বাপের পেছনে গোয়েন্দা লাগে ২৮ বছরে, ছেলের পেছনে লাগল দেড় বছরেই

  অজয় দাশগুপ্ত

১৭ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

মে মাসের মাঝামাঝি, ১৯৬৬ সাল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে সাক্ষাৎকার কক্ষ। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে কথা বলছেন। সপ্তাহ খানেক আগে ৯ মে গভীর রাতে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। তিন মাস আগে লাহোরে পূর্ব বাংলার মুক্তি সনদ ৬-দফা প্রদানের কারণে তিনি বাংলার নয়নমণিতে পরিণত হয়েছেন। শেখ মুজিব কোলে তুলে নিলেন দেড় বছরের শেখ রাসেলকে। তাদের খুব কাছেই এক গোয়েন্দা  ঘোরাফেরা করছে।

বেগম মুজিবঃ বাপের পেছনে গোয়েন্দা লেগেছিল ২৮ বছর বয়সে, ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি থেকে। আর আমার এই রাসেলের বয়স দেড় বছর হতে না হতেই গোয়েন্দা লেগেছে। তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ডিসির কাছে আবেদন করার পর রাসেলের বাপ-দাদার পরিচয় নিয়েও কত প্রশ্ন গোয়েন্দাদের।

মুজিবঃ দেখতে হবে না কার ছেলে? রেণুর ছেলে যে কেমন হবে, সেটা ওরা ঠিক বুঝতে পেরেছে।

বেগম মুজিবঃ ওদের প্রশ্নে মনে হচ্ছিল হাসিনা-কামালরাও ছিলই, আমার এই শিশু রাসেলও নিজ হাতে ৬-দফা লিখেছে। পাকিস্তান ভেঙ্গে আলাদা বাঙালির দেশ গড়তে চায়।   

বঙ্গবন্ধু ‘কারাগারের রোজনামচা’ লেখা শুরু করেন ১৯৬৬ সালের ২ জুন থেকে। গ্রেফতারের এক মাস পর  বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ৯ জুন। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ‘জমাদার সাহেব এসে বললেন, আপনার ইন্টারভিউ আছে, বেগম সাহেবা ছেলেমেয়ে নিয়ে এসেছেন। হঠাৎ এল, ব্যাপার কি! আজকাল তো ১৫ দিনের কমে দেখা করতে দেয় না। ... ছোট ছেলেটা পূর্বের মতোই ‘‘আব্বা’’ ‘‘আব্বা’’ বলে চিৎকার করে উঠল।’

শেখ রাসেলের কারাগার ‘দেখার’ এটাই প্রথম উল্লেখ। পরের ‘দেখা’র বিবরণ রয়েছে ১৫ জুন। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ‘১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসে না যে পর্যন্ত আমাকে না দেখে।... এখন ওর ধারণা হয়েছে এটা ওর আব্বার বাড়ি।... ছোট মেয়েটার শুধু একটা আবদার। সে আমার কাছে থাকবে। আর কেমন করে থাকি তা দেখবে।... হাচিনার কলেজ বন্ধ, তাই খুলনা যেতে চায়।... জামালের শরীর খারাপ, গলা ফুলে গেছে।’

বঙ্গবন্ধু ১৯৬৪ সালের ৭ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর দুই বার গ্রেফতার হয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে। শেখ রাসেলের জন্ম এর কিছু দিন আগে, ১৮ অক্টোবর। ১৯৬৬ সালে তাকে যশোরে গ্রেফতার করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জামিন পান। ২২ এপ্রিল ফের ঢাকায় গ্রেফতার করে সিলেট নেওয়া হলে পরদিন সেখানে জামিন পান। কিন্তু সিলেটেই গ্রেফতার করে ময়মনসিংহ নেওয়া হলে সেখানেও জামিন মেলে। এ সময় শেখ রাসেলের পিতা শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা ঘটেনি।

কারাগারের রোজনামচায় বঙ্গবন্ধু ২৯ জুন লিখেছেন, ‘... আমার স্ত্রী আসে নাই। তার শরীর অসুস্থ কয়েকদিন ধরে। ...ছেলেমেয়েরা ওদের লেখাপড়ার কথা বলল।... বড় ছেলে কিছু বলে না, চুপ করে থাকে। লজ্জা পায়।... নিশ্চয়ই রেণুর শরীর বেশি খারাপ নতুবা আসত। সামান্য অসুস্থতায় তাকে ঘরে রাখতে পারত না।’

কী কষ্টের জীবনই না গেছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪ হাজার ৬৮২ দিনের কারাজীবনের ভয়ঙ্কর অধ্যায় শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে দুটি মামলায় এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আপিল করে তিনি জামিন পেয়ে যান। ৮ মে নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষে ঢাকা ফেরার পর তাকে ধানমন্ডি বাসা থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় দুই বছর ৮ মাসের এ জেল জীবনের সময় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও ক্যান্টনমেন্টে সন্তানদের নিয়ে স্বামীর সঙ্গে অনেক বার সাক্ষাৎ করেছেন। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়াও সাক্ষাৎ প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এ সময়ের সাক্ষাতের কিছু বিবরণ মেলে ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে।

বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ৬ জুলাই (১৯৬৬) সিকিউরিটি জমাদার এসে বলেন ‘চলিয়ে, বেগম সাহেবা আয়া।’ ২৬ জুলাই ‘দেখা’ প্রসঙ্গে লিখেছেন ‘রেণু আমার বড় মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব এনেছে... আমার মতামত চায়।’ ৩ আগস্ট লিখেছেন ‘দেখা’ এসেছে। আমার স্ত্রী ছোট বাচ্চা নিয়ে এসেছে। ৭ সেপ্টেম্বর লিখেছেন ‘রেণু দেখা করতে এসেছিল। রেহানার জ্বর, সে আসে নাই। রাসেল জ্বর নিয়ে এসেছিল। হাসিনার বিবাহের প্রস্তাব এসেছে।... মেয়েটা এখন বিবাহ করতে রাজী নয়। কারণ আমি জেলে, আর বিএ পাশ করতে চায়।’

১৯৬৭ সালের ১১ জানুয়ারি ঈদের দুদিন আগের ‘দেখা’ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ‘রেণু এসেছে ছেলেমেয়ে নিয়ে দেখা করতে। আগামী ১৩ই ঈদের জামাত। ছেলেমেয়েরা ঈদের কাপড় নেবে না। ঈদ করবে না। ঈদ করবে না, কারণ আমি জেলে।... জীবনে বহু ঈদ এই কারাগারে আমাকে কাটাতে হয়েছে, আরও কাটাতে হয় ঠিক কি!’

এই ঈদের পরদিন বেগম মুজিব বিশেষ অনুমতি নিয়ে কারাগারে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এ বছরের ১৭ মার্চ জন্মদিনে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের সদস্যদের ‘দেখা’ পেয়ে লিখেছেন ‘ছোট মেয়েটা আর আড়াই বছরের ছেলে রাসেল ফুলের মালা হাতে করে দাঁড়াইয়া আছে। মালাটা নিয়ে রাসেলকে পরাইয়া দিলাম। সে কিছুতেই পরবে না, আমার গলায় দিয়ে দিল।’ ২২ মার্চ কোরবানীর ঈদে বেগম মুজিব কারাগারে অনেক বন্দি যেন খেতে পারে, সে পরিমাণ খাবার পাঠিয়েছিলেন।

পরের সাক্ষাতের বিবরণ রয়েছে ১৪ এপ্রিল। এ দেখা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ১৪ দিনে একদিন ‘দেখা’ আইনে আছে, তাই বোধ হয় তিনি (পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান) বন্ধ করেন নাই মেহেরবানি করে। সংসারের অনটন প্রশ্নে বেগম মুজিব স্বামীকে বলেন ‘যদি বেশি অসুবিধে হয় নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়ে ছোট বাড়ি একটা ভাড়া করে নিব।’

২৮ এপ্রিলের ‘দেখা’ প্রসঙ্গে লিখেছেন ‘বহুদিন পরে ছেলেমেয়েদের ও রেণুর সাথে প্রাণ খুলে কথা বললাম। প্রায় দেড় ঘণ্টা।’ একটি মামলায় শাস্তি হওয়ায় এ সুবিধা! কারা আইনে বিনাবিচারে আটক নিরাপত্তা বন্দি হলে সাক্ষাতের সময় গোয়েন্দা উপস্থিত থাকে, কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষেত্রে সেটা ঘটে না। তিনি সন্তানদের বলেন, ‘আমি তো সারাজীবনই বাইরে বাইরে অথবা জেলে জেলে কাটাইয়াছি তোমার মা’ই সংসার চালাইয়াছে।’

১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের নির্জন সেলে স্থানান্তর করা হয়। মোট ৩৫ জন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী, ১ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমান। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন একাকী কামরায় রাত্রদিন থাকা যে কি ভয়াবহ অবস্থা তাহা ভুক্তভোগী ছাড়া বুঝতে পারবে না।... সূর্যের আলোও গায়ে স্পর্শ করার উপায় নাই। [পৃষ্ঠা ২৬৩]। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া লিখেছেন ‘এপ্রিল মাসে (১৯৬৮) বঙ্গবন্ধু ক্যান্টনমেন্টে আছেন, খবর পাওয়া যায়। ... একদিন সকাল বেলা সাদা পোশাক পরিহিত দু’জন কর্মকর্তা বাসায় এসে আমাদের জানায় যে, সে দিন বিকেল তিনটায় শাশুড়ি ও তার ছেলেমেয়েদের শেখ সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি দিয়েছেন।... শাশুড়ি, শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, রেহানা ও শিশু রাসেলকে যথাসময়ে সাক্ষাৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ... দুই সপ্তাহ পর আবার সাক্ষাৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়। ’ [পৃষ্ঠা ৩৩]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে ভর্তি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, নিষ্ঠুর সেই দিনে তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মালা হাতে রাস্তায় থাকার কথা ছিল, যা পরিয়ে দেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের গলায়। একজন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর যে অনেক কিছু!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসা ছাড়েননি। গাদাগাদি করে থাকতে হতো। শেখ রাসেলের গৃহশিক্ষক গীতালি দাশগুপ্তা আমাকে বলেছেন, পড়ানোর জন্য একটু নিরিবিলি জায়গা পাওয়া সহজ ছিল না। তদুপরি রাসেল ছিল দূরন্ত। পড়ানো শুরুর মাস খানেক পর শেখ হাসিনা একটি শাড়ি গৃহশিক্ষকের হাতে তুলে দিয়ে বলেন ‘রাসেলকে টানা এক মাস পড়াতে পারার জন্য এই নাও উপহার। এর আগে কোনো শিক্ষক এক মাস টেকে নাই।’

গীতালি দাশগুপ্তা বলেন, একবার শেখ জামালের ঘরে পড়াচ্ছি। গৌতম বুদ্ধের একটি পিতলের মূর্তি দেখিয়ে তাঁর জীবনের নানা ঘটনা বলি। মহাপুর“ষদের জীবনী খুব উৎসাহ নিয়ে শুনত। পরদিন পড়াতে গেলে বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেন, ‘মাস্টর, এত বড় সর্বনাশ করলি।’ স্বাভাবকিভাবেই শিক্ষক উদ্বিগ্ন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ছোট ছেলেকে কোনো ভুল শিক্ষা দিয়েছে কী?

বঙ্গবন্ধু তাকে কাছে ডেকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন তুই গৌতম বুদ্ধের জীবন কাহিনী রাসেলকে বলেছিস? ও গত রাতে একটা পর্যন্ত জেগেছিল। আমি কাজ শেষে ঘুমাতে গেলে বুদ্ধদেব সম্পর্কে আরও জানতে চায়।

১৯৭২ সালের জুলাই মাসে বঙ্গবন্ধু চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের সময় পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিল। বঙ্গবন্ধু সুস্থ হলে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বাজারে নতুন আসা সিনথেটিক শাড়ি কিনলে রাসেল বায়না ধরে তার শিক্ষকের জন্যও কিনতে হবে। দুই বোন শাড়ি নিয়ে ফিরলে রাসেলের মনে হয় যে তাঁর শিক্ষকের জন্য কেনা শাড়িটির চেয়ে দুই আপার শাড়ি সুন্দর। এ নিয়ে অভিমান করে, কান্নায় বুক ভাসায়। শাড়ি পেয়ে খুব খুশি হয়েছে শিক্ষক এটা জানানোর পরই কেবল রাসেলের মন ভাল হয়।

আরেকবার সকালে পড়ানোর পর বেগম মুজিব গীতালী দাশগুপ্তাকে বলেন ফেরার সময় যেন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে যায়। সেখানে গেলে বিছানার ওপর একটি শাড়ি ও কয়েক ধরনের কসমেটিক্স দেখিয়ে বলে এ সব নিয়ে আমাকে উদ্ধার কর। পছন্দ না হলে যেখানে খুশি ফেলে দিও। কিন্তু তোমার ছাত্রকে দয়া করে বলো পছন্দ হয়েছে। নইলে রক্ষা নাই। এক আত্মীয় কিছু গিফট দেওয়ার পর থেকেই রাসেল বলছে আমার শিক্ষকের জন্য যেন রাখা হয়।

আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতেন পাভেল রহমান। ১৯৭২ সালের শেষ দিকে আমি যখন ছাত্রদের সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জয়ধ্বনি’-এর সম্পাদক, পাভেল রহমান কাজ করতেন জনপ্রিয় এ পত্রিকার ফটোগ্রাফার হিসেবে। ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ এবং ডাকসুর নানা অনুষ্ঠানের তিনি ছবি তুলতেন। শেখ  কামাল তাকে আবাহনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি তোলার অনুরোধ করলে সে রাজী হয়ে যায়। এ সুবাদেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাসভবনে তাঁর নিত্য যাতায়াত। রাসেল তার অনুরাগী হয়ে পড়ে। একদিন পাভেল দেখেন, রাসেল তাদের বাড়ির দেয়াল ঘেসে একটি পুকুরের মতো তৈরি করেছে মাছ চাষ করবে। মহা উৎসাহ তাঁর। আরেকদিন অনুরোধ করে সে যখন সাইকেল চালায়, একটা ছবি তুলে দিতে হবে। আবাহনী একবার ফুটবলে একটি ছোট ক্লাবের কাছে হেরে যায়। রাসেলের সে কী কান্না। কষ্টের কথা পাভেলের কাছে বলে কিছুটা হাল্কা হয়েছিল। এ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ শেখ কামালের বিয়ে হয় ১৯৭৫ সালের আগস্টের প্রথম দিকে। গায়ে হলুদ, বিয়ে ও বৌভাতের (প্রকৃতপক্ষে জাতির পিতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর জ্যেষ্ঠ পুত্র কামালের বিয়ে উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের চা-সিঙ্গারা-মিষ্টি খাইয়েছিলেন) সব অনুষ্ঠানের ছবি তোলেন পাভেল। গায়ে হলুদের দিনে আবাহনীর কয়েকজন কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছবি তুলতে দাঁড়িয়ে যান। রাসেলও রয়েছে এ দলে। এ সময় বঙ্গবন্ধু বলেন ‘তোরা তো সব আবাহনী, আমিই একমাত্র ওয়ান্ডারার্স।’ রাসেল এ কথা শুনে অভিমানে দূরে সরে যেতে যেতে বলে আমি ওয়ান্ডারার্সের সমর্থকের সঙ্গে ছবি তুলব না।

১৯৬৭ সালের ১৭ মার্চ আড়াই বছরের শিশু রাসেল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি পিতাকে জন্মদিনে মালা পরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সাড়ে দশ বছরের রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে মালা পরিয়ে দিতে পারেনি! এমন একটি সুন্দর মুহূর্ত আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই ঘাতকেরা দু’জনের প্রাণ কেড়ে নেয়!

লেখক: মুক্তিযোদ্ধা, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু গঠিত জাতীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক।

এই বিভাগের আরো সংবাদ