লোভ সংবরণ করবেন কীভাবে?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০৪

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, এবিনিউজ : কোনো মানুষকে মিষ্টি জাতীয় জিনিস বেশি পরিমাণে খেতে দেখলে সচরাচর যেটা মনে হয় তা হল, হয় মানুষটি ডায়াবেটিসে ভুগছেন অথবা কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ডায়াবেটিসের শিকার হবেন। বলা বাহুল্য, দুটো ধারণাই ভুল। মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা মোটেই ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে পড়ে না। এই রোগের নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ রয়েছে।

তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের একটা বড় অংশের যে নিষিদ্ধ ভাজাভুজি কড়া-মিষ্টিজাতীয় জিনিসের প্রতি লোভ থাকে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ডাক্তারের বারণ সত্ত্বেও ডায়াবেটিসের রোগী মিষ্টির দোকানে দাঁড়িয়ে বোঁদে কিংবা লেডিকিনি অথবা রেস্টুরেন্টে বসে নির্বিকারভাবে চপ-কাটলেট-ফ্রাই খেয়ে চলেছেন- এমন দৃশ্য মোটেই বিরল নয়।

ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীরের ভিতর মিষ্টিজাতীয় জিনিসের চাহিদা তৈরি হয়। মিষ্টির প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষার সেটাই অবশ্য যথেষ্ট কারণ নয়। আসলে মিষ্টি খাওয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যেসের সঙ্গে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের চিরন্তন আকর্ষণ যুক্ত হয় ডায়াবেটিসের রোগীটির মনে এক বেপরোয়া মনোভাব জাগায়। যার দরুন তিনি রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার বিপদকে উপেক্ষা করতে পারেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে মিষ্টি জাতীয় জিনিস খাওয়ার প্রবণতা যে বেড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একেবারে শৈশব থেকে মিষ্টিজাতীয় খাবারদাবারে আমরা অভ্যস্ত হই। এখন শিশুদের সামনে যে হাজারো ধরনের চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি বিস্কুট বা কুকিজ, আইসক্রিম সাজানো থাকে, পঞ্চাশ বছর আগেও তার প্রায় কিছুই ছিল না। কান্নার সময় মায়ের কাছ থেকে মিষ্টিজাতীয় জিনিস পেলে পেট যেমন ভরে, মিষ্টির রূপ নিয়ে মায়ের ভালোবাসা শিশুর মনটাকেও ভরিয়ে দেয়। তাছাড়া উপহার হিসাবে চকোলেট-পেস্ট্রি পাওয়া, জন্মদিনে কেক কাটা অথবা মিষ্টি পায়েস খাওয়ার অভ্যাসও শুরু হয় শৈশব থেকেই। এভাবেই মিষ্টি; ‘ভালোবাসা’ ‘সুখ’ সমার্থক হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে আবার মিষ্টি হল শুভ’র প্রতীক। ভালো কিছু ঘটলে মিষ্টি খাওয়ার রেওয়াজ বহুদিনের। পরিণত বয়সের মানুষ যে মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হন, সেটাও সম্ভবত সুখস্মৃতির প্রভাবে।

যাঁদের ধারণা ভারতীয় তথা বাঙালিদের মতো মিষ্টিখোর দুনিয়ায় নেই- ছানা অথবা ক্ষীরের মিষ্টি না বানালেও মিষ্টি খাওয়ার ব্যাপারে সাহেব-মেমরাও কিছু কম যান না। ওঁদের দেশে কত রকমের চকোলেট, কুকিজ, আইসক্রিম, ইয়োগার্ট আর ডোনাট যে তৈরি হয়, না দেখলে বিশ্বাস হবে না। ওদেশেও সুগারের রোগীরা লুকিয়ে লুকিয়ে সেসব খান।

গবেষকরা দেখেছেন, মস্তিষ্কে ‘সেরোটনিন’ নামে এক ধরনের রাসায়নিক পরিমাণে বাড়লে এবং সক্রিয় হলে আমাদের মধ্যে সুখের অনুভূতি জাগে। মিষ্টির মূল উপাদান গ্লুকোজ সেরোটনিনের পরিমাণ দ্রুত বাড়িয়ে তোলে। মিষ্টি খেলে যে মন ভালো হয়, সেটা অস্বীকার করার তাই উপায় নেই। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগী যাঁদের মিষ্টি খাওয়া বারণ তাঁরা কি করে তাঁদের লোভকে সংযত করবেন? কথায় বলে, ঘ্রাণেন অর্ধভোজনম্‌।

যে কোনো খাবার জিনিস তা সে মিষ্টিজাতীয় হোক বা না হোক, খাবার আগে তার গন্ধ বেশ খানিকক্ষণ ধরে নাকের মধ্যে নিলে খাবার ইচ্ছে কমে। সেটা খাবার সময় স্বাদটাও তারিয়ে তারিয়ে নেওয়ার দরকার। যে কোনো একটা কাজ, তা সে টিভি দেখা কিংবা গল্প করার সময়- মুখরোচক খাবার আমরা অজান্তেই বেশি খেয়ে ফেলি। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে তা সঙ্গে সঙ্গে না মিটিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করতে থাকলে, খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জয় করা সম্ভব। মিষ্টির দোকান চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি খেতে হবে- এমন ভাবনা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন। সাধারণত ১০-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারলে শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছেটা উবে যায়। সবচেয়ে বড় কথা ডায়াবেটিস হয়েছে বলে আমি কখনওই মিষ্টি খেতে পারব না- এমন ধারণা মন থেকে সরানো দরকার। পছন্দের মিষ্টিটা অবশ্যই খাবেন এবং সেটা আমার কাছে আসবে একটা উপহার হিসেবে। অনেক আগে প্ল্যান-প্রোগ্রাম করে একটু আধটু মিষ্টি খাওয়ার বিষয়ে কোনও ডাক্তারই বাধা দেবেন না, সেকথা হলপ করে বলতে পারি।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ