সর্দিজ্বর হলে বা ঠাণ্ডা লাগলে কী করবেন?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০৭

ঢাকা, ২৬ আগস্ট, এবিনিউজ : ঠাণ্ডা বা জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়ার কৌশল আসলে জানা নেই কারো, যদিও এসব থেকে উপশমের অনেক ব্যবস্থাই জানে অনেকে।

তাই বলে সেসব উপায় যে কাজে আসবেই এমনটাও বলা যায় না। আর কোন ব্যবস্থা কোন ধরনের সমস্যায় ব্যবহার করা হবে তার ওপরও অনেক কিছুই নির্ভর করে।

ঠাণ্ডা এবং ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকা জ্বর ইনফ্লুয়েঞ্জা যা ফ্লু নামেই বেশি পরিচিত, এসবের লক্ষণগুলো একই রকম হয়ে থাকলেও এগুলো আসলে ভিন্ন অসুখ।

ঠাণ্ডা লাগলে আপনি হয়তো খুব অসুস্থ বোধ করবেন। কিন্তু ফ্লু আরও বেশি পরিমাণে আপনাকে অসুস্থ করে দেবে এমনকি শয্যাশায়ীও হয়ে পরতে পারেন।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একরকম জ্বর দিয়ে শুরু হয় এসব রোগ আর যখন শেষ হয় তখন আপনি হয়ে যান বেশ কাহিল।

জ্বর বা ঠাণ্ডায় খাবেন কতটুকু?
এ বিষয়ে বহু আগে থেকেই মানুষের নানা মত রয়েছে। তবে কার্ডিফে কমন কোল্ড সেন্টার-এর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, জ্বর হলে বেশিরভাগেরই খাবার আগ্রহ কমে যায়।

তাই তাদের পরামর্শ যে, এ রকম সময় নিজের শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই ভালো। তবে ক্ষুধা বেশি না পেলে একেবারেই জোর করা উচিৎ নয়।

জবরদস্ত সৈনিকের মতো নাকি শয্যাশায়ী?
বলা হচ্ছে, নিজের শরীরের মতি গতি অনুযায়ী চলতে। জোর খাটিয়ে কাজ না করে বরং কিছু বিশ্রাম নেয়া ভালো।

যতটা ক্লান্তি বোধ হয়, ততখানি বিশ্রাম নেয়াই ভালো।

অবশ্য সামান্য ঠাণ্ডা আপনাকে হয়তো বাইরে যাওয়া কিংবা কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না!

লেবু আর মধু নাকি গরম জলে সামান্য মদ?
যদিও এটি পুরোপুরি প্রমাণিত নয়, তবু বলাই যায় যে হুইস্কির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর গরম পানিতে লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণ।

ডাক্তাররা প্রচুর পানীয় পানের সুপারিশ করেন, বিশেষ করে পানি এবং সাথে কিছু পরিমাণ চা বা কফি।

যখন আপনার ঠাণ্ডা লাগে বা ফ্লু হয় তখন অনেক বেশি হাঁচি, কাশি এবং ঘাম হতে থাকে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে।

আর এতে করে শরীর কিছুটা পানি শূন্যও হয়ে পরে। আর তাই ঘাটতি পূরণের কথা বলা হচ্ছে।

তবে কখনই মাত্রাতিরিক্ত নয়। বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত পানি পান বিপজ্জনক হতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

প্যারাসিটামল নাকি আইবুপ্রোফেন?
দুটোই কার্যকর। এমনকি প্রয়োজনে প্যারাসিটামল এবং আইবুপ্রোফেন দু'টোই একসঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে লক্ষণ বুঝে।

তবে অবশ্যই মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। আর আইবুপ্রোফেন খাওয়া উচিত ভরা পেটে।

ইউক্যালিপটাস তেল নাকি মেনথল?
তেমন কোনো শক্ত প্রমান নেই যে এগুলো ঠিক ঠাক কাজ করে। তবে এসব ব্যবহারে কিছু সাময়িক উপশম মেলে। বুকে ঘষে কিংবা ফুটন্ত পানিতে দু-এক ফোঁটা দিয়ে তার বাষ্প টানলে নাক পরিষ্কার হয়।

ভিটামিন সি এবং জিঙ্ক?
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ১৯৩০-এর দশকে ভিটামিন সি ছিল সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। এটি সত্তরের দশকে এসে আরো বেশি জনপ্রিয় হয় যখন নোবেল বিজয়ী লিনাস পোলিং গবেষণা করে প্রমাণ করেন যে ভিটামিন সি ঠাণ্ডাজনিত রোগ উপশমে অনেকবেশি কার্যকর।

তবে সম্প্রতি ককরেন গ্রুপের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠাণ্ডা থেকে মুক্তিতে ভিটামিন সির ভূমিকা খুব বেশি নয়। এটি শরীরের জন্যে ক্ষতিকর নয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীর থেকে মূত্রের সাথে বেড়িয়ে যায়।

তবে জিঙ্ক ক্ষতিকর হয়ে দাড়াতে পারে যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই ভালো।

অ্যান্টিবায়োটিক?
বহু প্রচারণা চলছে কোন ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করা উচিত আর কোন ক্ষেত্রে নয়।

ঠাণ্ডা এবং ফ্লু ভাইরাস জনিত রোগ, আর অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে অকার্যকর। আর তাই এসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক একেবারেই ব্যবহার করা উচিত নয়।
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ