করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নতুন ১৭ ল্যাব হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৭

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা করতে সারাদেশে নতুন ১৭টি ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ সোমবার দুপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ইতোমধ্যে ১১টি ল্যাব কাজ করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করব। যাতে চিকিৎসা করতে পারে, তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করতে পারে। টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য যারা স্যাম্পল কালেকশন করে তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই পরীক্ষার পরিধি আমরা বৃদ্ধি করেছি।

জাহিদ মালেক জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে।

দেশে কোভিড-১৯ পরীক্ষায় পর্যাপ্ত টেস্ট কিট রয়েছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংশয় প্রকাশ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিটস আর পরীক্ষার অভাব নেই, পিপিইওর অভাব নেই- এমন তথ্য দিলে জনগণ আশ্বস্ত হয়।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের এ পর্যায়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ এখন ভালো আছে, নিরাপদে আছে।  আমরা আশা করছি, এ বিরাট সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। কাজ যা হয়েছে, তুলনামূলকভাবে তা ভালো হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো হবে। যেকোনো রকমের প্রয়োজনে আমরা সার্বক্ষণিক আপনাদের সাথে আছি। আমিও নিজেই তদারকি করছি। আশা করি, অল্পদিনে সমস্যা দূর করতে পারব।

জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশ আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে আমরা ভালোভাবে মোকাবেলা করছি। ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। আমাদের ডাক্তার, নার্স সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছে। কারো কোনো সমস্যা হলে আমাদের কল সেন্টারে যোগাযোগ করবেন।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ জনের। যাদের নতুন করে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। তার বয়স ২০ বছর। তিনি একজন নারী।

আগে থেকে যারা আক্রান্ত ছিলেন তাদের মধ্যে আরও ৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। নতুন যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে ৮০ বছরের একজন বৃদ্ধও রয়েছেন। এ ছাড়া সুস্থদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্সও রয়েছেন।

ডা. ফ্লোরা বলেন, গত দুদিন রোগী না পাওয়ার খবরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরের বাইরে মানুষ বের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একদিন রোগী শনাক্ত না হলে বাংলাদেশ করোনামুক্ত মনে করার কোনো কারণ নেই। তাই সবাইকে আমাদের পরামর্শ মেনে ঘরে থাকতে হবে।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরেন ডা. ফ্লোরা। তুলে ধরেন করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে ঘরে থাকাসহ প্রয়োজনীয় করণীয়ও।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ