যাঁর গলায় সাজে তাঁকেই মণিহারটা দেওয়া হয়েছে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪৬

আবদুল মান্নান, ২৫ জুলাই, এবিনিউজ : শনিবার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর নিজ দলের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পর পর তাঁর দুই মেয়াদের শাসনামলে দেশের ও তাঁর নিজের অর্জনের জন্য এক বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনার জবাবে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে’। শেখ হাসিনার সর্বশেষ অর্জন ছিল ভারতের আসানসোলে অবস্থিত কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে এই সম্মানজনক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা নেওয়ার সময় তিনি যে বিনয়ের উদহারণ সৃষ্টি করেছেন তা তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে মেশার বা কাজ করার সুযোগ যাঁদের হয়েছে, তাঁদের কাছে এর অসংখ্য উদহারণ আছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সংবর্ধনার ঠিক আগের দিন বিএনপি প্রায় দুই বছর পর নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি দলীয় সভা করেছে। ঢাকার বাইরেও তারা একাধিক স্থানে সভা করেছে। তাদের সভা কোনো ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ছিল না। ছিল তাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যিনি বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খাটছেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার ছেলে, আইনের দৃষ্টিতে যিনি পলাতক ও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, সেই তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে। দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ভিন্ন উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হলেও বাস্তবে দুটি সমাবেশই আসন্ন নির্বাচনের আমেজ তৈরি করেছিল এবং দুই সমাবেশেই দলের নেতারা সেই নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। বিএনপির সভা নিয়ে পরে আলোচনা করছি।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে দু-একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি দিয়ে লেখাটা শুরু করি। ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগপ্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পথসভা করবেন। মাঝপথে বান্দরবান যাবেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে যোগ দিলাম চন্দনাইশে। সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান কায়সার (বর্তমানে প্রয়াত)। চন্দনাইশ কর্নেল অলির এলাকা বলে একটু বাড়তি নিরাপত্তা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন। আমাদের কাজ প্রথমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে পরের গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা দেওয়া। তা সেরে গাড়ি ছুটে চলল বান্দরবানের দিকে। পেটে বেশ খিদে। বান্দরবান পৌঁছতে পৌঁছতে দুপুর প্রায় ২টা। সার্কিট হাউসে আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। কেয়ারটেকার বললেন, জেলা প্রশাসক হুকুম দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী না আসা পর্যন্ত কাউকে খাবার দেওয়া যাবে না। প্রায় আধাঘণ্টা পরে শেখ হাসিনার গাড়িবহর সার্কিট হাউসে পৌঁছাল। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি জানতে চাইলেন সবাই খেয়েছেন কি না। কায়সার ভাই বলে ফেললেন—‘নেত্রী, আপনি না আসা পর্যন্ত নাকি খাবার দেওয়া যাবে না।’ শুনে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের ওপর বেশ রাগ করলেন। বললেন সবাইকে খাবার দিতে। তিনি নিজ হাতে সেই খাবার পরিবেশন করতে লেগে গেলেন। শুনলেন না কারো অনুরোধ। আমার সামনে তখন তিনি কোনো প্রধানমন্ত্রী নন। মনে হলো একজন স্নেহময়ী বড় বোন। ২০০০ সালে পবিত্র মিনায় তিনি বাংলাদেশি হাজি সাহেবদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে সকালে বাংলাদেশ সেক্টরে আসবেন, হজ মিশন থেকে আমাদের হজ কাফেলার প্রধান চট্টগ্রামের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিনের কাছে খবর দেওয়া হলো। তিনি আমাকে বললেন, ‘স্যার, আপনি সকালের নামাজ আর নাশতা খাওয়ার পর খবরটা হাজি সাহেবদের জানাবেন এবং তিনি যাতে উপস্থিত হাজি সাহেবদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তার ব্যবস্থা করবেন। যথাসময়ে হাজি সাহেবদের খবরটা দেওয়া হলো। বলা হলো, তাঁরা যেন তাঁদের তাঁবুটাকে একটু পরিষ্কার করে রাখেন। মোয়াল্লেম অফিস থেকে একটি টেবিল আর একটি কাঠের চেয়ার আনা হলো। নিচে একটা জায়নামাজও পাতা হলো। সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী সৌদি পুলিশের নিরাপত্তাবহরের একটি গাড়িতে তাঁবুর সামনে নামলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী আর আমি দরজা খুলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানালাম। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে প্রশ্ন করি—‘আপা, চেয়ারে বসবেন নাকি নিচে?’ পাল্টা প্রশ্ন—‘অন্যরা কোথায় বসেছেন?’ বলি ‘নিচে’। ছোট্ট জবাব। ‘অন্যরা নিচে বসলে আমি কেন চেয়ারে বসব?’ বলেই তিনি তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করলেন, সবাইকে সালাম দিয়ে নিচে পাতা জায়নামাজে বসলেন, সবার দোয়া চাইলেন।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাবেন। সবার প্রত্যাশা, তাঁদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাঁদের পদক পরাবেন। তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হলো, তিনি শুধু ৩০ জনকে পরাবেন। বাকিরা বেশ হতাশায় ডুবে গেলেন। তাঁদের কত দিনের স্বপ্ন বুঝি ভেস্তে যায়। এ ব্যাপারে তাঁর হস্তক্ষেপ চাইতেই আমার ডাক পড়ল গণভবনে। সব শুনে বললেন, তিনি সবাইকেই পরাবেন। যেদিন তিনি স্বর্ণপদক সবাইকে পরালেন, সেদিন ৩০০ জন তরুণ-তরুণীর মনে ঈদের আনন্দ লেগেছিল। সিদ্ধান্ত ছিল যেহেতু একসঙ্গে দুই বছরের স্বর্ণপদক দেওয়া হচ্ছে, সময় বাঁচানোর জন্য সবাইকে নিয়ে একবারই গ্রুপ ছবি ওঠানো হবে। বাদ সাধলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। না। আলাদা আলাদা ফটোসেশন হবে। সেদিনের সেই আনন্দ যাঁরা দেখেননি তাঁদের পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন—একজন শেখ হাসিনা কেমন করে বদলে দিতে পারেন সব কিছু। একদিন তাঁর কাছে একান্তে জানতে চেয়েছিলাম তিনি নিরন্তর ঝুঁকির মধ্যেও এই বয়সে এত পরিশ্রম কিভাবে করেন? উত্তরে তিনি মাথার ওপর পিতার ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সব সময় মনে হয় বাবা আমার মাথার ওপর হাত রেখে বলছেন, আমি আছি মা।’ আমি কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে উঠে পড়ি।

এ বছর বঙ্গবন্ধুকন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আমার একটি লেখার শিরোনাম ছিল—‘একজন শেখ হাসিনা নয়, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিল বাংলাদেশ।’ অনেকেই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, এ বিষয়ে এমন জুতসই শিরোনাম আর হতে পারে না। এই শিরোনাম দেওয়ার কারণ ছিল, ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরের ২১ বছর ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে পর্যায়ক্রমে জিয়া, এরশাদ আর খালেদা জিয়া মিলে আবার একটা মিনি পাকিস্তানে রূপান্তর করে ফেলেছিলেন। এই তিনজনের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর কৃপাধন্য জেনারেল জিয়া আর পরবর্তীকালে তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকদের দল জামায়াত-শিবিরকে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া আরো একটু ওপরে উঠে এই ঘাতকরা যে দেশকে আঁতুড় ঘরেই গলা টিপে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজনকে স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রী বানিয়ে ইতিহাসে একজন ভিলেন হিসেবে নিজের স্থান স্থায়ী করে নিয়েছেন।

শনিবারের সংবর্ধনা সভায় শেখ হাসিনা আবারও বলেছেন, দেশ থেকে তিনি কিছু চান না। যে কয় দিন বাঁচেন তিনি দেশকে কিছু দিতে চান। বলেছেন, তিনি দিনে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। তাঁর সঙ্গে দু-একবার বিদেশে সফরসঙ্গী হয়ে বুঝেছি, তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করা শুধু কঠিনই নয়, রীতিমতো দুরূহ। করতে হলে তাঁর মতোই ক্লান্তিহীন ছুটতে হবে। তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আজ বাংলাদেশ একটি ফকির-মিসকিনের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে সিঁড়ির প্রথম ধাপে উঠেছে। তিনি বিশ্বব্যাংকের চোখে চোখ রেখে বলতে পারেন, চাই না আপনাদের অর্থ—পদ্মার ওপর সেতু আমরা নিজের অর্থেই নির্মাণ করব। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে পদ্মার ওপর সেতু এখন বাস্তব। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর নিচ দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ শুরু হয়েছে। এক দশক আগেও তা একটি স্বপ্ন ছিল। অনেক দেশ নিজ দেশে দুই-চার হাজার অনুপ্রবেশকারী ঢুকলে মাতম শুরু করে। পাশের দেশ মিয়ানমার এক ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঠেলে দিল। একজন মমতাময়ী শেখ হাসিনা বললেন, তিনি সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চান, আর তিনি যদি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারেন, ১১ লাখ বাড়তি মানুষকেও খাওয়াতে পারবেন। রকেট আর উপগ্রহের নাম বাচ্চারা স্কুলে পড়েছে। বড়রা রাশিয়া আর আমেরিকার মহাশূন্য জয়ের কাহিনি শুনেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রশ্ন, অন্যরা পারলে আমরা কেন পারব না। একদিন মহাশূন্যে উড়ল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আগে ঘুরুক, তারপর দেখা যাবে।’ এখন সেই উপগ্রহ শুধু ঘুরছেই না, বাংলাদেশে সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। ফখরুল-রিজভী গং বললেন, ‘আগে আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, তারপর অন্য কথা।’ বিশ্ব অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, কোথা থেকে এমন সাহস আসে একজন শেখ হাসিনার? বিশ্বমোড়লরা ডেকে নেন শেখ হাসিনাকে তাঁর এই সাহসের গল্প শুনতে। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট—সবাই ছুটে আসেন দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের শেখ হাসিনার জাদুর রহস্য জানতে। তিনি বলেন, কোনো জাদু নেই। পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর দেশের মানুষের ওপর আস্থা। সঙ্গে থাকতে হবে দূরদর্শিতা। মণিহার কি অন্য কারো গলায় মানায়?

শনিবারের সমাবেশের ২৪ ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণের শর্ত নিয়ে সব নেতা কথা বলেছেন। শর্ত একটাই, তাঁদের দণ্ডপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। নির্দলীয় অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো আছেই। বিএনপির মিত্র দেশ পাকিস্তানের একটি সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনার উল্লেখ অপ্রাসঙ্গিক হবে না বলে মনে করি। খালেদা জিয়া থেকে অনেক বড় মাপের নেতা তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। দুর্নীতির দায়ে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত তাঁকে শুধু ক্ষমতাচ্যুতই করেননি, দলের প্রেসিডেন্ট পদ থেকেও অপসারণ করেছেন। বিচারে তাঁর কারাদণ্ড হয়েছে ১০ বছর, আর কন্যা মরিয়মের সাত বছর। দণ্ড দেওয়ার সময় তাঁরা লন্ডনে ছিলেন। নওয়াজের স্ত্রী এখন মৃত্যুশয্যায়। এ মাসের ২৫ তারিখে সেই দেশে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে সাধারণ নির্বাচন। কয়েক দিন আগে নওয়াজ ও তাঁর কন্যা লন্ডন থেকে ফিরে এসে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে জেলে গেলেন। তাঁর দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে কোনো শর্ত ছাড়াই। শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ পরিষ্কার করে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। বিশ্বের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আমার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। বিএনপি ঘরানার বড় মাপের বুদ্ধিজীবী। তিনি শনিবার বললেন, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, যদি তাদের জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্রসহ মোট পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্যারের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, সেখানে না থেমে বলতে তো পারতেন নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে। আর কোনো শর্ত নেই। এটাকে কী মামা বাড়ির আবদার বলা হয়? শুনেছি, স্যারের না পাওয়ার একটা বেদনা আছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে বলেছিলেন, ‘ড. এমাজউদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট।’ সভা পারিষদরা ঠিকমতো না শুনে ধরে নিয়ে আসেন ড. ইয়াজউদ্দিনকে। কপাল পুড়ল এমাজউদ্দীন স্যারের। তবে এটা ঠিক, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সম্ভবত ভালো করতেন। তাঁর অন্তত ব্যক্তিত্ব আছে।

সবশেষে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বলি, ‘আপনার পিতা বাংলাদেশ সৃষ্টি করে গিয়েছেন। এটি তাঁর অমর কীর্তি। আপনি পিতার আরাধ্য কিছু কাজ শেষ করছেন। ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে। সব মণিহারই সাময়িক। আপনি দেশের জন্য যা করে যাচ্ছেন, তা-ই আপনার অমর কীর্তি।’ (কালের কণ্ঠ থেকে সংগৃহীত)

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

এই বিভাগের আরো সংবাদ