পাপলু এমপি : রাজনীতির হালচাল ও কতক প্রশ্ন

  শেখর দত্ত

১০ জুলাই ২০২০, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

কি নিয়ে লিখবো তা ভাবছিলাম। এমন সময় টেলিফোন পেলাম ষাটের দশকের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুর। যিনি গতমাসের মাঝামাঝি যখন এমপি পাপলুর কুয়েত-কেলেংকারী নিয়ে মিডিয়াতে লেখালেখি হচ্ছে, তখন তিনি দেশের অপমানে, সংসদের অবমাননায় ক্ষোভে-দুঃখে জর্জরিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে টেলিফোন করে বলেছিলেন, কিছু লিখুন। কি শাস্তি হওয়া উচিত তথাকথিত এই গণপ্রতিনিধি নরাধমের? রাজনীতি কোন্ দিকে যাচ্ছে? হালচাল কি? পরিণতি কি? উত্তরণের পথ কিছু আছে কি? কেবল তিনি বলেছেন বলেই নয়, নিজ থেকেই ভাবছিলাম লিখবো। কিন্তু অন্য ইস্যু এসে এই কলংকিত-জলন্ত ইস্যুকে পিছনে হটিয়ে দিল। অন্য ইস্যু আমাকে পিছু হটাতে পারলেও সেই অপমানিত-ক্ষুব্ধ পাঠক কিন্তু ভুলে যাননি পাপলু এমপিকে। তাই আবারও উক্ত ইস্যু নিয়ে লেখার জন্য টেলিফোন করেছেন। এবার তিনি পাপলুকে গালি দিলেন না। আচ্ছা করে বকা দিলেন আমাকে।

অজস্র বাক্যবাণে জর্জরিত করে ক্ষমতাসীন দলের ‘কেউকেটা’ মনে করে আমাকে বললেন, দলকানা লোক কখনও নীতি-নৈতিকতার পক্ষে দাঁড়াতে পারে না। দলে চাই অন্ধ আনুগত্য। কান টানলে মাথা আসবে অর্থাৎ পাপলু এপিকে নিয়ে লিখলে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ আসবে বিবেচনায় নিয়েই তিনি উল্লিখিত কথাগুলো বললেন। কবিগুরুর ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে..’ কবিতাটাও স্মরণ করিয়ে দিতে ভুললেন না। অনেক কষ্টে কিছুটা শান্ত করে আমি তাকে বললাম, কই! আমাকে তো কোনোদিন আওয়ামী লীগ কোনো দিন কোনো কিছু লিখেছি বলে ভালমন্দ কিছু বলেনি। বিশাল এই দল। রয়েছে ক্ষমতায়। কত কাজ দলের। শিকড় দেশের বহু গভীরে প্রোথিত। কোথায় কে কি করলো, কে দলে ঢুকলো, কে কি বললো-লিখলো; তাতে দলের কি আসে যায়? বিশাল বটবৃক্ষে গাছের পাতা ঝরে নতুন পাতা গজায়, পরগাছা এসে জায়গা করে নেয়, ঝড়ে ডালপালা ভাঙে, মানুষ ডালপালা কাটে; গাছের কি আসে যায়। নিশ্চুপ সেই বন্ধু। সুযোগ পেয়ে আমি আরো বললাম, আওয়ামী লীগে তো ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে।

চমকে উঠলেন তিনি। তীব্র প্রতিবাদ করলেন। পড়ার টেবিলে আমি হাতের সবচেয়ে কাছে রাখি আওয়ামী লীগের দলিলপত্র। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’ খুলে ৮ পাতা বের করে তাকে পড়ে শুনালাম এই কথাগুলো: ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কতিপয় সুনির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দেওয়া হবে।’ লাইনটা পড়ে বললাম, এই অঙ্গীকার দলটি বাতিল করেনি। এমপিরা যদি ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারে, তবে দলের প্রান্তস্থিত অবস্থানে থেকে আমি পারবো না কেন? দল অধিকার দিয়েছে, দলের কেউ ‘দলকানা’ হলে সে দোষী, দলের দোষী হবে কেন? থমকে গেলেন তিনি। এই সপ্তাহে পাপলু এমপিকে নিয়ে কিছু লিখবো বললে তিনি আশ্বস্ত হলেন। তবে আমি তাকে এটা বলতে ভুল করলাম না, দল ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার আমাকে দিয়েছে সত্য, কিন্তু এই অধিকারের যথেচ্ছ ব্যবহার করবো না। কেননা দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার ব্যাপার তো আছেই। বন্ধুটি বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার সাথে দেশের প্রতি, দলের প্রতি দায়বন্ধতার বিষয়টা ভালোভাবেই বুঝেন, তাই এ নিয়ে আমাকে আর বাক্যবাণে জর্জরিত করলেন না।

পাপলু এমপির ঘটনা সংবাদ পাঠক-শ্রোতা বিশেষত সচেতন নাগরিকরা সবাই কমবেশি জানেন। সংবাদ মাধ্যম বাড়তি-কমতি যা-ই হোক, সব খবর প্রকাশ করেছে। যতটুকু মনে পড়ে, ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়েত আল কবাস ও কুয়েত টাইমস নামে ওই দেশের দুটো পত্রিকা মানবপাচার ও ভিসা কেলেংকারিতে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করে পাপলু এমপিকে অভিযুক্ত করে। বিদেশে সংসদ সদস্যের অর্থ কেলেংকারি! করোনা-আতংকের মধ্যেও অপমানিত বোধ করায় জনগণ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। ১৬ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদেরকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফেব্রুয়ারিতেই দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক পাপলু এমপির অর্থ কেলেংকারি নিয়ে তদন্ত ফাইল খুলে। বিষয়টা এতটুকু অগ্রসর হওয়ার পর থেকে ৫ জুন কুয়েতে পাপলু এমপি গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল, সংসদ বা দুদকের তেমন কোনো নড়চড় প্রকাশ্যে দৃষ্টিগোচর হয়নি।

প্রসঙ্গত বলতেই হয় অন্য সব ঘুষ-দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাত-কেলেংকারির সাথে পাপলু এমপি ঘটনার ‘আগরতলা-চকিরতলা’ (ছোটবেলার কথা)-র মতো পার্থক্য রয়েছে। একটি দেশের প্রতিষ্ঠান হিসাবে সংসদ হচ্ছে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ- এই তিন অঙ্গের হৃৎপিণ্ড হচ্ছে সংসদ, রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনার মান, রাজনৈতিক দলগুলো ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ-পথের বাধা- সীমাবদ্ধতা, বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে ‘জোর যার মুল্লুক তার নীতি’র জয়জয়কার, সর্বোপরি সিস্টেমের দুর্বলতা প্রভৃতি কারণে সংসদ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে এবং থাকতেই পারে; সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলবে, সময় নিয়ে তা দূরীকরণের প্রচেষ্টাও চলবে; এটা বিধিলিপি বিচারে ঠিক হয়তো আছে; কিন্তু একজন সংসদ সদস্য তো সংসদের অবমাননা করতে পারেন না!

তাই ফেব্রুয়ারি-জুন সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে প্রশ্ন হচ্ছে, এই ৩ মাসে পাপলু এমপির বিষয়ে দুদক তদন্ত করেছে কি না, করলে ফলাফল স্বচ্ছতা-জবাবহিতার স্বার্থে জনগণকে জানানোর প্রয়োজন কি ছিল না? সংসদ অবমাননায় বিষয় যেহেতু জড়িত, সংসদ কি সেখানে কোনো তদন্ত করেছে, তদন্ত করার কি কোনো পদ্ধতি সেখানে আছে? সর্বোপরি সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বললেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টা ঠিক আছে। কিন্তু দলের কি আইন নেই? গঠনতন্ত্র তো আছে। সে অনুযায়ী কি পাপলু এমপি সংক্রান্ত ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে দলে অভ্যন্তরীণ কোনো তদন্ত হয়েছে? শেষ বিচারে আওয়ামী লীগ দল তো জনগণের, নেতা-কর্মীদের? গঠনতন্ত্র রক্ষা বা দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হলে দলগত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়া কি হবে না? দলকে, জনগণকে কি জানানো হবে না?

সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে, দেশে এমন এক রাজনৈতিক কালচার দাঁড়িয়ে গেছে, বিরোধী দলে থাকলে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বা মামলা হলে বলা হবে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মামলা দিয়েছে আর ক্ষমতায় থাকলে সরকার ব্যবস্থা নিবে বলা হবে। প্রশ্ন হলো ক্ষমতায় দল থাকলে দলের কারো বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান কতোটা ব্যবস্থা নিতে পারে? তাই মনেহয় জিরো টালারেন্সটা প্রথমে প্রযোজ্য করতে হবে দলের ক্ষেত্রে। তবেই কেবল সরকার জিরো টলারেন্সে যেতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অতীতে ফিরে তাকানো ছাড়া বিকল্প নেই। পঞ্চাশের দশকে আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্রে ছিল, মন্ত্রী হলে দলের পদাধিকারী থাকা যাবে না। তরুণ নেতা শেখ মুজিব মন্ত্রীপদ থেকে ইস্তেফা দিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক পদটি বেছে নিয়েছিলেন। আবার দলে বঙ্গবন্ধু কথিত ‘চাটার দল’-এর উৎপাতে ১৯৭৪ সালে এসে তিনি সরকার থেকে দলকে আলাদা করতে দলীয় সভাপতি পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। প্রশ্নটা হলো অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কতটুকু কিভাবে প্রয়োগ করা যাবে, এটা দলের হাইকমান্ডকেই ঠিক করতে হবে।

ফেব্রুয়ারিতে পাপলু এমপির ঘটনা জানার পর তদন্ত বিষয়ে বিদেশের দিকে চেয়ে না থেকে দেশেই তদন্ত বেশ অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কেননা পাপলু দম্পতি দুইজনের সংসদ সদস্য হওয়ার গল্প-কাহিনী নির্বাচনের আগে থেকেই প্রচারিত ছিল। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ রয়েছে এই দম্পতির কাছে। জুলিয়াস সিজারের এলাম, দেখলাম, জয় করার মতো। 

১৯৯২ সালে যে-ব্যক্তিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাচাতো ভাইয়ের হাত ধরে সাইপ্রাস যায়, সেই লোকটি মাত্র দুই তিন দশকের মধ্যে কিভাবে ২০১৬ সালে কুয়েত থেকে দেশে এসে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের হাত ধরে ‘ধনকুবের দানবীর’ এবং আওয়ামী লীগার হিসাবে সমাজে পরিচিতি পেয়ে যায়। একটি ব্যাংকের পরিচালক, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যাংক সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান হয়ে যায় কিভাবে? জামায়াতের দিগন্ত টিভি, নয়া দিগন্ত, দিগন্ত মিডিয়ার নাকি পরিচালক রয়েছেন তিনি। স্ত্রী সেলিনা তো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা এনে সিআইপিও হয়ে গেছেন।

হায় রে আমাদের সমাজ অর্থনীতি, রাজনীতি! অর্থ থাকলে সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা পেতে এক মুহূর্তও লাগে না! এটা রাজনীতির অতীত ঐতিহ্য তিল তিলে শ্রম ও মেধা দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ঠিক বিপরীত! এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলা যাবে বা হবে কি না জানি না, তবে বঙ্গবন্ধুর দলে এমন হওয়াটা একেবারেই দুর্ভাগ্যজনক। ক্যান্টনম্যন্টে গড়া দলের সাথে ‘নর্দমায় গিয়ে লড়তে হবে’ কথাটা আমি বলেছি, এখন এই ঘটনা দিয়ে এটা কি বলা যাবে ক্রমে নর্দমার আরো গভীরে যাচ্ছি? ভাগ্যি ভাল, ‘কীর্তিমান দানবীর’ দম্পতি পাপলু ও তার স্ত্রী সেলিনা যথাক্রমে লক্ষীপুর দুই ও কুমিল্লা এক আসনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী হওয়ার আবেদন দিয়েও মনোনয়ন পায়নি। ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতীক না দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য কাজ করেছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো লোভনীয় পদটি যখন মহাজোট ও জাতীয় পার্টির বহুল আলোচিত প্রার্থী সহজবোধ্য কারণে ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপন করে, তখন স্থানীয় দলের সিদ্ধান্ত ভেঙে যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিটির পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় কিভাবে, কোন্ কারণে? সর্বোপরি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রার্থী পরিচিতির চিঠি পাপলু সাহেব পান কি করে? সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত চিঠি তো ছিল না বলেই জানা যায়। তাঁর অজানায় এসব হয়েছে বলেই তো মনেহয়। অজানা বলা হলো এ কারণে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সহ-সম্পাদকদের চিঠি, যাতে শত্রুদলের লোকও ছিল, তাদের কাছে চিঠি তো গিয়েছিল সভাপতির অজান্তেই। সর্বোপরি স্ত্রী সেলিনা সংরক্ষিত কোটায় এমপি হলেন কিভাবে? সক্রিয়, পরিশ্রমী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পদবঞ্চিত হয়ে ক্ষুব্ধ থাকেন তো এসব কারণেই। বলাই বাহুল্য, দেশ-জাতি-জনগণের উন্নতি-কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিরলস কাজ, ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অধিকার কিন্তু এমনসব ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নেই। কেননা দুধের মধ্যে একটু চানা পড়লেই ঘটে বিপত্তি।

পাপলু এমপির কুয়েতের প্রসিকিউটারের কাছে কিছু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী, তাকে রিমান্ড থেকে জেলে নেওয়া, সেখানকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেখানে তার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্ণেল ও জনশক্তি বিষয়ক কর্মকর্তা কয়েকজন গ্রেফতার হওয়া প্রভৃতির পর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, কুয়েত সরকার জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ওই দেশের দিকে চেয়ে কি আমরা বসে থাকবো? আশার কথা, দুদক ইতোমধ্যে পাপলু দম্পতি, তার কন্যা ও শালীর সব ব্যক্তিগত ফাইল তলব করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালক পদ স্থগিত করেছে। সবশেষে বলতে হয়, দুদকে তদন্ত কাজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতির ভিত্তিতে অগ্রসর হোক, দল হিসাবে আওয়ামী লীগ ঘটনার তদন্ত করে পাপলুসহ যে বা যারা অনিয়ম, অনৈতিক ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক- এটাই আজকের একান্ত কামনা। জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে এমন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া ভিন্ন বিকল্প নেই ।

লেখক : কলাম লেখক ও সাংবাদিক

এই বিভাগের আরো সংবাদ