঠতে না পাররে, মাস্ক পরবে এবং সঙ্গে রাখবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখে পড়লে জরিমানা দিতে হবে। তখন সে আর মাস্ক না পরে বেরুবে না।' 

গণপরিবহণ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেল প্রধাণ হাবিবুর রহমান বলেন,'যানবাহনগুলো ব্যবহারের আগে পরে কিন্তু জীবানু মুক্ত করতে হবে। সপিংমলে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দূরত্ব রেখে যেন কাজ করতে হবে।'

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্বশীলতা। যেটি কার্যত এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। এ অবস্থায় কঠোর আইন প্রয়োগই হতে পারে নিরাপত্তা বলয় তৈরির অন্যতম উপায়।

এবিএন/মমিস/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ