প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার নিন্দনীয়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫৭

মিল্টন বিশ্বাস, ০৩ আগস্ট, এবিনিউজ : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে যে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা রাজপথে প্রতিবাদ জানাচ্ছে কিংবা সড়ক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে তাদের নিয়ে নানা বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে, চলছে নানা খেলা। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু কুচক্রীমহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা এবং বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে।

জানা গেছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিশু শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কিছু কুচক্রী মহল বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নামে বিভিন্ন বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পোস্ট করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা ওইসব বানোয়াট সংবাদ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। ওইসব সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের অপসংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

অথচ আমরা জানি বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপসমূহ হলো : শহীদ রমিজউদ্দিন স্কুলকে পাঁচটি বাস বরাদ্দ। স্কুল সংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের ব্যবস্থা। দেশের প্রত্যেকটি স্কুলসংলগ্ন রাস্তায় স্পিড ব্রেকার নির্মাণ। স্কুলের পাশে বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ। নিহতের দুই পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র প্রদান। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা। দ্রুত মামলা শেষ করার বিধান রেখে আইন সংশোধন। জাবালে নূরের রোড পারমিট বাতিল এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফিটনেসবিহীন সকল পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল। লাইসেন্সবিহীন ভুয়া ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ। নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত, সমবেদনা প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা। জাবালে নূর পরিবহনের মালিকের ৭ দিনের রিমান্ড। গাড়ির চালক মো. মাসুম বিল্লাহ সাত দিনের রিমান্ডে।

এ ছাড়া এ মামলায় গ্রেফতার মো. এনায়েত হোসেন, মো. সোহাগ আলী, মো. রিপন হোসেন এবং মো. জোবায়েরকে কারাগারে প্রেরণ। ৬ আগস্ট এদের রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে এবং মহাসড়কগুলোতেও চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরিতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

২.

লেখাবাহুল্য, তবু অপপ্রচার থেমে নেই। এই অপপ্রচার চলছে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনকালে কোনো ঘটনা ঘটলেই বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মাঠে ময়দানে প্রকাশ্যে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন এবং এখনো হচ্ছেন। ২০০৯ সালের বিডিআর কর্তৃক সেনা কর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে কিংবা জাতির পিতাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ করে ইতিহাস বিকৃত করা থেকে পদ্মাসেতুর দুর্নীতির তথাকথিত অভিযোগ সবই তারা অতি উৎসাহী হয়ে ফেসবুক ও অনলাইন নিউজে বিশদভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে। ইসলাম প্রসারে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অনন্য কৃতিত্ব ও অবদানকে মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকে আওয়ামী লীগ থেকে বিমুখ করতে চেয়েছে বিএনপি-জামায়াত। অবশ্য এখন সত্য উন্মোচিত হয়েছে যে, শেখ হাসিনাই ইসলাম প্রসারে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন এদেশে।

     ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর ভারত বিরোধী সুড়সুড়ি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে; ২০১৮ সালে এসে আবার ভারতের পক্ষে কথা বলা হচ্ছে বিএনপি’র তরফ থেকে। দেখা যাচ্ছে, অপপ্রচারের অস্ত্র সবটাই এখন জামায়াত-বিএনপির হাতে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে মনে করছে জামায়াত-বিএনপি। কয়েক বছর আগে ওয়াশিংটন টাইমসের মতামত পাতায়  প্রকাশিত খালেদা জিয়ার(দুর্নীতির মামলায় কারাগারে) একটি নিবন্ধ ছিল বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অন্যতম দৃষ্টান্ত। তখন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিদেশের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করার মধ্যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বও প্রকাশিত হয়।

২০০৯ সালের ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর কর্তৃক মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নিধনের পরে আমেরিকা প্রবাসী কলামিস্ট সুনীতা পাল প্রচার করেছিল বিদ্রোহী নেতাদের সজীব ওয়াজেদ জয় দুবাই এয়ারপোর্টে নিজ হাতে টাকার প্যাকেট দিয়েছে। তার লেখায় পুরো বিদ্রোহের নীল নকশা তুলে ধরা হয়েছে। পরে প্রমাণিত হয়েছে সুনীতা পাল ও তার আমেরিকান মিডিয়া ‘ভুয়া’। মোসাদের এজেন্ট সালাউদ্দিন শোয়েবের ছায়া সে। সেই ধারায় রয়েছেন অনেকেই।

বর্তমানে বিদেশী অনেক ব্যক্তিই মৌলবাদী জামায়াত-শিবিরের চোখের মণি। দেশ-বিদেশে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিচিত্র অপপ্রচার বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্তিতে ফেললেও আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা পুনর্বহাল হতে দেখা গেছে বারবার। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার কর্তৃক পরিচালিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এবং তাদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে উত্তাল গণজাগরণমঞ্চ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশিত হয়। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় অপপ্রচার বন্ধ করার জোর দাবিও জানানো হয় তখন।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এদেশের কিছু রাজাকারের সাক্ষাৎকার নিয়ে অসত্য তথ্য সম্প্রচার করে। সেসময় বিবিসি প্রচার করে, শাহবাগের এই গণজাগরণে নাকি এক হাজার লোকের জমায়েত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের প্রথম রায়ে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার খবর বিবিসি’তে ফলাও করে সম্প্রচার করা হলেও এই গণমাধ্যমে আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে সুপরিচিত মুসলিম ধর্মপ্রচারক ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা হয়।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সময় নৃসংশতার তদন্তে গঠিত বিতর্কিত সংস্থার প্রথম রায়ে দেশের ‘একজন জনপ্রিয় ইসলাম ধর্মের প্রচারককে’ মৃত্যুদ- দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে খবরে জানায় এপি। আল-জাজিরার খবরেও ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত উল্লেখ করে এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

        এসব অপপ্রচার সরকারের ওপর আস্থাকে কিছুটা হলেও দুর্বল করে তোলে। কারণ বাংলাদেশের সরকার আলেম-ধর্মপ্রচারকদের জুলুম-নিপীড়ন-নির্মূল করার মিশনে নেমেছে- মুসলিম বিশ্ব এমন ধারণা পাচ্ছিল এবং এ রায়ের বিপক্ষে জনমত তৈরি হতে পারে বলে আমরা মনে করেছিলাম। এটা স্পষ্ট যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একজন আইন বিশেষজ্ঞের কথিত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ ও বিশ্ব গণমাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিতে যুদ্ধাপরাধের নেতৃত্ব দেয়া দল জামায়াতে ইসলামী দেশে-বিদেশে লবিং করেছিল। এজন্য ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় রায়ে যুদ্ধাপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধ সাব্যস্ত হওয়ায় কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয়ার পর গণমাধ্যমগুলো জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলকে ব্যাপকভাবে প্রচার করে।

পক্ষান্তরে দেশজুড়ে কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শুরু হওয়া গণজাগরণ মঞ্চের কর্মকান্ড প্রচার করেনি। দেশ-বিদেশের এতকিছু অপপ্রচারকে মোকাবেলা করে ২০১৩-এর ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। জনগণের আস্থা ফিরেছে সরকারের ওপর। গতবছর(২০১৭) পদ্মাসেতুর দুর্নীতির অভিযোগও প্রত্যাহার করা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে। অথচ আমরা সকলেই জানি সেই ইস্যুতে অপপ্রচার কী ভয়ানক হয়ে উঠেছিল নোবেল জয়ী ড. ইউনুসের ইন্ধনে।

৩.

অপপ্রচার গুরুত্ব হারাচ্ছে কেবল শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণের কারণে। জনগণের কাছে নেতৃত্বের একটি ভিন্নতর আবেদন থাকে যা কোনো ব্যক্তির গুণাবলির প্রতি জনগণের মধ্যে আকর্ষণ ও  সক্রিয়তা সৃষ্টি করে। নেতা সবসময় নির্দিষ্ট গুণাবলির দ্বারা সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা। তাঁর রয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যতিক্রমী ক্ষমতা যা সাধারণ ব্যক্তির মধ্যে অনুপস্থিত। এজন্য তিনি নেতা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন।

শেখ হাসিনা প্রকৃতপক্ষে আলাদা, ভিন্ন, স্বতন্ত্র ও নেতৃত্বের গৌরবজনক আসনে সমাসীন। তিনি জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করেছেন; সংকট উত্তরণে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি জনতার আকাক্সক্ষাসমূহ এবং টিকে থাকার বাস্তবতার মধ্যে সেতু বন্ধনের সাহায্যে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর নেতৃত্বের সাফল্যে বাংলাদেশ আজ গৌরবজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

১৯৭৪ সালে মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাস্তবতায় ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ ধরনের মন্তব্য করেই ক্ষান্ত হননি তিনি বিভিন্ন দেশে ও সংস্থাকে পরামর্শ দেন বাংলাদেশকে কোনো প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা না করার। তাদের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের পরও বাংলাদেশ আজ বিশেষ অবস্থানে পৌঁছেছে। একারণে শেখ হাসিনার শাসনামলেই কিসিঞ্জারের পরবর্তী নেতৃবর্গ ইতিবাচক সুরে কথা বলছেন। বাংলাদেশ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৌরবজনক আসনে সমাসীন।

অপপ্রচারকে আমলে না নিয়ে বলা যায়, বর্তমান প্রজন্মের কাছে শেখ হাসিনা এক আশ্চর্য সাহসী রাজনীতিকের নাম; যাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলেছে। তাছাড়া শেখ হাসিনাবিহীন যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এজন্য তরুণ প্রজন্ম প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি-জামায়াতকে। আবার নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বীভৎস চিত্র গণমানুষকে আতঙ্কিত করে তোলায় তারা আওয়ামী লীগের ধারাবাহিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করে। এদিক থেকে ৫ জানুয়ারির(২০১৪) নির্বাচন আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।

বিএনপির অবরোধ-হরতাল-নাশকতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ২০১৫ সাল ২০১৪-এর মতোই ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সহিংসতা আর জ্বালাও-পোড়াও করে অতীতে তারা থামাতে পারেনি যুদ্ধাপরাধের বিচার। বরং ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারের মতো কুখ্যাত অপরাধীর ফাঁসির রায় জনগণকে শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল করে তুলেছিল অনেক বেশি। আরেক কুখ্যাত সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হলে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে জামায়াতের বাঁচা-মরার আন্দোলনও দমে যায়। শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, কূটনীতিক দিক থেকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সব বিরূপ পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিয়ে এসেছেন। তাঁর মন্ত্রিসভায় যুক্ত আছেন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিকরা।

কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদার বানিয়ে ফেলেছেন রাশিয়া ও জাপানকে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়েছে। পূর্বমুখী কূটনীতির অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। নিজের সরকারের উন্নয়নের মডেল অন্যান্য দেশের কাছে উপস্থাপন করে প্রশংসিত হয়েছেন। ২০১৭ সালে দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে এদেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি এখন মহিমান্বিত রাষ্ট্রনায়ক।

দেশের দুটি ধারার রাজনৈতিক বলয়ের একটির লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে উন্নত মানের রাষ্ট্রে পরিণত করা। অন্যদিকে আরেকটি শক্তির অভিলাষ, যে কোনো মূল্যে ১৫ কিংবা ২১ আগস্টের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়া। দ্বিতীয় ধারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে জনগণের দ্বারা। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মান বেড়েছে, বেড়েছে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতা আকড়ে থাকার অভিনবত্ব।

৪.

মূলত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে- এটা নিশ্চিত। তাই আওয়ামী পরিবারের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অশুভ শক্তির মোকাবেলা করতে হবে। সামনে বাধা এলে তা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলায় সচেষ্ট থাকতে হবে। ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা ও স্বপ্নকে হত্যা করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা জীবিত রয়েছেন। তিনিই তাঁর পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা বসে নেই; ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তাই সকলকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণ বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তাঁর সম্পর্কে সকল অপপ্রচার মোকাবেলা করা হবে এবং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

(সংগৃহীত)

লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ