জরায়ুমুখে ক্যানসারের লক্ষণ ও প্রতিকার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৩

নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি এবং জরায়ুমুখ ক্যানসার বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রোগ সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কিন্তু ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগেই নারী এ রোগের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন। তবে সচেতনতার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নারীরা স্বাস্থ্য সচেতন নয় বলেই এ রোগের বিস্তার বেশি।

হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভাইরাস জরায়ু মুখের ক্যানসারের একটি অন্যতম কারণ। তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। অরক্ষিত যৌন সংগমেও এর সংক্রমণ ঘটে। সংক্রমণের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরায়ু মুখের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তিত হতে থাকে এবং এক সময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। এইচপিভি-১৬, এইচপিভি-১৮, ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

লক্ষণ 
জরায়ুর বিভিন্ন অংশের মধ্যে এ অংশে ক্যানসারের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত সাদাস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অতিরিক্ত অথবা অনিয়মিত রক্তস্রাব, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় রক্তপাত, কোমর ও তলপেট বা ঊরুতে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গগুলো জরায়ু মুখ ক্যানসার এর লক্ষণ। অল্পবয়সেই যারা যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তাদের এ ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। একাধিক পুরুষ সঙ্গী থাকা, বা পুরুষ সঙ্গীটির একাধিক নারী সঙ্গী থাকা কিংবা ঘন ঘন বাচ্চা নেওয়া ইত্যাদি কারণেও জরায়ুমুখ ক্যানসার হতে পারে। বাল্যবিবাহ হওয়া মেয়েদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রতিকার কী?
রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধ অর্থাৎ রোগটা হতে না দেওয়া হলো বুদ্ধিমানের কাজ। যদিও সব রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব হয় না, তবে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই জরায়ুমুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন। ক্যানসারের হওয়ার আগের অবস্থা ধরা পড়লে সামান্য চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জরায়ু বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং চিকিৎসার পরও সন্তান ধারণ সম্ভব। সেই জন্য ‘পেপস স্মেয়ার টেস্টে’র মাধ্যমে আগাম শনাক্তকরণই সব থেকে ভাল উপায়।
আনন্দবাজার অবলম্বনে

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ